প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬ । ৪:১১ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২

আসছে নানা আয়োজনে মারমা সাংগ্রাইং জল উৎসব

অনলাইন ডেস্ক

 

চাইথোয়াইমং মারমা, বিশেষ প্রতিবেদক :

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলা এবারেও সাংগ্রাইং উৎসবের মৈত্রী পানিবর্ষণ অনুষ্ঠিত হবে। বিগত জলকেলি উৎসবে হাজারো মানুষের ঢল উপস্থিতিতে উদ্‌যাপিত হলো মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই। এই সাংগ্রাই উৎসব ঘিরে মারমা তরুন তরুনীরা আমেজ প্রস্তুতি সভাসহ আলাপ আলোচনা চলছে বলে সূত্রে জানা যায়। বিগত বছরে ন্যায় এবারে সুন্দর মূখরিত পরিবেশে মারমা জনগোষ্ঠীর জল কেলি সাংগ্রাই উৎসব সুশৃঙ্খলা শান্তি পরিবেশে উদযাপিত করতে সরকারে বিভিন্ন দপ্তরের কাছে প্রশাসনিক সার্বিক সহযোগিতায় কামনা করেন।

মারমা সাংগ্রাইং জলোৎসবের মধ্যে দিয়ে ১৬ এপ্রিল শুরু হতে যাচ্ছে পাহাড়ের প্রধান অনুষ্ঠান সাংগ্রাইং মহা উৎসব। ঐদিন জলকেলিতে মেতে উঠে মারমা জনগোষ্ঠীরা। নিজের ঐতিহ্য থামি পোষাক পরে তরুণ-তরুণীরা একে অপরের গায়ে পানি নিক্ষেপের মাধ্যমে পুরোনো বছরের সব জীর্ণতাগ্লানি দু:খ কষ্টের রাগ অনুরাগ ধুয়ে মুছে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার এই রীতিকে সাংগ্রাইং জলোৎসব বলা হয়। পার্বত্য চট্রগ্রাম মারমা সংস্কৃতি ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশের লক্ষ্যে প্রতি বছর এই সাংগ্রাই উদযাপিত।

একে জলকেলি বা জল উৎসবও বলা হয়। নানা বয়সের কয়েক হাজার মানুষ এই পানিবর্ষণে অংশ নেন। মাঠে দুই সারিতে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে একদল তরুণ-তরুণী পরস্পরের দিকে পানি ছিটান। পরে বাকি সবাইও তাতে যোগ দেন। পানির বোতল কিংবা ওয়াটার গান—হাতের কাছে যা পান, তা দিয়েই ভেজান একে অপরকে। শহরজুড়ে চলে পানি খেলা। শিশু থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণী এমনকি বয়স্ক মানুষেরাও একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেন। আনন্দ-উদ্দীপনা আর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে বর্ণিল হয়ে ওঠে।

পাহাড়ে আদিবাসী মানুষ পুরনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণের মাধ্যমে তাদের সামাজিক উৎসব বিজু, বিষু, বিহু, বৈসু, সাংগ্রাই, সাংক্রাণ পালন করে। প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর আলাদা আলাদা নামে উদযাপিত এই অনুষ্ঠানকে এক্ষেত্রে বৈসাবি হিসেবে ডাকা হয়। যার মাধ্যমে সব জনগোষ্ঠীর ঐক্যের প্রমাণ পাওয়া যায়। গত ১৪ এপ্রিল থেকে পাঁচ দিনব্যাপী বৈসাবি উৎসবের মাধ্যমে এই পার্বত্য চট্রগ্রামের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সংগঠনের নানান বর্ণিল আয়োজন এবং বাড়িতে বাড়িতে আতিথ্য বিভিন্ন পাহাড়ি খাবার গ্রহণ শেষে মারমা জনগোষ্ঠীরা সাংগ্রাঁইং জলোৎসবের মাধ্যমে শেষ হয়। এই বছরের বৈসাবি উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রামের আনুষ্ঠানিক বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীরা পালিত হবে। অন্যদিকে ঐতিহ্য বাঁশে উঠা খেলা সহ নানা ধরনের খেলা আয়োজন করা হয়ে থাকে।

৩ পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি বান্দরবান খাগড়াছড়ির জেলা জুড়ে পাহাড়ের বসবাসরত মারমা জনগোষ্ঠীরা নিজেদের সংস্কৃতি জীবন মান সাংস্কৃতিক ও র্যালী মধ্যে দিয়ে তুলে ধরতে চাই। বাংলা চৈত্র সংক্রান্তি মাসে ৩ দিন ধরে মারমা সম্প্রদায় পাড়া গ্রামে মহল্লা পল্লী গলিতে ছোট ছোট দল তরুন তরুনী একে অপরে পানির জল ছিটিয়ে আনন্দ মূখরিত মেতে উঠে। ১৩ এপ্রিল মাসে বাংলা চৈত্র সংক্রান্তি নববর্ষের দিনে তরুন তরুনীরা পাড়ায় পাড়ায় দল ভাগ করে গুরুজনদের ও বয়স্কদেরকে গোসল স্নান করে আর্শীবাদ কামনা করেন। ভোর বেলায় পাহাড়ের মারমা সাংগ্রাই ফুল সংগ্রহ করতে তরুন তরুনী দলে দলে বের হন। ঐ সাংগ্রাই ফুল বছরে একবার চৈত্র সংক্রান্তি বাংলা নববর্ষের দিনে ফুল ফুটে। ঐ সাংগ্রাই সংগ্রহ ফুলকে বাড়িতে এনে গৌতম বুদ্ধের কাছে ফুল পূঁজা দান করে, এরপর চারপাশে বাড়িতে ফুল দিয়ে সাজসজ্জা করা হয়ে থাকে। সন্ধ্যাবেলায় তরুণ তরুণীরা বুদ্ধ বিহারে গিয়ে মোমবাতি প্রজ্জলন জলীয় পূজায় দান টাকা পয়সা দান পঞ্চশীল অষ্টশীল গ্রহণ করা হয়ে থাকে। অনুষ্ঠানে মারমা জনগোষ্ঠী বিভিন্ন এলাকার হতে তরুন তরুণীরা নিজের ঐতিহ্য পোষাক থামি ড্রেস পড়ে জলোৎসবে অংশ দেখা যায়। দুই পাশে পানিভর্তি ড্রামের পাশে তরুণ-তরুণীরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ায়। বাঁশি বাজানোর পরপরই শুরু হয় একে-অপরের গায়ে পানি নিক্ষেপ প্রতি বছরের ন্যায় এ বছর মহা সাংগ্রাই শুরু হচ্ছে। পানি নিক্ষেপের ফলে অতীতের সব গ্লানি-দুঃখ-হতাশাকে বিদায় জানিয়ে সুন্দর পরিশুদ্ধ হৃদয়ে নতুন বছরকে বাংলা নববর্ষের চৈত্র সংক্রান্তি ১৪৩২ বরণ করে নেওয়া হবে। এ সময় বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বর্ণিল সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা নিজের ঐতিহ্য পোষাক পরে পরিবেশন করা হবে বলে জানা যায়। এমন আয়োজনে উচ্ছ্বাস আনন্দ মেতে প্রকাশ করেছেন মারমা তরুণ-তরুণী আনন্দ মেতে উঠে নিজস্ব সংস্কৃতির গানে গানে মহা সাংগ্রাই উৎসব পালিত হয়ে থাকে।

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ নিউটন চাকমা, বার্তা প্রধানঃ উথোয়াই চিং মারমা কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন