রাষ্ট্রের কাছে কেউ ক্ষুদ্র নয়, ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান: প্রতিমন্ত্রী
চিংথোয়াই অং মার্মা,
থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
রাষ্ট্রের কাছে কেউ ক্ষুদ্র নয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস। পারস্পরিক সম্প্রীতি, ঐক্য ও সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বান্দরবানের থানচিতে সরকারি সফরকালে হাইল্যান্ডার পার্কে হলরুমে আয়োজিত স্থানীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের মানুষের সম্মিলিত আবাসভূমি। এ দেশের প্রতিটি মানুষের সমান মর্যাদা রয়েছে। কোনো জনগোষ্ঠীকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের কাছে সবাই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই জাতি, ধর্ম ও সম্প্রদায়ভেদে বিভাজন তৈরি না করে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ঐক্যের বিকল্প নেই। সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখতে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সৌহার্দ্য জোরদার করা প্রয়োজন।
বম জনগোষ্ঠীর প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বম মানে ঐক্য। এই ঐক্যের চেতনাকে ধারণ করে সবাইকে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং দেশের অগ্রযাত্রায় অবদান রাখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান। থানচি উপজেলার মতো পাহাড়ি ও বৈচিত্র্যময় জনপদে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ভাষা, রীতিনীতি ও জীবনধারা দেশের সামগ্রিক সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা গুরুত্ব পায়। এ ধরনের আয়োজন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, পার্বত্যমন্ত্রী স্থানীয় প্রতিনিধি মংশৈম্রাই মারমা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল, থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কানন সরকার, সাবেক উপজেলা বিএনপি সভাপতি খামলাই ম্রো: প্রমূখ।
এছাড়াও স্থানীয় সাংবাদিক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

| ২৪ অক্টোবর ২০২৬


















