প্রকাশের সময়: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬ । ২:০৫ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার সংগ্রাম, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে ৪০ শিক্ষার্থীর পাঠদান

অনলাইন ডেস্ক

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম ৪নং গালেংগ্যা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড কুরাং পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সংকট ও শিক্ষক স্বল্পতার মধ্য দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়টি সরকারি স্বীকৃতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন পেলে এলাকার শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীর শিক্ষার সুযোগ আরও সুদৃঢ় হবে। আজ শনিবার (৩০ মে) সরেজমিনে এই স্কুলের সাইনবোর্ড দেখে জানা যায় যে এটি শিশুদের জন্য শিক্ষা প্রকল্পের আওতায় ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি পরিচালনা করছে হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন, সহযোগিতায় রয়েছে কোবরা অ্যান্ড মঙ্গুজ চ্যারিটি।

বিদ্যালয়টি রুমা উপজেলার ৪নং গালেংগ্যা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড কুরাং পাড়ায়, থানচি প্রধান সড়কের আনুমানিক ১ কিলোমিটার দূরত্বের অবস্থিত।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুইতন ম্রো জানান, তিনি প্রায় ১০ থেকে ১১ বছর ধরে বিদ্যালয়টিতে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, আমি না থাকলে অনেক আগেই স্কুলটি বন্ধ হয়ে যেত। বর্তমানে মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে স্কুলের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। একজন নারী শিক্ষককে স্থানীয় অভিভাবকরা বেতন দেন। অনেক সময় আর্থিক সংকটের কারণে বেতন প্রদান করতেও হিমশিম খেতে হয়।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা যথেষ্ট। শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। আশপাশের দূরবর্তী পাড়া থেকেও শিক্ষার্থীরা এখানে এসে পড়াশোনা করে। সরকার যদি এখানে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন বা একটি নতুন বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করে দেয়, তাহলে এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সন্তানরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ৫নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার জনপ্রতিনিধি রেংওয়ে ম্রো বলেন, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর বহু বছর পেরিয়ে গেলেও অবকাঠামোগত উন্নয়নের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু শিক্ষক আছেন মাত্র দুইজন। একজনকে স্কুল পরিচালনা কমিটি এবং অপরজনকে হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন সম্মানী ভাতা দিয়ে পরিচালনা করছে।

কুরাং পাড়ার কারবারি মাংয়া ম্রো বলেন, শিক্ষার্থীর তুলনায় বেঞ্চ-টেবিল খুবই অপ্রতুল। অনেক আসবাবপত্র ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যালয়ের টিনের ছাদে অসংখ্য ছিদ্র হওয়ায় বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি শ্রেণিকক্ষে পড়ে। এতে পাঠদান ব্যাহত হয়। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, একটি নতুন বিদ্যালয় ভবন এবং সরকারি বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা করা হোক।

বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কাইংওয়াই ম্রো জানায়, আমাদের স্কুলের অবস্থা খুব খারাপ। বেঞ্চ-টেবিল ভাঙা, ঠিকমতো বসতে পারি না। বৃষ্টি হলে খাতা-কলম ভিজে যায়। নতুন স্কুল ভবন হলে আমরা ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারব। বর্তমান ভবনটি যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বলে ভয় হয়।

একজন অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস হয় এবং প্রতিবছর ভালো ফলাফলও আসে। কিন্তু অবকাঠামোগত দুরবস্থার কারণে শিক্ষার্থীরা নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

এ বিষয়ে হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর বিদ্যাপূর্ণ চাকমা বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আলোচনা করব। গ্রামের মানুষ সমন্বিতভাবে এগিয়ে এলে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন বা নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে। এ  বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে এবং সমন্বিতভাবে কাজ করার আশ্বাস পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের আশা, দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটিয়ে কুরাং পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হলে দুর্গম অঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ঘাগড়া, কাউখালী, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।

কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন