বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শিরোনাম:

পানি সংকটে কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্র: ৩ ইউনিট বন্ধ ; উৎপাদন নেমেছে ৬০ মেগাওয়াটে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯ জুন, ২০২৬, ৪:৩৭ পিএম
3 বার পড়া হয়েছে
পানি সংকটে কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্র: ৩ ইউনিট বন্ধ ; উৎপাদন নেমেছে ৬০ মেগাওয়াটে

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

তীব্র খরায় শুকিয়ে যাচ্ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি। ফলে পানির ওপর নির্ভরশীল কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের (কপাবিকে) বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রের মোট ৫টি ইউনিটের মধ্যে পানির অভাবে ৩টি ইউনিটই বন্ধ রাখতে হয়েছে। বর্তমানে সচল থাকা বাকি ২টি ইউনিট থেকে মাত্র ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। ​

মঙ্গলবার (৯ জুন) কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, কেন্দ্রের সবকটি ইউনিট যান্ত্রিকভাবে সম্পূর্ণ সচল রয়েছে। কিন্তু মূল সমস্যা হচ্ছে পর্যাপ্ত পানির অভাব, যার কারণে ইউনিটগুলো চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

​কন্ট্রোল রুম সুত্রে জানায় যায়, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২নং ইউনিট থেকে ৩৩ মেগাওয়াট এবং ৩নং ইউনিট থেকে ২৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। ​সব মিলিয়ে মোট উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৬০ মেগাওয়াট, যেখানে কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট। এমনকি সবকটি ইউনিট পূর্ণ শক্তিতে চালু থাকলে সর্বোচ্চ ২৪০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়।

কন্ট্রোল রুমের সূত্র আরও জানা যায়, বছরের এই সময়ে কাপ্তাই লেকে স্বাভাবিকভাবে ৭৮.০৮ মিন সী লেভেল (এমএসএল) পানি থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে পানির স্তর নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭৩.৯৯ এমএসএলে। কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ এমএসএল। তবে পানির স্তর যদি কমতে কমতে ৬৮ এমএসএলে নেমে যায়, তবে তাকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে গণ্য করা হয়। পানি ৬৮ এমএসএলে পৌঁছালে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। ​

কর্তৃপক্ষ আশা করছে, সহসা ভারী বৃষ্টিপাত হলে লেকের পানির স্তর বাড়বে এবং তার সাথে সাথে বিদ্যুৎ উৎপাদনও আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। ​কাপ্তাই লেকের পানি কমে যাওয়ায় শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই ব্যাহত হচ্ছে না, বরং লেকের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগও চরমে পৌঁছেছে। ​বিশেষ করে রাঙ্গামাটি দূরবর্তী পাঁচ উপজেলা— বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু এবং বাঘাইছড়ির সাথে নৌপথের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। লেকের বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর ও চরের সৃষ্টি হওয়ায় যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে করে ওই অঞ্চলের মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াত ও ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে।

রুমা উপজেলায় ট্যুরিস্ট গাইড সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন ; সভাপতি বেলাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ফ্রেডিক ভান লালসম বম

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯ জুন, ২০২৬, ৬:৪২ পিএম
পানি সংকটে কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্র: ৩ ইউনিট বন্ধ ; উৎপাদন নেমেছে ৬০ মেগাওয়াটে

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমা উপজেলা ট্যুরিস্ট গাইড সমিতির নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি পদে মো. বেলাল উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ফ্রেডিক ভান লাল সম বম বিজয়ী হয়েছেন। সোমবার (৯ জুন) সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে মোট ১৩০ জন ভোটারের মধ্যে ১২২ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, যা ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণের প্রমাণ বহন করে। নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রাসেল দেব। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মফিজুর রশিদ এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের ক্রেডিট সুপারভাইজার খালেদ রাউজান। ভোট গণনার সময় পাইন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উহ্লাম মারমা, রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিং মারমা, পুলিশ,গোয়েন্দার সংস্থা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ঘোষিত ফলাফলে সভাপতি পদে চেয়ার প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মো. বেলাল উদ্দিন ৬৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে টেবিল প্রতীক নিয়ে প্রবণ বড়ুয়া ৬৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। সাধারণ সম্পাদক পদে মোরগ প্রতীক নিয়ে ফ্রেডিক ভান লাল সম বম ৭৪ ভোট লাভ করে নির্বাচিত হন।

এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ইলিশ প্রতীক নিয়ে ভিং দন নিশান বম ৯৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। কোষাধ্যক্ষ পদে উড়োজাহাজ প্রতীক নিয়ে প্রদীপ বড়ুয়া ৬৫ ভোট পেয়ে বিজয় অর্জন করেন। অন্যদিকে, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মিলন মজুমদার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ রুমা উপজেলার পর্যটন খাতের উন্নয়ন, পর্যটকদের সেবার মান বৃদ্ধি এবং স্থানীয় ট্যুরিস্ট গাইডদের অধিকার ও কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে রুমার পর্যটন শিল্প আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ হবে।

কাপ্তাই লেকে সাঁতার কাটতে নেমে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯ জুন, ২০২৬, ৬:৩৯ পিএম
পানি সংকটে কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্র: ৩ ইউনিট বন্ধ ; উৎপাদন নেমেছে ৬০ মেগাওয়াটে

 

ছন্দ সেন চাকমা, রাঙ্গামাটি :

রাঙামাটির কাপ্তাই লেকে সাঁতার কাটতে নেমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ইনতিশার হাসনাত (২২) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাঁর পিতার নাম মো. বেলাল। তাঁদের বাড়ি কক্সবাজারের পেকুয়া এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে আগত চার বন্ধু বিকেলে নৌকাযোগে কাপ্তাই লেকে ভ্রমণে বের হন। তাঁদের নৌকা চক্রপাড়া সংলগ্ন ‘বালুচর’ এলাকায় পৌঁছালে তাঁরা পানিতে নেমে সাঁতার কাটতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ইনতিশার হাসনাত সাঁতার কাটতে কাটতে লেকের গভীর অংশে চলে গেলে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান।

খবর পেয়ে রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্টেশন লিডার লিটন কান্তি দেবের নেতৃত্বে ডুবুরিরা প্রায় ২৫ ফুট গভীর থেকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন।

পরে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাঁকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিস জানায়, বিকেল ৫টা ৩৮ মিনিটে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

হিংসার আগুনে নয়, ক্ষমার আলোয় শান্তি…

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯ জুন, ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম
পানি সংকটে কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্র: ৩ ইউনিট বন্ধ ; উৎপাদন নেমেছে ৬০ মেগাওয়াটে

 

গৌতম বুদ্ধের একটি গভীর জীবনঘনিষ্ঠ বাণী হলো—

“সে আমাকে গালি দিয়েছে, প্রহার করেছে,পরাস্ত করেছে বা লুণ্ঠন করেছে—যারা মনে এমন চিন্তা পোষণ করে, তাদের হিংসা ও বৈরিতা কখনো শেষ হয় না।”

এই বাণী শুধু ধর্মীয় উপদেশ নয়, বরং মানবমনের এক চিরন্তন সত্যের প্রকাশ। মানুষের জীবনে অপমান, অবিচার, কষ্ট কিংবা বিশ্বাসঘাতকতার অভিজ্ঞতা নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেই স্মৃতিগুলোকে যদি আমরা ক্রমাগত হৃদয়ে ধারণ করি, তাহলে ক্ষত শুকায় না; বরং আরও গভীর হয়। তখন অন্যের প্রতি ঘৃণা জন্মায়, আর সেই ঘৃণা শেষ পর্যন্ত নিজের মনকেই বিষাক্ত করে তোলে।

গৌতম বুদ্ধ উপলব্ধি করেছিলেন, প্রতিশোধ কখনো শান্তি এনে দেয় না। কারণ প্রতিশোধের আগুনে প্রথমে পুড়ে যায় প্রতিশোধপরায়ণ ব্যক্তির নিজের হৃদয়। যে মানুষ সারাক্ষণ অন্যের অন্যায় স্মরণ করে, সে নিজের সুখ, প্রশান্তি ও মানসিক স্বাধীনতাকেও বন্দী করে রাখে। তাই তিনি শিক্ষা দিয়েছেন—মুক্তি অন্যকে শাস্তি দেওয়ার মধ্যে নয়, বরং নিজের অন্তরকে বিদ্বেষমুক্ত করার মধ্যে।

বৌদ্ধ দর্শনে ‘মৈত্রী’ ও ‘করুণা’ মানবজীবনের সর্বোচ্চ গুণগুলোর অন্যতম। মৈত্রী শেখায় সকল প্রাণীর মঙ্গল কামনা করতে, আর করুণা শেখায় অন্যের কষ্ট অনুভব করতে। এই দুই গুণের চর্চা মানুষকে প্রতিহিংসার পথ থেকে দূরে সরিয়ে শান্তির পথে পরিচালিত করে।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই শিক্ষা বিশ্বের বিভিন্ন ধর্ম ও আধ্যাত্মিক ধারায় প্রতিধ্বনিত হয়েছে। ইসলাম ক্ষমা ও সংযমকে মহৎ গুণ হিসেবে ঘোষণা করেছে। খ্রিস্টধর্ম ভালোবাসা ও ক্ষমার আদর্শ তুলে ধরেছে। হিন্দুধর্ম অহিংসা ও সহনশীলতাকে ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। অর্থাৎ সত্যিকারের ধর্ম মানুষকে বিভক্ত করে না; বরং হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করে, মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে শেখায়।

তবে ক্ষমা মানে অন্যায়কে সমর্থন করা নয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা এবং নিজের অধিকার রক্ষা করা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু সেই সংগ্রাম যদি ঘৃণা ও প্রতিহিংসার দ্বারা পরিচালিত হয়, তাহলে তা নতুন সংঘাতের জন্ম দেয়। আর যদি ন্যায়, বিবেক ও মানবিকতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, তাহলে তা সমাজে শান্তি ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে।

আজকের পৃথিবীতে মানুষ ধর্ম, জাতি, মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে একে অপরের প্রতি ক্রমশ বৈরী হয়ে উঠছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে পারিবারিক সম্পর্ক পর্যন্ত সর্বত্র ক্ষোভ ও বিদ্বেষের ছাপ স্পষ্ট। এমন সময়ে গৌতম বুদ্ধের এই বাণী আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—ঘৃণাকে ঘৃণার মাধ্যমে জয় করা যায় না; ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও ক্ষমাই তার একমাত্র প্রতিষেধক।

মানুষের প্রকৃত বিজয় প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার মধ্যে নয়; বরং নিজের ক্রোধ, অহংকার ও প্রতিহিংসাকে জয় করার মধ্যে। যে হৃদয় ক্ষমা করতে পারে, সেই হৃদয়ই প্রকৃত অর্থে মুক্ত। আর যে সমাজ ক্ষমা, সহনশীলতা ও মানবিকতাকে ধারণ করে, সেই সমাজেই শান্তি ও সম্প্রীতির ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।

তাই আসুন, অতীতের ক্ষতকে আঁকড়ে না ধরে ক্ষমার আলোয় নিজেদের আলোকিত করি। কারণ হিংসা ও বৈরিতার পথ অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়, আর ক্ষমা ও মমতার পথই মানুষের সত্যিকারের মুক্তি ও শান্তির পথ।

লেখক – সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁ
গণমাধ্যম ও সমাজ কর্মী
আলীকদম।

×