রিপন মারমা, কাপ্তাই রাঙ্গামাটি :
অনাবৃষ্টি আর তীব্র তাপদাহে শুকিয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদ। পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় দেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে ৩টিই বন্ধ রাখতে হয়েছে।
কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র (কপাবিকে) সূত্রে জানা গেছে, ২৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন এই কেন্দ্রের সবকটি ইউনিট সচল থাকলেও কেবল পানির অভাবে পূর্ণ শক্তিতে উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। রোববার (১২ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ১ ও ২ নম্বর ইউনিট (প্রতিটিতে ৪০ মেগাওয়াট করে মোট ৮০ মেগাওয়াট উৎপাদন হচ্ছে)। ৩টি ইউনিট সম্পূর্ণ বন্ধ। ৮১.০২ মিন সী লেভেল (এমএসএল)। এই সময়ে হ্রদে পানি থাকার কথা ৮৫.৮০ এমএসএল।
কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, “আমাদের সবকটি ইউনিট যান্ত্রিকভাবে সচল। কিন্তু লেকে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। ভারী বৃষ্টিপাত না হলে এই সংকট কাটানো সম্ভব নয়।”
উল্লেখ্য যে, পানির স্তর ৬৮ এমএসএল-এ নেমে এলে উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে।হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, রাঙ্গামাটি দুর্গম উপজেলাগুলোর জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু এবং বাঘাইছড়ি উপজেলার সাথে জেলা সদরের নৌ-যোগাযোগ যে কোনো সময় বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হ্রদের বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর জেগে ওঠায় যাত্রীবাহী লঞ্চ ও পণ্যবাহী বোট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বেশ কিছু এলাকায় পলি জমে হ্রদের গভীরতা কমে যাওয়ায় সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে। হ্রদকেন্দ্রিক মৎস্য আহরণ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট হাজারো মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক সপ্তাহের টানা তাপদাহে হ্রদের পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী বড় ধরনের বৃষ্টিপাত না হওয়া পর্যন্ত এই পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা ক্ষীণ। হ্রদ খনন (ড্রেজিং) না করার ফলেই প্রতিবছর শুকনো মৌসুমে এমন সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয় সচেতন মহলের। সর্বোচ্চ পানি ধারণ ক্ষমতা: ১০৯ এমএসএল বিপজ্জনক স্তর: ৬৮ এমএসএল বর্তমান অবস্থা: ৮১.০২ এমএসএল।

অনলাইন ডেস্ক