| ১৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম:

আলীকদমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী দিল উপজেলা বিএনপি

আলীকদমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী দিল উপজেলা বিএনপি

 

‎সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা,

‎আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

‎টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্হ অসহায় ১ হাজারের বেশি পরিবারের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিক নির্দেশনায় আলীকদম উপজেলা বিএনপির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন বান্দরবান জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক পৌর মেয়র মো. জাবেদ রেজা। ‎

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে আলীকদম উপজেলাধীন চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন, আলীকদম সদর ইউপি, নয়াপাড়া ইউনিয়নে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ১ হাজারের বেশি পরিবারের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের দিক নির্দেশনায় আলীকদম উপজেলা বিএনপির সার্বিক ব্যবস্হাপনায় পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

‎পরিদর্শনকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রীসহ জরুরি ত্রাণ বিতরণ করা হয়। অনেক পরিবার বন্যার কারণে ঘরবাড়ি, গৃহস্থালির সামগ্রী ও জীবিকার উপকরণ হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে জানা যায়। এসব পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন জেলা বিএনপির নেতারা। ‎

এ সময় মো. জাবেদ রেজা বলেন, “ভয়াবহ বন্যায় আলীকদমে সাধারণ মানুষ আজ চরম সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এই কঠিন সময়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছে। আলীকদম উপজেলা বিএনপির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং এই দুর্যোগ পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা পর্যন্ত আমাদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

‎তিনি আরও বলেন, বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, সামাজিক ও মানবিক সংগঠন এবং স্বেচ্ছাসেবীদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনরায় স্বাবলম্বী করে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণেরও আহ্বান জানান তিনি। ‎

ত্রাণ বিতরণ ও পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন তুষার, আলীকদম উপজেলা বিএনপির সাবেক আহব্বায়ক মাশুক আহমেদ, সাবেক সিঃ যুগ্ন আহব্বায়ক জুলফিকার আলী ভূট্রো, সাবেক যুগ্ম আহব্বায়ক মো. ইউনুচ মিয়া, সাবেক যুগ্ম আহব্বায়ক মো. মনচুর আলমসহ, যুবদল, ছাত্রদল এবং বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ‎ ‎

ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাদের এমন মানবিক উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

চসিককে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করা হবে ——- মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

আলীকদমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী দিল উপজেলা বিএনপি

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার :

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে (চসিক) ঋণমুক্ত, স্বনির্ভর ও আর্থিকভাবে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, নিজস্ব আয় বৃদ্ধি ছাড়া একটি আধুনিক ও টেকসই নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই রাজস্ব আদায়ে গতি এনে চসিককে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে, যা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনায় অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকবে না।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) লালদীঘিস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পাবলিক লাইব্রেরি ভবনে রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৫৫৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১০০ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এটি প্রমাণ করে যে, আন্তরিকতা, জবাবদিহিতা এবং সঠিক পরিকল্পনা থাকলে রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন সম্ভব। তবে আমি এখানেই থেমে থাকতে চাই না। আমার লক্ষ্য আগামী কয়েক বছরের মধ্যে চসিকের বার্ষিক রাজস্ব এক হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা।

তিনি বলেন, যেদিন আমরা এক হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে পারব, সেদিনই মনে করব চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের জন্য স্থায়ী ভিত্তি তৈরি করে যেতে পেরেছি। তখন চসিক সত্যিকার অর্থেই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবে। নগরের রাস্তা, ড্রেন, খাল, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য নাগরিক সেবার জন্য প্রতিনিয়ত মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না। আমাদের নিজস্ব অর্থায়নেই অধিকাংশ উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। বর্ষা মৌসুমে ঝড়-বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে নগরীর বহু সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং নালা-নর্দমা ও খাল ভরাট হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, এসব অবকাঠামো দ্রুত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। তাই আমাদের রাজস্ব আয় বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, রাজস্ব বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র হচ্ছে হোল্ডিং ট্যাক্স। আবাসিক খাতে নাগরিকদের সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কাজ করা হবে, তবে বাণিজ্যিক হোল্ডিং থেকে যথাযথ রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে যেসব আবাসিক হোল্ডিং এখনও করের আওতায় আসেনি কিংবা দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া রয়েছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কর প্রদানে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তিনি রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, প্রতিটি সার্কেল ভিত্তিক আবাসিক ও বাণিজ্যিক হোল্ডিংয়ের হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। কোথায় কত বকেয়া রয়েছে তা চিহ্নিত করে পরিকল্পিতভাবে আদায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ আরও বাড়ানো সম্ভব।

মেয়র বলেন, গৃহকর, ট্রেড লাইসেন্স, ভূমি হস্তান্তর ফি, এস্টেট ব্যবস্থাপনাসহ প্রতিটি রাজস্ব খাতে আদায় বৃদ্ধির ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে চসিককে একটি শক্তিশালী ও স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম একটি সম্ভাবনাময় মহানগর। এই নগরের নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে আমাদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একটি স্বনির্ভর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনই নাগরিকদের দ্রুত, টেকসই ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে পারবে।

সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সাব্বির রহমান সানিসহ রাজস্ব বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ তাদের মতামত তুলে ধরেন৷ সভায় রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা বিভিন্ন জোনের রাজস্ব আদায়ের অগ্রগতি, বকেয়া আদায়ের অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

কাপ্তাইয়ে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ২৬০ জনের পাশে ৪১ বিজিবি

আলীকদমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী দিল উপজেলা বিএনপি

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

​রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলায় অতিবৃষ্টি ও পাহাড় ধসের কবলে পড়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়া ২৬০ জন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি) এর উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। ​সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও পাহাড় ধসের ফলে কাপ্তাই ইউনিয়নের লগ গেইট, কাপ্তাই নতুন বাজার, সাদেক মাষ্টার টিলা এবং বিএফআইডিসি পাড়া এলাকার বাসিন্দারা ঘরবাড়ি হারিয়ে বিপাকে পড়েন। বর্তমানে তারা কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপিত অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।​

ওয়াগ্গাছড়া জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল কাওসার মেহেদী, সিগন্যালস্-এর তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় ৪১ বিজিবির ‘সম্প্রীতি ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় এসব অসহায় মানুষের মাঝে দুপুরে খাবারের প্যাকেট তুলে দেওয়া হয়। খাবার বিতরণ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন ওয়াগ্গাছড়া জোনের ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাষ্টার সহকারী পরিচালক মোঃ জহিরুল ইসলাম।

এ সময় তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন এবং তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে তিনি তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিজিবি সবসময় দেশের সাধারণ মানুষের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে

বন্যাদুর্গত ৭৫ পরিবারের পাশে বান্দরবান বিজিবি’র ত্রাণ বিতরণ।

আলীকদমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী দিল উপজেলা বিএনপি

উথোয়াইচিং মারমা: বান্দরবান:

টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বান্দরবানের হ্লাপাই মুখপাড়া এলাকার ৭৫টি দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বান্দরবান বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় হ্লাপাইমুখ পাড়া এলাকায় ৭৫ টি অসহায় পরিবারের মাঝে এ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরের কমান্ডার কর্নেল মুহাম্মদ রুবায়াত জামিল, বিএসপি-এর নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন বান্দরবান সেক্টরের সহকারি পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম রানা।

বন্যা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বান্দরবান বিজিবি সেক্টরের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান সেক্টর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম রানা।

তিনি আরো জানান, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসসহ বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা, নিরাপদ আশ্রয় প্রদান, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিতকরণ এবং সাধারণ জনগণ ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাহিনীটি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।

×