উচ্চপ্রু মারমা, রাজস্থলী (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :
রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের ০৭ নম্বর ওয়ার্ডের নোয়াপাড়া এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এক পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাপ্তাই জোন। মানবিক সহায়তার এই উদ্যোগে কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল ২০২৬) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কালামা মারমা (স্বামী: মৃত মংবই মারমা) নামক এক পাহাড়ি নারীর আধাপাকা বসতঘরে আগুনের ঘটনা ঘটে। আগুনে ঘরের ভেতরে থাকা প্রায় সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায় এবং রান্নাঘরের আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের তাৎক্ষণিক প্রচেষ্টা এবং ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত হস্তক্ষেপে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, রান্নাঘরের চুলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। তবে ঘটনার সময় ভুক্তভোগী নারী স্থানীয় বিহারে অবস্থান করায় আগুনের প্রাথমিক পর্যায়ে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কাপ্তাই জোনের আওতাধীন রাজস্থলী ক্যাম্পের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট আবীরের নেতৃত্বে একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন।
এ সময় রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।
কাপ্তাই জোনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এমন দ্রুত ও মানবিক সহায়তায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পাহাড়ি অঞ্চলে দুর্যোগ-দুর্বিপাকে সেনাবাহিনীর এই ধরনের কার্যক্রম স্থানীয়দের মধ্যে আস্থা ও নিরাপত্তাবোধ জোরদার করছে।

মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় দুর্গত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়। রাজস্থলীর এই ঘটনাও তারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারের দুঃসময়ে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিয়ে সেনাবাহিনী আবারও প্রমাণ করেছে—মানুষের কল্যাণে তাদের অঙ্গীকার অবিচল। ভবিষ্যতেও এমন মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

অনলাইন ডেস্ক