উচ্চপ্রু মারমা, রাজস্থলী (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :
দেশব্যাপী জ্বালানি সংকট পরিস্থিতি কিছুটা নমনীয় হলেও রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় ভিন্ন বাস্তবতা বিরাজ করছে। এখানে তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে এক শ্রেণির অসাধু খুচরা ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রি করছেন এমন অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন এলাকার সাধারণ ভোক্তাদের কাছ থেকে। এতে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহৃত জ্বালানি সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রাজস্থলী উপজেলার ১নং ঘিলাছড়ি, ২নং গাইন্দ্যা, ৩নং বাঙ্গালহালিয়া এবং ইসলামপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুচরা তেল ব্যবসায়ীরা কোনো নির্ধারিত মূল্য তালিকা অনুসরণ না করে ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করছেন। ফলে একই এলাকায় বিভিন্ন দোকানে ভিন্ন ভিন্ন দামে তেল বিক্রি হওয়ায় বাজারে সৃষ্টি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা।
ভুক্তভোগী ক্রেতারা জানান, প্রতি লিটার অকটেনের দাম কোথাও ১৪০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০, ১৬০, ১৭০, ১৮০, ১৯০— এমনকি ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। আবার কিছু ব্যবসায়ী শুরু থেকেই ১৩০ টাকা করে লিটারপ্রতি তেল বিক্রি করছেন বলে জানা গেছে। এভাবে দামের এই অস্বাভাবিক তারতম্য ভোক্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয় পরিবহন চালকরা বলেন, অতিরিক্ত দামে তেল কিনতে গিয়ে তাদের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে করে যাত্রী পরিবহন খরচও বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ জনগণের ওপর। কৃষিকাজ ও নৌযান চালনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল মানুষজনও এই পরিস্থিতিতে দারুণ বিপাকে পড়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যবসায়ী তেলের কৃত্রিম সংকটের কথা বলে মজুত রেখে পরে বেশি দামে বিক্রি করছেন। আবার কেউ কেউ সুযোগ বুঝে খুচরা বাজারে অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণ করছেন। এতে করে বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর মনিটরিংয়ের অভাবেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, যদি উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত বাজার পরিদর্শন, মূল্য তালিকা যাচাই এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করত, তাহলে এমন নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
এদিকে ভুক্তভোগীরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলেন, জ্বালানি তেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যে এমন অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
উল্লেখ্য, জ্বালানি সংকট সাময়িক হলেও এর সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের অনৈতিক মুনাফা অর্জনের প্রবণতা দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। রাজস্থলীর বর্তমান পরিস্থিতি তারই একটি বাস্তব চিত্র। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে কঠোর নজরদারি, বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এই নৈরাজ্য বন্ধ করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।

অনলাইন ডেস্ক