| ১১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

বাঙ্গালহালিয়া আর্মি ক্যাম্পের উদ্যোগে কুটিরশিল্প প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন পাহাড়ি-বাঙালি ২০ নারী

বাঙ্গালহালিয়া আর্মি ক্যাম্পের উদ্যোগে কুটিরশিল্প প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন পাহাড়ি-বাঙালি ২০ নারী

 

রাজস্থলী (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়ায় পাহাড়ি ও বাঙালি নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে দুই সপ্তাহব্যাপী কুটিরশিল্প প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের সৃজনশীল দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ৯টায় বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে ৩৮ বীর (কাপ্তাই জোন)-এর অধীন বাঙ্গালহালিয়া আর্মি ক্যাম্পের উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাঙ্গালহালিয়া আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন মুর্তূজা রাসেল সাইফ।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় মোট ২০ জন পাহাড়ি ও বাঙালি নারী অংশগ্রহণ করছেন। দুই সপ্তাহব্যাপী এ প্রশিক্ষণে তাঁদের কুটিরশিল্পবিষয়ক বিভিন্ন কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে আয় করার উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আদোমং মারমা, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা এবং প্রশিক্ষক মিলন চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

কুটিরশিল্প গ্রামীণ নারীদের জন্য আয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীরা নতুন কাজ শেখার পাশাপাশি নিজেদের তৈরি পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করার সুযোগ সম্পর্কে ধারণা পাবেন। এর ফলে ভবিষ্যতে ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে তোলা এবং পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধির পথ তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকার নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ তাঁদের দক্ষতা বিকাশ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
বক্তব্য

বাঙ্গালহালিয়া ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন মুর্তূজা রাসেল সাইফ বলেন, নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুটিরশিল্পের মতো সৃজনশীল কাজের প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে নারীরা নিজেদের দক্ষ করে তুলতে পারবেন। পাশাপাশি অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আয়মুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

ইউপি চেয়ারম্যান আদোমং মারমা বলেন, নারীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি ও স্বাবলম্বী করে তোলার ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রশিক্ষণ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয় নারীরা প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নিজেদের পরিবারের আর্থিক উন্নয়নে অবদান রাখবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দুই সপ্তাহব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা স্থানীয় নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পাশাপাশি পাহাড়ি ও বাঙালি নারীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহযোগিতার বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে।

৯ মাসে ৩৬টি মেডিকেল ক্যাম্প, ৬৩৫ জনকে চিকিৎসাসেবা; শিক্ষা, উদ্ধার ও সম্প্রীতি উন্নয়নেও নানা উদ্যোগ

বাঙ্গালহালিয়া আর্মি ক্যাম্পের উদ্যোগে কুটিরশিল্প প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন পাহাড়ি-বাঙালি ২০ নারী

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চোরাচালান ও অপরাধ দমন, অপহৃত ব্যক্তিদের উদ্ধার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)। নিরাপত্তা কার্যক্রমের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা সহায়তা, খাদ্য ও ত্রাণ বিতরণ, পর্যটকদের উদ্ধার এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে ব্যাটালিয়নটি।

রোববার (১১ অক্টোবর) ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানায় বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষ। প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক ও জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন, বিপিএমএস। এ সময় ব্যাটালিয়নের অন্যান্য কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, চোরাচালান ও অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণে বিজিবি নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং পারস্পরিক আস্থা ও সম্প্রীতি জোরদারেও বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

অভিযান ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে তৎপরতা বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসের বেশি সময়ে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অপরাধ দমন, অপহৃত ব্যক্তিদের উদ্ধার, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ এবং চোরাচালান প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

গত ১৩ থেকে ১৫ এপ্রিল রেমাক্রী এলাকায় বৈসাবি ও সাংগ্রাই উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ২০ মে আরাকানে যোগদানের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পরিকল্পনা এবং অপহরণকারী চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দুই পাহাড়ি যুবককে আটকের তথ্যও ব্রিফিংয়ে তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া ২২ মে অপহৃত মো. আমু হোসেনকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণকারী চক্রের কাছ থেকে মুক্তিপণের তিন লাখ টাকা এবং অপহরণে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয় বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। ২৪ মে থানচিতে এক ত্রিপুরা ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে বিজিবি। ৮ জুন একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন ১৩ জনকে আটক এবং ১০ জুন দুই আসামিসহ ১৯টি গ্রেনেড ও ৩৬ রাউন্ড গোলাবারুদ জব্দের তথ্যও প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।

