প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ । ১:০৩ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩

পিপাসার্ত কাপ্তাই হ্রদে নেই পানি, গ্রিডে নেই বিদ্যুৎ, পর্যটনে খরা

অনলাইন ডেস্ক

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটি তীব্র দাবদাহ, কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যাওয়া এবং নজিরবিহীন বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাঙ্গামাটি কাপ্তাই অঞ্চল। একদিকে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন সর্বনিম্ন পর্যায়ে ঠেকেছে, অন্যদিকে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হাজারো মৎস্যজীবী। পর্যটননির্ভর এই জনপদ এখন কার্যত পর্যটকশূন্য, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে চরম স্থবিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পানির অভাবে থমকে গেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন।

​বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাঙ্গামাটি অঞ্চলে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই তীব্র গরমে একদিকে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে, অন্যদিকে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন তলানিতে ঠেকেছে।
​কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে মাত্র একটি ইউনিট চালু রয়েছে। যা থেকে মাত্র ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে—যা স্বাভাবিক সক্ষমতার তুলনায় নগণ্য। ফলে রাঙ্গামাটি ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে দিন-রাত দফায় দফায় লোডশেডিং হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষা কার্যক্রমে।
​নৌ-চলাচল ব্যাহত ও মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞা
​হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ খাল ও উপখালগুলোতে নৌ-চলাচল বন্ধ হওয়ার মতো। এতে কৃষিপণ্য পরিবহনে ব্যয় ও সময় দুই-ই বেড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন খাল খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। এরই মধ্যে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন রক্ষায় ২৫ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে হ্রদে তিন মাসের জন্য মাছ ধরা, পরিবহন ও বিপণনে নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের ওপর প্রচণ্ড অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি খাদ্য সহায়তার কথা জানানো হলেও জেলেরা একে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে দাবি করেছেন।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি কাপ্তাই এখন পর্যটকশূন্য। তীব্র গরম, হ্রদে নাব্যতার সংকট এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পর্যটকরা কাপ্তাই বিমুখ হয়ে পড়েছেন। ফলে হ্রদকেন্দ্রিক বোট মালিক, হোটেল-রিসোর্ট ও স্থানীয় দোকানদাররা লোকসানের মুখে পড়েছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, অনুকূল পরিবেশ ও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না থাকায় পর্যটন খাতে এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

​বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত। বৃষ্টি না হলে হ্রদের পানির স্তর বাড়বে না, আর পানি না বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়া সম্ভব নয়।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫টি ইউনিটের মধ্যে ১টি সচল (মাত্র ৪০ মেগাওয়াট) হ্রদের পানি অস্বাভাবিক নিম্নস্তর, নৌ-চলাচল বিঘ্নিত,মৎস্য খাত ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু (২৫ এপ্রিল থেকে)

প্রকৃতি, অর্থনীতি ও জীবিকার এমন চতুর্মুখী সংকট কাটাতে এখন বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টির দিকেই চেয়ে আছে কাপ্তাইয়ের সাধারণ মানুষ।

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ নিউটন চাকমা, বার্তা প্রধানঃ উথোয়াই চিং মারমা কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন