সাইফুল ইসলাম, রামগড় :
খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে। এদের মধ্যে অন্যতম রামগড় উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ও প্যানেল মেয়র কাউন্সিলর নুর মোহাম্মদ শামীম। একাধিক গুরুতর মামলায় ওয়ারেন্ট জারি থাকলেও তিনি এখনো পুলিশের ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শামীমের বিরুদ্ধে অপহরণ, লুটপাট, ধর্ষণ, মাদকসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য মিন্টু আলীকে অপহরণসহ বিভিন্ন ঘটনায় তার নাম উঠে আসে। গত ৫ আগস্টের পর এলাকায় থেকে আত্মগোপনে গেলেও ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি আবার প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াতে শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শামীম শুধু প্রকাশ্যে চলাফেরাই করছেন না, বরং তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরকারীদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। একইভাবে তার সহযোগী অন্যান্য আসামিরাও এলাকায় সক্রিয় রয়েছে, যদিও তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই আদালতে মামলা ও ওয়ারেন্ট রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, “নুর মোহাম্মদ শামীম আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট করেছে। এ ঘটনায় আমি ৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছি।” তিনি জানান, ওই মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ালীগের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার ফারুক, আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন মিন্টু, ছাত্রলীগ নেতা পারভেজ মোশাররফ, সহ-সভাপতি ফয়েজ আহমেদ মিলন ও যুবলীগ নেতা দাউদুল ইসলাম।তিনি আরও বলেন, “মামলার কয়েকজন আসামি জামিনে বের হয়ে এবং কেউ পলাতক থেকে আমাকে ও আমার পরিবারকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে। আমি দ্রুত শামীম,কে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।”
অন্যদিকে, এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শামীমের নিয়ন্ত্রণে থাকা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধের বিস্তার ঘটেছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তার পুনরায় ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে রামগড় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আহাদ বলেন, “ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

অনলাইন ডেস্ক