পরবর্তী সময়ে ছিনতাই হওয়া গাড়ি উদ্ধার, মিয়ানমারের নাগরিকদের আটক, অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনার কথাও তুলে ধরা হয়। চাঁদাবাজি প্রতিরোধে নজরদারি পাহাড়ি অঞ্চলে চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা প্রতিরোধে নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। কর্তৃপক্ষের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে থানচি উপজেলায় বিভিন্ন উৎস থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রায় ২৭ কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের তথ্য পাওয়া যায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে প্রায় ১৬ কোটি ৯১ লাখ ৩৬ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করা হয়। নিরাপত্তা অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারির ফলে চাঁদা আদায়ের পরিমাণ কমেছে বলে উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষ জানায়, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। দুর্গম পাহাড়ে পর্যটক উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা নিরাপত্তা কার্যক্রমের পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিপদে পড়া পর্যটক ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বলিপাড়া ৩৮ ব্যাটালিয়ন।

গত ৪ জুলাই আমিয়াখুম ভ্রমণে গিয়ে প্রতিকূল আবহাওয়ায় আটকা পড়া ৪৪ জন পর্যটককে উদ্ধার করে নিরাপদে থানচি সদরে পৌঁছে দেওয়া হয়। একইভাবে ২৪ জুলাই বড়পাথর এলাকায় সাঙ্গু নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় পর্যটক, মাঝি ও গাইডসহ ৩৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয় বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। এ ছাড়া ১৬ সেপ্টেম্বর আমুনামুখ এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে সৃষ্ট আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা হয়। ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে আসা পর্যটকদের একটি দল থানচিতে ভ্রমণে গেলে একজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বিজিবি সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

সর্বশেষ ৫ অক্টোবর ডিম পাহাড় থেকে তিন্দু মুখ যাওয়ার পথে পর্যটকবাহী একটি চাঁদের গাড়ি খাদে পড়ে দুইজন নিহত ও পাঁচজন আহত হন। এ ঘটনায় বিজিবি সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

৩৬টি মেডিকেল ক্যাম্পে ৬৩৫ জনকে চিকিৎসাসেবা
দুর্গম এলাকার সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সময়ে মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করেছে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত ৩৬টি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে ৬৩৫ জন অসহায় ও দুস্থ রোগীকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জটিল রোগে আক্রান্ত ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং অসহায় রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করাকে ব্যাটালিয়নের মানবিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

শিক্ষা সহায়তা ও শীতবস্ত্র বিতরণ শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহায়তার অংশ হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছ

কাপ্তাইয়ে মাদকমুক্ত তারুণ্য গড়তে ক্রীড়া সামগ্রী ও জার্সি উপহার দিলেন সমাজসেবক অজিত কুমার তঞ্চঙ্গ্যা

বাঙ্গালহালিয়া আর্মি ক্যাম্পের উদ্যোগে কুটিরশিল্প প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন পাহাড়ি-বাঙালি ২০ নারী

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

“মাদককে না বলুন, খেলাধুলাকে ভালোবাসুন”—এই স্লোগানকে হৃদয়ে ধারণ করে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে যুবসমাজকে অবক্ষয় ও নেশার করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে এক ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পড়ালেখার পাশাপাশি তরুণদের প্রাণবন্ত রাখতে নিজস্ব অর্থায়নে স্থানীয় মহাজন পাড়া ক্রীড়া সংঘের খেলোয়াড়দের হাতে এক সেট নতুন জার্সি ও ফুটবল তুলে দিয়েছেন বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা কল্যাণ সংস্থা কাপ্তাই অঞ্চল কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ব্যক্তিত্ব সমাজসেবক অজিত কুমার তঞ্চঙ্গ্যা।

