শিরোনাম:

বিলাইছড়িতে গণহত্যা দিবস পালিত

বিলাইছড়িতে গণহত্যা দিবস পালিত

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ

রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার গণহত্যা দিবস পালন করা হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে কনফারেন্স রুমে  দিবসটি উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসনাত জাহান খান এঁর সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম ফকির, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুরজিত দত্ত, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি দেওয়ান, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ গোলাম আজম।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাচন অফিসার ছালে আহমদ ভুঁইয়া, ইন্সট্রাক্টর মো. বখতেয়ার হোসেন,  মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের বিভীষণ চাকমা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিরালা কান্তি চাকমা, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অসীম চাকমা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সুবিনয় চাকমা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা (অ:দা:) রিনি চাকমা, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা (অঃদাঃ) নাজমুল হাসান, থানা এস আই মোঃ সিরাজুল ইসলাম, কেংড়াছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা শান্তি বরণ তালুকদার, উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মান্নান ,  মহিলা মেম্বার রিতা চাকমা ও কবিতা চাকমা প্রমূখ।

সঞ্চালনায় রুবেল বড়ুয়া।

বান্দরবানে অকটেন সংকটে স্থানীয়দের অসন্তোষ।

বিলাইছড়িতে গণহত্যা দিবস পালিত

 

বান্দরবান প্রতিনিধি:

পার্বত্য জেলা বান্দরবানে হঠাৎ করে অকটেন সংকট দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকরা। তাছাড়া মোটরসাইকেল নিয়ে ভ্রমণে আসা বাইকার পর্যটকদের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জ্বালানি তেলের এই সংকটের কারণে জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে, অনেক জায়গায় আবার অকটেন সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানায় , বৈশ্বিক অদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে সারাদেশেই জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। যার জন্য বান্দরবান জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অকটেন সরবরাহ কমে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকেই জ্বালানি পাচ্ছেন না। এতে করে জরুরি কাজ ও দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে জেলার বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে অকটেনের সরবরাহ কমে যায়। এতে করে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কারসহ অকটেন নির্ভর যানবাহনের চালকরা পড়েছেন বিপাকে। প্রয়োজনীয় কাজে বের হতে না পেরে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ অভিযোগ করে বলেন,, ঈদুল ফিতর ও টানা সরকারি ছুটিতে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবকাশ যাপনের জন্য এই মৌসুমে ব্যাপক পর্যটকের সমাগম ঘটছে পাহাড় কন্যা খ্যাত পার্বত্যজেলা বান্দরবানে।যার মধ্যে বাইকার পর্যটকের সংখ্যা দৈনিক এক থেকে দেড় হাজার হাজারের কম নয়।পর্যটন মৌসুমে বাইকারদের এই অতিরিক্ত চাপের কারণে জ্বালানির সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয়দের প্রয়োজনের তুলনায় পর্যটকরাই বেশি তেল নিচ্ছেন, ফলে অসন্তোষ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

অন্যদিকে, বাইকার পর্যটকরা বলছেন, তারা নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী পাহাড়ি এলাকায় ঘুরতে এসে জ্বালানি না পেয়ে মাঝপথে আটকে পড়ছেন। এতে করে তাদের ভ্রমণ ব্যাহত হচ্ছে এবং বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।

বান্দরবান শহরের এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, “সকাল থেকে কয়েকটি পাম্প ঘুরেও অকটেন পাইনি। কাজে যেতে পারছি না, সময় ও অর্থ—দুটোরই ক্ষতি হচ্ছে।”

এদিকে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, অকটেন সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে পর্যটন নির্ভর এই জেলায় পর্যটক পরিবহনেও বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কয়েকজন পাম্প মালিক জানান, সরবরাহ সংকটের কারণে তারা চাহিদা অনুযায়ী অকটেন দিতে পারছেন না। ডিপো থেকে নিয়মিত তেল না আসায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গুলো চাহিদার তুলনায় অনেক কম অকটেন সরবরাহ করছে। ফলে পরিস্থিতি সাভাবিক রাখতে গাড়ি প্রতি সর্বোচ্চ ২০০ টাকার অকটেন দেয়া হচ্ছে।যা স্থানীয় প্রশাসনকেও জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি জানিয়েছেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় জেলায় অতিরিক্ত অকটেনের চাহিদা ছিল না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাইকে করে পর্যটকদের আগমন বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেট্রোল পাম্পগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও বান্দরবান একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা হওয়ায় এখানকার নিয়মিত চাহিদার তুলনায় বেশি অকটেন বরাদ্দের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ইতোমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে, সারাদেশে আংশিক অকটেন সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাইকে করে পর্যটকদের আগমন নিরুৎসাহিত করারও পরামর্শ দেন তিনি।

সম্প্রীতির বন্ধনে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান পার্বত্যমন্ত্রীর

বিলাইছড়িতে গণহত্যা দিবস পালিত

 

নিউজ ডেক্স, সিএইচটি বার্তা :

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি বলেছেন, বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ। তিনি পাহাড় ও সমতলের সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং একটি দুর্নীতিমুক্ত আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।

আজ বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত ‘ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী’ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি এসব কথা বলেন।

পার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে কিছুটা ভিন্ন ও স্পর্শকাতর। আগামী ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ উৎসব নিয়ে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এবারের উৎসবের নামকরণে কেবল ‘বৈসাবি’ শব্দটি ব্যবহার না করে পাহাড়ের সকল সম্প্রদায়ের নিজস্ব আত্মপরিচয় ফুটিয়ে তোলা হবে। এবার থেকে বিজু-সাংগ্রাই-বৈষু-বিষু-চাংক্রান-সাংক্রান-সাংগ্রাইং-সহ সকল সম্প্রদায়ের বৃহত্তর সামাজিক উৎসবগুলো পালনে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সভায় মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রামের বেকারত্ব দূরীকরণ, সরকারি নিয়োগ কার্যক্রম গতিশীল করা এবং শূন্যপদগুলো যথাযথভাবে পূরণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আজকের এ দিনে ঐতিহাসিক ঘটনার গুরুত্বারোপ করে বলেন, আজ ২৫ মার্চ, গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। আমি সেই শোকাবহ দিবসটি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ সভায় অংশগ্রহণ করেন।

বাঘাইছড়িতে পালিত হলো ২৫শে মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’

বিলাইছড়িতে গণহত্যা দিবস পালিত


‎বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

‎রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে ২৫শে মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস।

দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়, যেখানে বক্তারা ১৯৭১ সালের সেই ভয়াল কালরাত্রিতে পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংস হত্যাযজ্ঞের তীব্র নিন্দা জানান।

‎একাত্তরের ২৫শে মার্চের কালরাত্রিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরিচালিত Operation Searchlight-এর বর্বরতা স্মরণে বুধবার বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদের মিনি কনফারেন্স রুমে এই বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

‎উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ নাছির উদ্দিন মজুমদার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুর আলম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওমর আলী, সাধারণ সম্পাদক জাবেদুল আলম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রহমত উল্লাহ খাজা, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কবির আহম্মেদ, কাচালং সরকারি কলেজের প্রভাষক মীর কামাল হোসেন, বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি আবদুল মাবুদ এবং কাচালং বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভদ্রসেন চাকমা।

এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সভায় অংশগ্রহণ করেন।

‎আলোচনায় বক্তারা বলেন, সেই ভয়াল রাতে পাকিস্তানি বাহিনী নির্বিচারে শিক্ষক, ছাত্র, বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ নিরীহ মানুষকে হত্যা করে ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় রচনা করেছে। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের জন্য তারা পাকিস্তানের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেন এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

‎বক্তারা আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

×