প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ । ২:২৭ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

বর্ষাকালে জনসচেতনতা জরুরি, অসতর্কতায় বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

অনলাইন ডেস্ক

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা প্রতিনিধি :

বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। ঋতুচক্রের এই বৈচিত্র্যের মধ্যে বর্ষাকাল যেমন প্রকৃতিকে সজীব, সবুজ ও প্রাণবন্ত করে তোলে, তেমনি সামান্য অসতর্কতা ও অবহেলায় ডেকে আনে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসজুড়ে চলা এ মৌসুমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষাকালে অপ্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকাই নিরাপদ। ভারী বৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও ঝড়ো আবহাওয়ায় চলাচল করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। রাস্তায় পানি জমে থাকলে খোলা ম্যানহোল, ড্রেন বা গর্ত চোখে না পড়ায় যে কোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন—যাদের মধ্যে কৃষক, শ্রমজীবী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার সাধারণ মানুষও রয়েছেন।

এ সময় পানিতে ডুবে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি, ছেঁড়া তার বা ত্রুটিপূর্ণ সংযোগ মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অসতর্কভাবে এসবের সংস্পর্শে এলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে নিয়মিত। পাশাপাশি নদী, খাল-বিল ও পাহাড়ি ছড়াগুলো বর্ষায় ভয়াবহ রূপ নেয়; হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।

পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সেসব এলাকায় চলাচলে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। ভাঙাচোরা সেতু ও দুর্বল সড়ক ব্যবহার থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বজ্রপাত বর্ষাকালের অন্যতম নীরব ঘাতক হিসেবে চিহ্নিত। খোলা মাঠ, নদীর তীর কিংবা উঁচু স্থানে অবস্থান বজ্রপাতের সময় অত্যন্ত বিপজ্জনক। এ সময় বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। নিরাপদ থাকার জন্য ঘরের ভেতরে অবস্থান করা, দরজা-জানালা বন্ধ রাখা এবং প্রয়োজন ছাড়া বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস নিয়মিত অনুসরণ করা, জরুরি যোগাযোগ নম্বর হাতের কাছে রাখা, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি মজুত রাখা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রস্তুত রাখা—এসব প্রস্তুতি দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বন্যাপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের আগাম নিরাপদ আশ্রয়ের পরিকল্পনা করে রাখা অত্যন্ত জরুরি। সচেতন মহলের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলেও সচেতনতা ও পূর্বপ্রস্তুতির মাধ্যমে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

বর্ষার সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ নিউটন চাকমা, বার্তা প্রধানঃ উথোয়াই চিং মারমা কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন