| ৬ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

মাথার ওপর ঝুলছে ‘মৃত্যুডিল’, কাপ্তাইয়ে ষাট বছরের ১৩২ কেভি লাইন পরিণত হয়েছে মরণ ফাঁদে

মাথার ওপর ঝুলছে ‘মৃত্যুডিল’, কাপ্তাইয়ে ষাট বছরের ১৩২ কেভি লাইন পরিণত হয়েছে মরণ ফাঁদে

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে ১৯৬৩ সালে স্থাপিত জাতীয় গ্রিডের ১৩২ কেভি (১ লাখ ৩২ হাজার ভোল্ট) উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সঞ্চালন লাইনটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উপজেলার শীলছড়ি ওয়াপদা এলাকা সংলগ্ন এই লাইনের ৯২৩ ও ৯২৪ নম্বর পিলারের তার হেলে পড়ে মাত্র ১৫ থেকে ২০ ফুট উঁচুতে ঝুলে রয়েছে। এর নিচে ও আশপাশে চরম আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করছেন অর্ধশত পরিবার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ষাটের দশকে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর পর থেকেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য এই সঞ্চালন লাইনটি স্থাপন করা হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সঞ্চালন লাইনটি নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট উচ্চতায় ছিল। কিন্তু দীর্ঘ ৬ দশকেরও বেশি সময় ধরে চালুর হতে পুরাতন বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনটিতে বড় ধরনের কোনো সংস্কার কাজ করা হয়নি। কালের বিবর্তনে পিলারের বেহাল দশা এবং তারের ভার বৃদ্ধি তথা বয়সের ভারে হাই ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক তার গুলো নিচের দিকে নেমে এসেছে। অথচ এই উচ্চ ভোল্টেজের তারগুলোর ঠিক নিচ দিয়েই প্রতিদিন বহু সাধারণ মানুষ চলাচল করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের পাহাড়ের কৃষিকাজে যাতায়াত করতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. নাসির উদ্দীন জানান, সামান্য ঝড়-বৃষ্টি হলেই গাছের ডালপালা বা পাতা এই তারের ওপর পড়ে বিকট শব্দে শর্টসার্কিট হয়। কয়েক বছর আগে এই এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বেলাল নামের এক ব্যক্তির প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে হাই ভোল্টের সঞ্চালন লাইনের তারগুলো দ্রুত আরও উঁচুতে তুলে নিরাপদ দূরত্বে নেওয়ার জোর দাবি জানান তিনি। ​

সরেজমিনে শীলছড়ি ওয়াপদা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জনবসতিপূর্ণ ও চলাচলের রাস্তার ওপর দিয়ে তারগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় ঝুলে আছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মৌখিকভাবে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট স্থানীয় দপ্তরে বিষয়টি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জিএমডি রাঙামাটি, পাওয়ার গ্রিডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুবীর কান্তি নাথের সাথে রবিবার আলাপকালে তিনি জানান, প্রতিষ্ঠাকালীন সময় ওইসব এলাকায় কোন বসতি ছিলনা, তাই টাওয়ার গুলোও অনেকটা দূরত্বে স্থাপিত হয়। ফলে দীর্ঘ ছয় দশকের পুরাতন এই লাইনটি দূরত্বের কারণে কিছুটা নেমে গেছে। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কিছুদিন আগে আমরা ওই এলাকায় সরেজমিন গিয়ে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করে এসেছি। এবং এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও মন্ত্রনালয়ে জানানো হয়েছে। কাজটি করতে একটু সময় লাগবে। কারণ, এসব কাজ করার পূর্বে কিছু টেকনিক্যাল কাজ যাচাই বাছাই করে আর্ন্তজাতিক টেন্ডার আহবান করা হবে। টেন্ডার পাওয়ার পর কাজ শুরু হবে। সঞ্চালন লাইনটি  সিদ্ধিরগঞ্জ পর্যন্ত গিয়েছে। ইতিমধ্যে হাটহাজারী থেকে সিদ্ধিরগঞ্জে সঞ্চালন লাইনটিও আর্ন্তজাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে সংস্কার কাজ করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কোনো বড় ধরনের প্রাণহানি বা মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটার আগেই জাতীয় পাওয়ার গ্রীড কর্তৃপক্ষের উচিত অবিলম্বে কাপ্তাইয়ের শীলছড়ি এলাকার ৯২৩ ও ৯২৪ নম্বর পিলারসহ ঝুঁকিপূর্ণ অংশটি সংস্কার করে সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিমুক্ত করা।

থানচিতে ত্রিপুরা সম্প্রদায় থেকে নতুন যাজক হলেন ফ্রান্সিস সাধুমনি

মাথার ওপর ঝুলছে ‘মৃত্যুডিল’, কাপ্তাইয়ে ষাট বছরের ১৩২ কেভি লাইন পরিণত হয়েছে মরণ ফাঁদে

 

