রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম:

রাঙ্গামাটি কর্ণফুলী নদী থেকে নিখোঁজ নারীর মরদেহ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৬, ১:০৫ পিএম
0 বার পড়া হয়েছে
রাঙ্গামাটি কর্ণফুলী নদী থেকে নিখোঁজ নারীর মরদেহ উদ্ধার

 

ছন্দ সেন চাকমা, রাঙামাটি :

​রাঙ্গামাটির রিজার্ভ মুখ এলাকায় শহীদ মিনার সংলগ্ন হ্রদের পানিতে ভেসে ওঠা এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ। আজ রোববার সকালে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত ওই গৃহবধূর নাম মুক্তা বড়ুয়া (২৮)। তিনি পশ্চিম রাউজান এলাকার মৃত স্বপন বড়ুয়ার মেয়ে। তিনি রাঙ্গামাটির তবলছড়ির বিজিবি রোড এলাকায় স্বামী অভিজিৎ বড়ুয়ার সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৯ জুন) থেকে মুক্তা বড়ুয়া নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান না পেয়ে গতকাল শনিবার কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। আজ সকাল পৌনে ১০টার দিকে স্থানীয়রা শহীদ মিনার সংলগ্ন রিজার্ভ মুখ এলাকায় পানিতে মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়।
​খবর পেয়ে রাঙ্গামাটি ফায়ার স্টেশনের লিডার গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহটি আইনি প্রক্রিয়ার জন্য কোতোয়ালি থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নিখোঁজের ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছিল। এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাঘাইছড়িতে দেশীয় ফল উৎসব ২০২৬ উদ্বোধন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম
রাঙ্গামাটি কর্ণফুলী নদী থেকে নিখোঁজ নারীর মরদেহ উদ্ধার

আনোয়ার হোসেন,
বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

করবো মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ রাখবো বারোমাস”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশীয় ফল উৎসব ২০২৬।

রবিবার (২১ জুন) সকাল ১১টায় বাঘাইছড়ি উপজেলার এডমিনিস্ট্রেশন স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ উৎসবের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এডমিনিস্ট্রেশন স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক সক্রেটিস চাকমা। এছাড়াও বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, “শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ উৎসবে অংশগ্রহণ করেন।”

উৎসব উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন দেশীয় মৌসুমি ফলের সমাহারে আকর্ষণীয় স্টল ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। প্রদর্শনীতে আম, কাঁঠাল, লিচু, জাম, আনারস, পেয়ারা, কলা, লটকন সহ নানা ধরনের দেশীয় ফল স্থান পায়। শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন ফল সংগ্রহ ও সাজসজ্জার মাধ্যমে প্রদর্শনীকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

উদ্বোধনের পর অতিথিরা প্রদর্শনী স্টলগুলো পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ, ফল চাষের গুরুত্ব এবং মৌসুমি ফল খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
উৎসবকে ঘিরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দেশীয় ফল উৎসবটি প্রাণবন্ত ও আনন্দঘন হয়ে ওঠে। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করবে এবং ফল চাষ ও সংরক্ষণে সচেতনতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ড্রাগন ফলের দাম কম ; হতাশ বান্দরবানের চাষিরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬, ৪:৫৩ পিএম
রাঙ্গামাটি কর্ণফুলী নদী থেকে নিখোঁজ নারীর মরদেহ উদ্ধার

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা :

পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং স্বাস্থ্যসম্মত ফল হিসেবে পরিচিত ড্রাগন ফল (পিটায়া) একসময় বান্দরবানের কৃষকদের কাছে ছিল সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। উচ্চ বাজারমূল্যের কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপকভাবে ড্রাগন চাষ সম্প্রসারিত হয়েছিল। তবে বর্তমানে বাজারে দাম কমে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষিরা।

বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় কমবেশি ড্রাগন ফলের চাষ হয়ে থাকে। স্থানীয় কৃষকদের মতে, পাঁচ থেকে ছয় বছর আগে প্রতি কেজি ড্রাগন ফল ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হতো। সে সময় অনেক কৃষক ড্রাগন চাষে ঝুঁকে পড়েন এবং এটিকে ভাগ্য পরিবর্তনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে দেখতেন। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে চাষের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বর্তমানে প্রতি কেজি ড্রাগন ফল মাত্র ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় এ মূল্য অনেক কম হওয়ায় কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

বান্দরবানে চিম্বুকের এক ড্রাগন চাষি বলেন, ড্রাগন চাষ করতে খুঁটি স্থাপন, সেচ, সার ও পরিচর্যায় প্রচুর টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু এখন বাজারে যে দাম পাওয়া যাচ্ছে, তাতে উৎপাদন খরচই উঠে আসে না।

রুমা থেকে আরেক কৃষক জানান, আগে ড্রাগন চাষ লাভজনক ছিল। এখন দাম কমে যাওয়ায় নতুন করে বাগান করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ড্রাগন চাষ কমে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ড্রাগন ফল শুধু সুস্বাদুই নয়, এটি অত্যন্ত পুষ্টিকরও। এতে রয়েছে ভিটামিন-সি, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, খাদ্য-আঁশ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। নিয়মিত ড্রাগন ফল খেলে হজমশক্তি বৃদ্ধি পায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, রক্তশূন্যতা দূর হয় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

কৃষকদের দাবি, ড্রাগন ফলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগ, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং নতুন বাজার সৃষ্টি করা প্রয়োজন। তা না হলে পাহাড়ে সম্ভাবনাময় এ ফলের চাষ ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে।

স্থানীয় কৃষকদের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং ড্রাগন চাষিদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।

পরিবেশ সংরক্ষণে বিলাইছড়িতে প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণে সেনাবাহিনী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬, ৪:৩৫ পিএম
রাঙ্গামাটি কর্ণফুলী নদী থেকে নিখোঁজ নারীর মরদেহ উদ্ধার

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাঙ্গামাটির প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিলাইছড়ি জোনের উদ্যোগে একটি বিশেষ প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

বিলাইছড়ি জোনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। অভিযানের আওতায় বিলাইছড়ি জোন হেডকোয়ার্টার এলাকা, বিলাইছড়ি বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ এবং আশপাশের জনসমাগমস্থলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিক, পলিথিন, বোতল ও অন্যান্য পরিবেশ দূষণকারী বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ করা হয়।

অভিযান চলাকালে সেনাসদস্যরা পরিবেশ সংরক্ষণে প্লাস্টিক বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে স্থানীয় জনগণকে সচেতন করেন এবং পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। এ ধরনের কার্যক্রম পরিবেশ দূষণ হ্রাস, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

বিলাইছড়ি জোনের পক্ষ থেকে বিলাইছড়ি জোন উপ অধিনায়ক মেজর মো. ফখরুল আবেদীন জানান যে, বর্তমান বিশ্বে প্লাস্টিক দূষণ একটি ভয়াবহ অভিশাপ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা আমাদের মাটি, পানি ও সামগ্রিক ইকোসিস্টেমকে বিপন্ন করে তুলছে। বিশেষ করে রাঙ্গামাটির মতো পার্বত্য ও পর্যটনসমৃদ্ধ এলাকায় প্লাস্টিক বর্জ্যের যত্রতত্র ব্যবহার এখানকার জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য এক বিরাট হুমকি। এই পরিস্থিতিতে বিলাইছড়ি জোনের এই বর্জ্য অপসারণ অভিযান কেবল একটি সাময়িক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নয়, বরং পরিবেশ বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে এক জোরালো প্রতিরোধ ও সচেতনতার বার্তা।

×