| ২১ জুন ২০২৬
শিরোনাম:

সেনাবাহিনী সিন্দুকছড়ি জোন কর্তৃক দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিদ্যালয় ভবন সংস্কার ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

সেনাবাহিনী সিন্দুকছড়ি জোন কর্তৃক দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিদ্যালয় ভবন সংস্কার ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

 

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা মানিকছড়ি উপজেলায় দূর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়নের অধীনস্থ সিন্দুকছড়ি জোন। এ উদ্যোগের আওতায় খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত দক্ষিণ হাফছড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা করেছে সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়ন সিন্দুকছড়ি জোন।। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে ভবন জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা বিদ্যালয় ভবনটি সিন্দুকছড়ি জোনের উদ্যোগে পূর্ণ মেরামত করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে পাঠদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদ্যালয়ে একটি নতুন বারান্দায় সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখন আরও উন্নত ও উপযোগী পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তার উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

পাশাপাশি দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ প্রদান করা হয়, যা তাদের শিক্ষা জীবনকে আরও উৎসাহিত করবে। বিদ্যালয় সংস্কার ও শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএ-৭৫১৪ লেঃ কর্ণেল ইসমাইল সামস আজিজি, পিএসসি, জি, জোন কমান্ডার, সিন্দুকছড়ি জোন। তিনি নব নির্মিত স্থাপনার উদ্বোধন করেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নিয়মিত অধ্যয়ন, নৈতিক শিক্ষা অর্জন এবং দেশ গঠনে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, শিক্ষা হলো জাতির উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি এবং শিক্ষার মাধ্যমেই একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এ সময় বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সুঁইচিংপ্রু মারমা, সহকারী শিক্ষিকা জোৎস্না চাকমা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই জনকল্যাণমূলক ও মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সিন্দুকছড়ি জোনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্থানীয় জনগণ আশা প্রকাশ করেন যে, পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের ইতিবাচক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং দুর্গম এলাকার জনগণের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মানবসেবা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনে চার দশক, এগিয়ে চলেছে বাঙ্গালহালিয়ার সনাতন ঋষি আশ্রম এবং নিরপেক্ষভাবে তদন্ত চাইল কর্তৃপক্ষ

সেনাবাহিনী সিন্দুকছড়ি জোন কর্তৃক দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিদ্যালয় ভবন সংস্কার ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

 

রাজস্থলী (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী সনাতন ঋষি আশ্রম ও অনাথালয়ের বিরুদ্ধে সম্প্রতি উত্থাপিত ধর্মান্তরের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে আশ্রম কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে আশ্রমের সুনাম ক্ষুন্ন করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) আশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রীশ্রী সনাতন ঋষি মহারাজ স্বাক্ষরিত এক লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি করা হয়। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রায় চার দশক আগে প্রতিষ্ঠিত সনাতন ঋষি আশ্রম ও অনাথালয় মানবকল্যাণ, সমাজসেবা ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিষ্ঠানটি অসহায়, অনাথ, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

আশ্রম কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানটিতে অনাথ শিশুদের লালন-পালন, শিক্ষা প্রদান, চিকিৎসা সহায়তা, খাদ্য ও বস্ত্র সরবরাহসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পাশাপাশি সমাজের অবহেলিত ও অসহায় বৃদ্ধদের আশ্রয় ও সহযোগিতাও দেওয়া হয়। প্রতি বছর বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আশ্রমটি সম্পূর্ণ সেবামূলক ও অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। কোনো রাজনৈতিক সংগঠন, ধর্মীয় গোষ্ঠী কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এর সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নেই। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং সরকারি অনুমোদনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

আশ্রম সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বাঙ্গালহালিয়া, আর্মি ক্যাম্প, আর্মি ব্যাটালিয়ন ক্যাম্প এবং আমতলী পুলিশ ক্যাম্পসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত রয়েছে। সমাজের অসহায় মানুষের কল্যাণে পরিচালিত এসব উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে আসছে বলে দাবি করা হয়। সম্প্রতি কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও এলাকার এক নারী ভক্ত আশ্রমে অবস্থান নেওয়ার পর একটি মহল তাকে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে বলে প্রচার শুরু করে।

আশ্রম কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। আশ্রমের দাবি, সংশ্লিষ্ট নারী স্বেচ্ছায় আশ্রমে অবস্থান করছিলেন এবং তাকে কোনো ধরনের ধর্মীয় চাপ, প্রলোভন বা ধর্মান্তরের প্রক্রিয়ার মধ্যে নেওয়া হয়নি। অথচ কিছু ব্যক্তি আশ্রমের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে বিভিন্ন মহলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অপপ্রচারকারীরা শুধু আশ্রমের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করছে না, বরং এলাকায় দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের পরিবেশও সৃষ্টি করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে সামাজিক অস্থিরতা ও ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করা হলে চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করে। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে আশ্রম কর্তৃপক্ষ।

সনাতন ঋষি আশ্রম ও অনাথালয়ের অধ্যক্ষ শ্রীশ্রী সনাতন ঋষি মহারাজ বলেন, আমাদের আশ্রমের মূল উদ্দেশ্য মানবসেবা, ধর্মীয় অনুশীলন এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কাউকে ধর্মান্তরিত করা বা এ ধরনের কোনো কার্যক্রম পরিচালনার প্রশ্নই আসে না। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তিনি আরও বলেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে আশ্রমের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য জনগণের সামনে তুলে ধরা হোক, পার্বত্য চট্টগ্রাম বহু জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির মিলনভূমি। এখানে সম্প্রীতি বজায় রাখা সবার দায়িত্ব। মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার যেন কোনোভাবেই সামাজিক শান্তি নষ্ট করতে না পারে।। আশ্রম কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা থাকলে তারা আইনি প্রক্রিয়া মেনে জবাবদিহিতা করতে প্রস্তুত। তবে ভিত্তিহীন অভিযোগ ও অপপ্রচারের মাধ্যমে একটি দীর্ঘদিনের সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সবশেষে আশ্রম কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং এলাকায় বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

দীঘিনালা জোন কর্তৃক সেলাই মেশিন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন

সেনাবাহিনী সিন্দুকছড়ি জোন কর্তৃক দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিদ্যালয় ভবন সংস্কার ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

খাগড়াছড়ি দীঘিনালায় আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে সেলাই মেশিন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার ২১ জুন দুপুরে দীঘিনালা জোন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দীঘিনালা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: আল আমিন এসইউপি,পিএসসি।

উদ্বোধনী বক্তব্যে জোন কমান্ডার বলেন, নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা সেলাই কাজে দক্ষ হয়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবেন এবং পারিবারিক আয় বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে সক্ষম হবেন বলে জানান।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে এলাকার ২০জন নির্বাচিত নারী অংশগ্রহণকারীরা নির্দিষ্ট সময়ব্যাপী সেলাই ও পোশাক তৈরির বিভিন্ন বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের সফলতা কামনা করে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করা হয়।

 

পার্বত্য চুক্তির চেতনা ও প্রতিনিধিত্বের সংকট ; ৩ পার্বত্য জেলায় একযোগে মানববন্ধন

সেনাবাহিনী সিন্দুকছড়ি জোন কর্তৃক দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিদ্যালয় ভবন সংস্কার ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

 

ছন্দ সেন চাকমা, বিশেষ প্রতিনিধি: 

পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন আজও এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান দাবি। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তসমূহ চুক্তির মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রবল সংশয় ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। আজকের দিনে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে স্থানীয় ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক সমাজ’-এর মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি মূলত সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই এক যৌক্তিক বহিঃপ্রকাশ, যা নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।

​স্মারকলিপির তথ্য অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ‘ঘ’ খণ্ডের ১১ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে একজন মন্ত্রী নিয়োগের মাধ্যমেই এই মন্ত্রণালয় গঠিত হবে। অথচ, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সরকার কর্তৃক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয়দের মতে চুক্তির বিধানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

​পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা রাঙ্গামাটি-২৯৯ আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের ঘটনায়। গত ১ জুন ২০২৬ তারিখে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করলেও, জনমনে প্রবল ধারণা রয়েছে যে তাকে এই পদে থাকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। একজন জনপ্রিয় প্রতিনিধিকে সরিয়ে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের এই ঘটনা পাহাড়ি জনপদ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি করেছে।

এ পরিস্থিতিতে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক সমাজ’ তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেছে, যার মধ্যে রয়েছে। ​উপজাতীয় ব্যক্তিকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগদান নিশ্চিত করা এবং দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাকে স্বপদে পুনর্বহাল করা।

​পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিধান অনুসারে ‘উপদেষ্টা কমিটি’ অবিলম্বে কার্যকর করা। ​মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যাহার করা। ​চুক্তির শর্ত অনুযায়ী উপমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী পদে কাউকে নিয়োগ না দেওয়া। ​পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন করা।

​পরিশেষে, পার্বত্য চট্টগ্রাম কেবল একটি ভৌগোলিক মানচিত্র নয়; এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি ও দীর্ঘ সংগ্রামের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর আশা-আকাঙ্ক্ষা ও তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মতামত উপেক্ষা করে নেওয়া যেকোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার ঝুঁকি রাখে। বর্তমান সংকট নিরসনে সরকারের উচিত অবিলম্বে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপে বসা। মনে রাখতে হবে, জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা এবং চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নই পাহাড়ি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার একমাত্র পথ। আস্থাহীনতা দূর করার প্রাথমিক দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই গ্রহণ করতে হবে।

×