বান্দরবান প্রতিনিধি:
পার্বত্য জেলা বান্দরবানে হঠাৎ করে অকটেন সংকট দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকরা। তাছাড়া মোটরসাইকেল নিয়ে ভ্রমণে আসা বাইকার পর্যটকদের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জ্বালানি তেলের এই সংকটের কারণে জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে, অনেক জায়গায় আবার অকটেন সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানায় , বৈশ্বিক অদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে সারাদেশেই জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। যার জন্য বান্দরবান জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অকটেন সরবরাহ কমে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকেই জ্বালানি পাচ্ছেন না। এতে করে জরুরি কাজ ও দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে জেলার বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে অকটেনের সরবরাহ কমে যায়। এতে করে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কারসহ অকটেন নির্ভর যানবাহনের চালকরা পড়েছেন বিপাকে। প্রয়োজনীয় কাজে বের হতে না পেরে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ অভিযোগ করে বলেন,, ঈদুল ফিতর ও টানা সরকারি ছুটিতে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবকাশ যাপনের জন্য এই মৌসুমে ব্যাপক পর্যটকের সমাগম ঘটছে পাহাড় কন্যা খ্যাত পার্বত্যজেলা বান্দরবানে।যার মধ্যে বাইকার পর্যটকের সংখ্যা দৈনিক এক থেকে দেড় হাজার হাজারের কম নয়।পর্যটন মৌসুমে বাইকারদের এই অতিরিক্ত চাপের কারণে জ্বালানির সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয়দের প্রয়োজনের তুলনায় পর্যটকরাই বেশি তেল নিচ্ছেন, ফলে অসন্তোষ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
অন্যদিকে, বাইকার পর্যটকরা বলছেন, তারা নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী পাহাড়ি এলাকায় ঘুরতে এসে জ্বালানি না পেয়ে মাঝপথে আটকে পড়ছেন। এতে করে তাদের ভ্রমণ ব্যাহত হচ্ছে এবং বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।
বান্দরবান শহরের এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, “সকাল থেকে কয়েকটি পাম্প ঘুরেও অকটেন পাইনি। কাজে যেতে পারছি না, সময় ও অর্থ—দুটোরই ক্ষতি হচ্ছে।”
এদিকে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, অকটেন সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে পর্যটন নির্ভর এই জেলায় পর্যটক পরিবহনেও বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কয়েকজন পাম্প মালিক জানান, সরবরাহ সংকটের কারণে তারা চাহিদা অনুযায়ী অকটেন দিতে পারছেন না। ডিপো থেকে নিয়মিত তেল না আসায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গুলো চাহিদার তুলনায় অনেক কম অকটেন সরবরাহ করছে। ফলে পরিস্থিতি সাভাবিক রাখতে গাড়ি প্রতি সর্বোচ্চ ২০০ টাকার অকটেন দেয়া হচ্ছে।যা স্থানীয় প্রশাসনকেও জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি জানিয়েছেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় জেলায় অতিরিক্ত অকটেনের চাহিদা ছিল না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাইকে করে পর্যটকদের আগমন বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেট্রোল পাম্পগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও বান্দরবান একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা হওয়ায় এখানকার নিয়মিত চাহিদার তুলনায় বেশি অকটেন বরাদ্দের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ইতোমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে, সারাদেশে আংশিক অকটেন সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাইকে করে পর্যটকদের আগমন নিরুৎসাহিত করারও পরামর্শ দেন তিনি।

অনলাইন ডেস্ক