চিংথোয়াই অং মার্মা, থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের থানচিতে ত্রিপুরা সম্প্রদায় থেকে নতুন যাজক হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছেন ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে থানচি উপজেলার বলিপাড়া কুমারী মারীয়ার ধর্মপল্লীতে ডিকন ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরার যাজকীয় অভিষেক ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চট্টগ্রাম ধর্মপ্রদেশের বিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদার তাঁকে যাজক হিসেবে অভিষিক্ত করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁরা জানান, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এ অভিষেক অনুষ্ঠানকে ঘিরে স্থানীয় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সঞ্চার হয়। বিশেষ করে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের একজন সদস্য হিসেবে ফ্রান্সিস সাধুমনির যাজক লাভকে সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, যাজকীয় অভিষেক খ্রিষ্টীয় ধর্মীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। এর মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মীয় সেবাকাজের গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেন। ধর্মীয় শিক্ষা প্রচার, উপাসনা পরিচালনা, মানুষের আধ্যাত্মিক বিকাশ এবং মানবকল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার অঙ্গীকার এবং বর্তমানে থানচি থেকে আরও দুজন যাজক হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। তাঁদের এই অগ্রযাত্রা দুর্গম পার্বত্য জনপদে স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় নেতৃত্ব বিকাশের সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, ফ্রান্সিস সাধুমনির এই অভিষেক তাঁর দীর্ঘদিনের ধর্মীয় সাধনা, অধ্যবসায় ও আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি। যাজক হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি ধর্মীয় সেবার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণ, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর যাজকের পথচলার সফলতা কামনা করে প্রার্থনাও করা হয়েছে।

স্থানীয় সংশ্লিষ্টদের নতুন যাজক তাঁকে ঘিরে একটাই প্রত্যাশা— খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের কাছে ফ্রান্সিস সাধুমনির যাজকত্ব লাভ কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং আনন্দ ও গর্বের উপলক্ষ। তাঁর নতুন দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধ, মানবিকতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতির চর্চা আরও বিস্তৃত হবে। ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরার যাজকীয় অভিষেক তাই থানচির ধর্মীয় ও সামাজিক পরিমণ্ডলে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অন্যদিকে খ্রিষ্টভক্ত রাইবাহাদুর ত্রিপুরা, বেনেডিক্ট ত্রিপুরা ও মালিরাম ত্রিপুরাসহ অনেকেই বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক জনপদে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্য রয়েছে। এ অঞ্চলের ত্রিপুরা সম্প্রদায় থেকেও একজনের যাজকীয় দায়িত্বে অভিষিক্ত হওয়া ধর্মীয় নেতৃত্বের বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এটি নতুন প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষা ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডে আগ্রহ সৃষ্টিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠান শেষে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকারে চট্টগ্রাম মহাধর্মপ্রদেশের আর্চবিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদার, সিএসসি বলেন, যাজকীয় অভিষেক ঈশ্বরের সেবায় আত্মনিবেদনের এক মহৎ অঙ্গীকার। থানচির মতো দুর্গম জনপদ থেকে স্থানীয় যুবকের যাজক হিসেবে অভিষিক্ত হওয়া পুরো অঞ্চলের জন্য গৌরব ও আশীর্বাদের বিষয়। মাতৃভাষা ভিত্তিক ধর্মীয় চর্চার প্রসার ঘটলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক চেতনা আরও সুদৃঢ় হবে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন ধর্মপল্লী থেকে আগত যাজক ও সিস্টার, কারিতাসের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর শত শত নারী-পুরুষ ও খ্রিষ্টভক্ত উপস্থিত ছিলেন।

কাপ্তাইয়ের রায় সাহেব বৌদ্ধ বিহারে উদযাপিত হলো কঠিন চীবর দান ও সংঘদান উৎসব অনুষ্ঠিত

মাথার ওপর ঝুলছে ‘মৃত্যুডিল’, কাপ্তাইয়ে ষাট বছরের ১৩২ কেভি লাইন পরিণত হয়েছে মরণ ফাঁদে

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

​রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী রায় সাহেব বৌদ্ধ বিহারে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দান উৎসব সম্পন্ন হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সর্বশ্রেষ্ঠ এই দানোৎসবকে কেন্দ্র করে দূরদূরান্ত থেকে আসা শত শত পুণ্যার্থীর সমাগমে পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ​

শুক্রবার (০৬ নভেম্বর ) দিনব্যাপী এই ধর্মীয় উৎসবের আয়োজন করে রায় সাহেব বৌদ্ধ বিহারের সকল দায়ক-দায়িকাবৃন্দ।​উৎসবের প্রথম পর্বে সকাল থেকেই নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সকালের কর্মসূচির মধ্যে ছিল—​বিশ্বশান্তি কামনা ও বুদ্ধ বন্দনা​, জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, ​পুজনীয় ভিক্ষু সংঘের আগমন, ​প্রব্রজ্যা-উপসম্পদা গ্রহণ ও ভিক্ষু সংঘের পিণ্ডদান।সকালে অনুষ্ঠানের শুরুতে ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন, রায় সাহেব বৌদ্ধ বিহারের উপাসক মংমেচিং পুরাতন কার্বারি। এরপর ভগবান বুদ্ধের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য প্রদান এবং ভিক্ষু সংঘকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন পুণ্যার্থীরা।​

