ষ্টাফ রিপোর্টার :
রাঙ্গামাটিতে রাজনীতির মাঠে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের জেলা কমিটির। অভিযোগ উঠেছে, কোনো ধরনের নিয়ম-নীতি বা তৃণমূলের মতামতের তোয়াক্কা না করে স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে একটি ভুয়া কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই পকেট কমিটি গঠনে’র প্রতিবাদে এবং তা বাতিলের দাবিতে এখন উত্তাল স্থানীয় নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ। সম্প্রতি রাঙ্গামাটি জেলা তাঁতী দলের একটি নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই কমিটি প্রকাশ হওয়ার পরপরই শুরু হয় চরম অসন্তোষ ক্ষোভের অভিযোগ উঠেছে।
একটি প্রভাবশালী মহল নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের নাম ব্যবহার করে এবং তাদের স্বাক্ষর জাল করে কেন্দ্রের অনুমোদনকৃত-সিল মেরে নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ৭ মে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগের সচিত্র প্রমাণ সহ তুলে ধরেন জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আমরা জানতাম না যে আমাদের নাম কোনো কমিটিতে দেওয়া হয়েছে। কাগজে আমাদের যে স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে, তার সাথে বাস্তবের কোনো মিল নেই। এটি সম্পূর্ণ একটি জালিয়াতি চক্রের অরাজনৈতিক এবং অমানবিক জুলুমের কাজ। হাতে লেখা একটি তালিকায় দেখা যায়, সদর উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের ১৭ জন সিনিয়র নেতা এই ভুয়া প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন রুবেল চাকমা (সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সদর উপজেলা), যিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন তার স্বাক্ষরটি জাল করা হয়েছে। সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক বিপুল চাকমা এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সাঈদুল ইসলাম। রাঙ্গামাটি পৌর শাখার আহ্বায়ক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম ও জেলা তাঁতী দলের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।
এছাড়াও কুতুকছড়ি ইউনিয়ন ও বিভিন্ন ইউনিটের প্রতিনিধিরা এই “ভুয়া” কমিটির বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তালিকায় স্বাক্ষর করা নেতারা অভিযোগ করেছেন, দলের দুর্দিনে যারা মাঠে ছিলেন, তাদের বাদ দিয়ে এই বিতর্কিত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ব্যানারে বড় অক্ষরে লেখা ছিল স্বাক্ষর জালিয়াতি করে রাঙামাটি জেলা তাঁতী দলের ভুয়া কমিটির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, তৃণমূলকে বাদ দিয়ে কোনো কমিটি সফল হতে পারে না। যারা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে পদ দখল করতে চায়, তারা দলের বন্ধু হতে পারে না। এই কমিটি বাতিল না হলে রাঙামাটিতে তাঁতী দলের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। নেতাকর্মীদের দাবি, এই ধরণের কর্মকাণ্ড দলের কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয় যেন দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে এই অবৈধ কমিটি বাতিল করা হয়। নেতৃবৃন্দরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি এই পকেট কমিটি বাতিল করে ত্যাগী ও সৎ কর্মীদের মূল্যায়ন করা না হয়, তবে আগামীতে রাঙ্গামাটির প্রতিটি উপজেলায় কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে এবং গণ-পদত্যাগের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।
পার্বত্য জনপদের এই রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে এখন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাই আগামী দিনের জন্য সকলকে সচেতন ও সোচ্চার হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।

অনলাইন ডেস্ক