​গত ৯ অক্টোবর কাপ্তাই উপজেলার ৫ নম্বর ওয়াগ্গা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দেবতাছড়ি এলাকার ‘মহাজন পাড়া ক্রীড়া সংঘ’-এর সভাপতি ঋত্বিক তঞ্চঙ্গ্যার একটি আবেদন পত্র  দিয়ে  তাদের একটি তরুণ প্রতিনিধি দলদেরকে পাঠিয়ে তাদের প্রতিনিধিরা ছুটে যান স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা কল্যাণ সংস্থা কাপ্তাই অঞ্চল কমিটির সভাপতি অজিত কুমার তঞ্চঙ্গ্যার বাড়িতে। খেলাধুলার প্রতি তরতাজা প্রাণগুলোর এই আকুতি এবং একটি আবেদনপত্র গভীরভাবে নাড়া দেয় এই সমাজসেবককে। তাৎক্ষণিকভাবে এলাকার যুবসমাজ ও ক্রীড়াঙ্গনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাদের সঙ্গে এক আন্তরিক বৈঠকে বসেন তিনি।

আলোর পথে হাঁটার এক বিকেল ​কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাসী এই মানুষটির উদ্যোগে বিলম্ব হয়নি একটুও। আবেদনের মাত্র একদিন পর, গত ১০ অক্টোবর বিকেল সাড়ে চারটায় ওয়াগ্গা ইউনিয়নের সাক্রাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক ঘরোয়া ও আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মহাজন পাড়া ক্রীড়া সংঘের তরুণ খেলোয়াড়দের হাতে যখন নতুন জার্সি ও ফুটবল তুলে দেওয়া হয়, তখন তাদের চোখে-মুখে ছিল উচ্ছ্বাস আর সামনে এগিয়ে যাওয়ার এক নতুন স্বপ্ন।

তরুণ প্রজন্মকে আলোর পথে টিকিয়ে রাখার এই ব্রত নিয়ে অজিত কুমার তঞ্চঙ্গ্যা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমি আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকেই এই জার্সি ও ফুটবল উপহার দিয়েছি। এর মূল উদ্দেশ্য একটাই—আমাদের এলাকার ছেলে-মেয়েরা যেন কোনোভাবেই মাদকের অন্ধকার পথে পা না বাড়ায়। পড়াশোনার পাশাপাশি তারা যেন নিয়মিত মাঠে ছোটাছুটি করে, সুস্থ দেহ ও নির্মল মন নিয়ে আগামীদিনের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে।”

​স্থানীয়দের মনে আশার আলো খেলাধুলাকে ভালোবেসে অজিত কুমার তঞ্চঙ্গ্যার এই সময়োপযোগী ও উদার পদক্ষেপ কাপ্তাইয়ের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। শুধু এই একবারই নয়, এর আগেও তিনি বিভিন্ন এলাকার উদীয়মান খেলোয়াড়দের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী ও জার্সি উপহার দিয়ে এসেছেন এবং তাঁর এই মহৎ ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় প্রবীণ ও সচেতন মহলের মতে, এমন ছোট ছোট উদ্যোগই পারে একটি সমাজকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে ফিরিয়ে আনতে। এই জার্সি আর ফুটবল কেবল কিছু উপকরণের নাম নয়; এটি একখণ্ড আশার আলো, যা কাপ্তাইয়ের যুবসমাজকে অপরাধ ও মাদকের ভয়াল থাবা থেকে দূরে রেখে সবুজ মাঠে ফিরিয়ে আনার এক অনন্য প্রেরণা।

সড়ক অবরোধের মধ্যেও থেমে নেই সেনাবাহিনীর মানবিক উদ্যোক

বাঙ্গালহালিয়া আর্মি ক্যাম্পের উদ্যোগে কুটিরশিল্প প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন পাহাড়ি-বাঙালি ২০ নারী

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার সাজেক সড়কে অবরোধের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় চরম প্রতিকূলতা তৈরি হলেও থেমে নেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মানবিক কার্যক্রম।

রবিবার ১১ অক্টোবর দীঘিনালা জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল মো: আল আমিন পিএসসি নির্দেশনায় আরএমও তত্ত্বাবধানে উপজেলার জোড়া ব্রিজ এলাকায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ বিতরণ করা হয়েছে। এতে প্রায় চার শতাধিক অসহায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মাঝে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ বিতরণ করা হয়।

ঔষধ নিতে আশা এক ব্যক্তি বলেন, অবরোধের কারণে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় পাহাড়ের দুর্গম এলাকার মানুষ যখন চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে ভোগান্তিতে পড়েছিলেন, ঠিক তখনই সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ আমাদের মাঝে বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। সেনাবাহিনীর এমন মানবিক উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানায়।

এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দীঘিনালা জোনের আরএমও বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর এ ধরণের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান।

×