| ১০ জুন ২০২৬
শিরোনাম:

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার :

দুপুর ১২:৩০ ঘটিকায় সময় দামপাড়াস্থ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সিএমপির মে-২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিএমপি কমিশনার হাসান মোঃ শওকত আলী।

সভায় সিএমপি কমিশনার নগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকল থানা ও মহানগর গোয়েন্দা বিভাগকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সকল উপ-পুলিশ কমিশনারকে তাদের আওতাধীন এলাকায় মাদক, চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং কার্যক্রমসহ অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।

এছাড়া, রুজুকৃত হত্যা মামলাসহ অন্যান্য মামলা ও অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে জনগণের প্রতি কার্যকর পুলিশি সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দেন। মামলা নিষ্পত্তির হার বৃদ্ধি এবং ওয়ারেন্ট তামিলের গতি বাড়ানোর বিষয়েও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে ট্রাফিক বিভাগকে ফিটনেসবিহীন ও অননুমোদিত যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন সিএমপি কমিশনার হাসান মোঃ শওকত আলী সভায় মে-২০২৬ মাসে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্সকারী সদস্যদের পুরস্কৃত করা হয়। তন্মধ্যে সর্বোচ্চ ওয়ারেন্ট মামলাকারী হিসেবে কোতোয়ালী থানায় কর্মরত এএসআই সোহেল আহমেদ; সর্বোচ্চ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারকারী হিসেবে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় কর্মরত এসআই মিজানুর রহমান চৌধুরী, সর্বোচ্চ মাদকদ্রব্য উদ্ধারকারী হিসেবে কোতোয়ালী থানায় কর্মরত এসআই কাজী মনিরুল করিম ও বাকলিয়া থানায় কর্মরত এসআই, নাসিমউল হক ইমরান, ক্লুলেস-চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটনকারী হিসেবে চান্দগাঁও থানায় কর্মরত এসআই জায়েদ আব্দুল্লাহ বিন ছরোয়ার ও ডবলমুরিং থানায় কর্মরত এসআই মোবিনুল ইসলাম, আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারকারী হিসেবে ডিবি-উত্তর বিভাগে কর্মরত ইন্সপেক্টর আজিজুল হক এবং সর্বোচ্চ মাদকদ্রব্য উদ্ধারকারী হিসেবে ডিবি-পশ্চিম বিভাগে কর্মরত ইন্সপেক্টর মোঃ আফতাব হোসেন’কে পুরস্কৃত করা হয়।

সভায় বদলিজনিত কারণে সহকারী পুলিশ কমিশনার (এমটি) অমল চন্দ-কে শুভেচ্ছা ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করে বিদায় জানান সিএমপি কমিশনার।

উক্ত সভায় সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া (অতিরিক্ত ডিআইজি, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মোঃ ফেরদৌস আলী চৌধুরী, বিপিএম (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত), উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-উত্তর) মোঃ হাবিবুর রহমান প্রাং (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত), উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) শেখ শরীফুল ইসলাম (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত), উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) নেছার উদ্দিন আহম্মেদ, পিপিএম (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত), উপ-পুলিশ কমিশনার (ইন-সার্ভিস ট্রেনিং) অনিন্দিতা বড়ুয়া (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) সহ সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

রুমা উপজেলায় ট্যুরিস্ট গাইড সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন ; সভাপতি বেলাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ফ্রেডিক ভান লালসম বম

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমা উপজেলা ট্যুরিস্ট গাইড সমিতির নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি পদে মো. বেলাল উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ফ্রেডিক ভান লাল সম বম বিজয়ী হয়েছেন। সোমবার (৯ জুন) সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে মোট ১৩০ জন ভোটারের মধ্যে ১২২ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, যা ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণের প্রমাণ বহন করে। নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রাসেল দেব। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মফিজুর রশিদ এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের ক্রেডিট সুপারভাইজার খালেদ রাউজান। ভোট গণনার সময় পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উহ্লাম মারমা, রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিং মারমা, পুলিশ,গোয়েন্দার সংস্থা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ঘোষিত ফলাফলে সভাপতি পদে চেয়ার প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মো. বেলাল উদ্দিন ৬৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে টেবিল প্রতীক নিয়ে প্রবণ বড়ুয়া ৬৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। সাধারণ সম্পাদক পদে মোরগ প্রতীক নিয়ে ফ্রেডিক ভান লাল সম বম ৭৪ ভোট লাভ করে নির্বাচিত হন।

এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ইলিশ প্রতীক নিয়ে ভিং দন নিশান বম ৯৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। কোষাধ্যক্ষ পদে উড়োজাহাজ প্রতীক নিয়ে প্রদীপ বড়ুয়া ৬৫ ভোট পেয়ে বিজয় অর্জন করেন। অন্যদিকে, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মিলন মজুমদার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ রুমা উপজেলার পর্যটন খাতের উন্নয়ন, পর্যটকদের সেবার মান বৃদ্ধি এবং স্থানীয় ট্যুরিস্ট গাইডদের অধিকার ও কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে রুমার পর্যটন শিল্প আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ হবে।

কাপ্তাই লেকে সাঁতার কাটতে নেমে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের মৃত্যু

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

 

ছন্দ সেন চাকমা, রাঙ্গামাটি :

রাঙামাটির কাপ্তাই লেকে সাঁতার কাটতে নেমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ইনতিশার হাসনাত (২২) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাঁর পিতার নাম মো. বেলাল। তাঁদের বাড়ি কক্সবাজারের পেকুয়া এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে আগত চার বন্ধু বিকেলে নৌকাযোগে কাপ্তাই লেকে ভ্রমণে বের হন। তাঁদের নৌকা চক্রপাড়া সংলগ্ন ‘বালুচর’ এলাকায় পৌঁছালে তাঁরা পানিতে নেমে সাঁতার কাটতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ইনতিশার হাসনাত সাঁতার কাটতে কাটতে লেকের গভীর অংশে চলে গেলে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান।

খবর পেয়ে রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্টেশন লিডার লিটন কান্তি দেবের নেতৃত্বে ডুবুরিরা প্রায় ২৫ ফুট গভীর থেকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন।

পরে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাঁকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিস জানায়, বিকেল ৫টা ৩৮ মিনিটে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পানি সংকটে কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্র: ৩ ইউনিট বন্ধ ; উৎপাদন নেমেছে ৬০ মেগাওয়াটে

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

তীব্র খরায় শুকিয়ে যাচ্ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি। ফলে পানির ওপর নির্ভরশীল কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের (কপাবিকে) বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রের মোট ৫টি ইউনিটের মধ্যে পানির অভাবে ৩টি ইউনিটই বন্ধ রাখতে হয়েছে। বর্তমানে সচল থাকা বাকি ২টি ইউনিট থেকে মাত্র ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। ​

মঙ্গলবার (৯ জুন) কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, কেন্দ্রের সবকটি ইউনিট যান্ত্রিকভাবে সম্পূর্ণ সচল রয়েছে। কিন্তু মূল সমস্যা হচ্ছে পর্যাপ্ত পানির অভাব, যার কারণে ইউনিটগুলো চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

​কন্ট্রোল রুম সুত্রে জানায় যায়, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২নং ইউনিট থেকে ৩৩ মেগাওয়াট এবং ৩নং ইউনিট থেকে ২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। ​সব মিলিয়ে মোট উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৬০ মেগাওয়াট, যেখানে কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট। এমনকি সবকটি ইউনিট পূর্ণ শক্তিতে চালু থাকলে সর্বোচ্চ ২৪০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়।

কন্ট্রোল রুমের সূত্র আরও জানা যায়, বছরের এই সময়ে কাপ্তাই লেকে স্বাভাবিকভাবে ৭৮.০৮ মিন সী লেভেল (এমএসএল) পানি থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে পানির স্তর নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭৩.৯৯ এমএসএলে। কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ এমএসএল। তবে পানির স্তর যদি কমতে কমতে ৬৮ এমএসএলে নেমে যায়, তবে তাকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে গণ্য করা হয়। পানি ৬৮ এমএসএলে পৌঁছালে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। ​

কর্তৃপক্ষ আশা করছে, সহসা ভারী বৃষ্টিপাত হলে লেকের পানির স্তর বাড়বে এবং তার সাথে সাথে বিদ্যুৎ উৎপাদনও আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। ​কাপ্তাই লেকের পানি কমে যাওয়ায় শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই ব্যাহত হচ্ছে না, বরং লেকের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগও চরমে পৌঁছেছে। ​বিশেষ করে রাঙ্গামাটি দূরবর্তী পাঁচ উপজেলা— বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু এবং বাঘাইছড়ির সাথে নৌপথের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। লেকের বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর ও চরের সৃষ্টি হওয়ায় যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে করে ওই অঞ্চলের মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াত ও ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে।

×