বেলা ৩টায় দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দান, মহতি ধর্মসভা এবং ভিক্ষু সংঘের আসন গ্রহণের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় পর্বের কার্যক্রম শুরু হয়। রায় সাহেব বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ পাইন্দিতা ভান্তের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ডংনালা শাক্যনন্দ বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত সুরিয়া মহাথেরো। প্রধান দায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য উথোয়াইমং মারমা।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রায় সাহেব বৌদ্ধ বিহারের কমিটি  সাধারণ সম্পাদক থোয়াইসাপ্রু চৌধুরী (রুবেল)। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে রাইখালী ৩২১ নম্বর মৌজার হেডম্যান উসুয়ে সুয়ে চৌধুরীসহ তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত শত শত গণ্যমান্য দায়ক-দায়িকাবৃন্দ ও পুণ্যার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। দ্বিতীয় পর্বে পঞ্চশীল গ্রহণ, ভিক্ষুসংঘের মৈত্রী সূত্রপাত, ভিক্ষুসংঘের ধর্মদেশনা এবং কঠিন চীবর দান উৎসর্গ করা হয়।

দিনভর নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী কঠিন চীবর কল্পতরু সহকারে প্রদক্ষিণ করা হয়। এ সময় পুণ্যার্থীদের ‘সাধু সাধু সাধু’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো বিহার প্রাঙ্গণ। ​এবারের উৎসবে তিন পার্বত্য জেলার সর্বোচ্চ বর্ষাবাস বা ওয়া অধিষ্ঠানকারী সর্বজনপূজ্য স্বর্গীয় উপঞা কাওয়ি মহাথেরোর স্মরণে বিশেষ সংঘদান ও প্রব্রজ্যা-উপসম্পদা গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

দিনব্যাপী এই পূণ্যানুষ্ঠানের সার্বিক কর্মসূচিতে উপসম্পদা, পিণ্ডদান, হাজার বাতি দান, আকাশ প্রদীপ পূজা এবং নানাবিধ দান উৎসর্গ সম্পন্ন করা হয়। পরিশেষে প্রদীপ পূজা, আকাশ বাতি উত্তোলন ও সমবেত প্রার্থনার মাধ্যমে বিশ্বশান্তি কামনায় এই মহতি উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

বিলাইছড়ি উপজেলা কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারে কঠিন চীবর দান সম্পন্ন

মাথার ওপর ঝুলছে ‘মৃত্যুডিল’, কাপ্তাইয়ে ষাট বছরের ১৩২ কেভি লাইন পরিণত হয়েছে মরণ ফাঁদে

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার দীঘলছড়িস্থ উপজেলা কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে কঠিন চীবর দান সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকে বিহার পরিচালনা কমিটি ও দায়ক-দায়িকাদের আয়োজনে দিনব্যাপী এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে পিণ্ডদান, পুষ্পমাল্য অর্পণ, অতিথি আপ্যায়ন, বুদ্ধমূর্তি দান, অষ্টপরিষ্কার দান, উদ্বোধনী পর্ব, ধর্মীয় সংগীত পরিবেশন, কঠিন চীবর দান, ধর্মসভা, ফানুস উত্তোলন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন ছিল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নারী সদস্য নন্দিতা দাশ। তিনি উপস্থিত সবার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তাঁকে বিহার পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রদান করা চীবর ভিক্ষুসংঘের উদ্দেশ্যে দান করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারের জন্য বরাদ্দকৃত অনুদান ভিক্ষুসংঘের কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় তিনি বিহারে ওয়াশ ব্লক নির্মাণ প্রতিশ্রুতি ও বিহারের চারপাশে সীমানাপ্রাচীর এবং দেশনাঘর নির্মাণের দাবি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

 

দিনব্যাপী ধর্মসভায় প্রধান ধর্মালোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটির রাঙ্গুনিয়া সোনাইছড়ি সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত উত্তমানন্দ মহাথের (এম.এ.)। বিশেষ ধর্মালোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাজার সার্বজ

নীন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ দেবতিষ্য ভিক্ষু। এ সময় ভিক্ষুসংঘের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বিলাইছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি আর্যলঙ্কার মহাথের, সাধারণ সম্পাদক বিপুল জ্যোতি মহাথের, উ. তেজবর্ণ ভিক্ষু, শাক্যজ্যোতি ভিক্ষুসহ অন্যান্য ভিক্ষুসংঘ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি দেওয়ান, রাঙামাটি জেলা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়তোষ দেওয়ান, রাঙামাটি ২৯৯ নম্বর আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি ধনমনি চাকমা, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক জয়সিন্ধু চাকমা, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শান্তি রায় চাকমা, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা, বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি অরুণ বিকাশ  চাকমা ও সাধারণ সম্পাদক অমৃতসেন তঞ্চঙ্গ্যা।

দিনব্যাপী এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শত শত পূণ্যার্থী, দায়ক-দায়িকা ও স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

×