প্রকাশের সময়: শনিবার, ২ মে, ২০২৬ । ৬:১১ এএম প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ৩ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

চট্টগ্রামে উদীচীর উদ্যোগে মহান মে দিবস উদযাপনে আন্তর্জাতিক বিশ্বতান টীম

অনলাইন ডেস্ক

 

চাইথোয়াইমং মারমা, বিশেষ প্রতিবেদক:

“রক্তে ধোয়া মে তোমায় সেলাম’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে আজ চট্টগ্রাম শাহআমানত মার্কেট সংলগ্ন আমতল চত্বরে উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের আয়োজনে মহান মে দিবসের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

১ মে সকাল ১০ টায় উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক জসীম চৌধুরী সবুজের সভাপতিত্বে এবং সাধারন সম্পাদক এডভোকেট অসীম বিকাশ দাশের সঞ্চালনায় আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সহ-সভাপতি ডা: অসীম কুমার চৌধুরী, চট্টগ্রাম থিয়েটার এর দলপ্রধান এডভোকেট দীপক চৌধুরী, ভাস্কর ধর, লেকচারার নরেন সাহা প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, মে দিবস হলো দুনিয়ার মেহনতী মানুষের সঙ্কল্প গ্রহণের দিন। এই সঙ্কল্প হলো সামাজিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে শ্রেণী বৈষম্যের বিলোপসাধন। মে দিবস দুনিয়ার শ্রমিকের এক হওয়ার ব্রত। আন্তর্জাতিক সংগ্রাম আর সৌভ্রাতৃত্বের দিন, শ্রমজীবী মানুষের উৎসবের দিন, জাগরণের গান, সংগ্রামে ঐক্য ও গভীর প্রেরণা। মে দিবস শোষণ মুক্তির অঙ্গীকার, ধনকুবেরের ত্রাস, সমাজতন্ত্র গড়ার নতুন শপথ। মে দিবস হলো কাজের সময় হ্রাস ও মজুরি বৃদ্ধির এক আন্দোলন এবং দুনিয়ার শ্রমিক সংহতি দিবস, পুঁজিবাদী শোষণ মুক্তির সংগ্রামী শপথ। শ্রমিকশ্রেণীর আন্দোলন থেকেই উঠে এসেছে এইদিনটি। আন্দোলনের পথ কখনই মসৃণ ছিল না, মসৃণ থাকেও না, সময়ের নিয়মেই ছিল নানা ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাতে, জুলুম অত্যাচারে, প্রতিরোধে, ধর্মঘটে, মিছিলে, সংগ্রামী ঐক্যে রক্তলাঞ্ছিত। মে দিবস একদিনে এই আন্তর্জাতিক চেহারা পায়নি। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। রয়েছে অনেক রক্তঝরার কাহিনী। জন্মলগ্ন থেকেই শ্রমিকশ্রেণীর ইতিহাস সংগ্রামের ইতিহাস। শ্রমিকশ্রেণীকে উদয়াস্ত কাজ করতে হবে আঠারো ঘণ্টা, কুড়ি ঘণ্টা পর্যন্ত ছিল কাজের সময়-সীমা এই অসম সীমারেখার প্রতিবাদ জানিয়েই ১৮৮৬ সালে শিকাগো শহরের হে মার্কেটে শ্রমিকশ্রনীর প্রতিবাদ এবং পরবর্তীতে রক্তাক্ত আন্দোলনের মধ্য দিয়েই শ্রমিক দিবসের প্রতিষ্ঠা পায়।

উক্ত আয়োজনে, শ্রমিকের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গণসংগীত পরিবেশন করেন উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের শিল্পীকর্মীরা, প্রতিবাদী আবৃত্তি পাঠ করেন শান্তা সেন গুপ্ত, একক সংগীত পরিবেশন করেন সীমা দাশ। স্কেচ গ্যালারি নন্দনের পরিবেশনায় পথনাটক “গুপ্তবিদ্যা “মঞ্চস্থ করা হয়।

সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন “বিশ্বতান ”এর শিল্পীবৃন্দ, নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনা-আন্তর্জাতিক বিশ্বতান নৃত্য পরিচালনা -হৃদিতা দাশ পূজা, নৃত্য পরিচালনায়-নরেন সাহা, সংগীত পরিচালনা – নিভূ সেন, তবলা সংগীতে-নরেন সাহা, তবলা সংগীতে-দূর্জয় দাশ, আবৃত্তি – রুনা বড়ুয়া, আবৃত্তি – আলেয়া বড়ুয়া, জিপসি সংগীতে-পম্পি চৌধুরী।

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ নিউটন চাকমা, বার্তা প্রধানঃ উথোয়াই চিং মারমা কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন