মথি ত্রিপুরা রুমা প্রতিনিধি :
বান্দরবানের রুমা উপজেলার ৪নং গালেংগ্যা ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক দীর্ঘদিনের অবহেলায় ভেঙে পড়ে এখন চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গালেংগ্যা বাজার থেকে গালেংগ্যা রাস্তা মাথা পর্যন্ত, যা থানছি প্রধান সড়কের সাথে সংযুক্ত। প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি এক সময় ইটসলিং (এইচবিবি) করা হলেও গত এক দশকে কোনো ধরনের সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে এটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বেশিরভাগ অংশে ইট উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কাদা-মাটি, কোথাও ভাঙাচোরা অংশ—সব মিলিয়ে সড়কটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাদায় পিচ্ছিল হয়ে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ট্রাক, ভ্যান, মোটরসাইকেল এমনকি বোলেরো গাড়ি চলাচল করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে এবং অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয়দের পায়ে হেঁটেই যাতায়াত করতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহু বছর আগে সড়কটি ইট দিয়ে নির্মাণ করা হলেও এরপর আর কোনো উন্নয়ন হয়নি। ফলে বর্তমানে সড়কটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া, শিশুদের স্কুলে যাতায়াতসহ দৈনন্দিন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই সড়কটি ইউনিয়নের প্রায় ৪৫টি গ্রামের মানুষের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই পথ দিয়ে উপজেলা ও জেলা শহরে যাতায়াত করেন। পাশাপাশি বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাওয়ার জন্যও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক।
এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষকরা সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে পারছেন না এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া জরুরি রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় জীবনঝুঁকি বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের রুমা বা বান্দরবান সদর হাসপাতালে নিতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়কের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সড়কটি উন্নত করা হলে ব্যবসার প্রসার ঘটবে এবং এলাকার অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কটি এখন দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে উঠেছে এবং দ্রুত পাকা করা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত সড়কটি পিচঢালাই বা কার্পেটিংয়ের আওতায় এনে চলাচল উপযোগী করতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অনলাইন ডেস্ক