প্রকাশের সময়: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬ । ৫:১৭ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঝড়ে গাছের ডাল ভেঙে ঘরের ওপর, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেন বৃদ্ধ জিংআলহ্ বম

অনলাইন ডেস্ক

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের সময় ঘরের ওপর বড় আকৃতির গাছের ডাল ভেঙে পড়লেও অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেন ৮১ বছর বয়সী জিংআলহ্ বম। ঝড়ে তাঁর বসতঘর ক্ষতিগ্রস্থের পাশাপাশি বাগানের আম ও অন্যান্য ফসলেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

শনিবার (৩০ মে) সকাল ১০টার দিকে রুমা সদর ইউনিয়নের এডেন রোড পাড়ায় নিজ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ঘটনার বর্ণনা দেন জিংআলহ্ বম। তিনি জানান, ঝড়ের একদিন আগে পাশের বাড়ির এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মারা যান। প্রতিবেশী হিসেবে তিনি মৃত ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে লাশের পাশে বসে ছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নিজ ঘরের দিকে রওনা দেন। বয়সের কারণে লাঠির সাহায্যে হাঁটতে হাঁটতে তাঁর ঘরে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে।

জিংআলহ্ বম বলেন, ঘরের বারান্দায় পা দিয়ে ভেতরে ঢুকার মুহূর্তেই বিকট শব্দে একটি বড় আমগাছের ডাল ভেঙে ঘরের ছাদের ওপর পড়ে। ডালটি আমার কানের পাশ ঘেঁষে পড়ে। মনে হয়েছিল ঘরটি ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠছে। ঈশ্বরের দোয়ায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছি। আর কয়েক সেকেন্ড আগে হলে হয়তো আমিও লাশ হয়ে যেতাম।

স্থানীয়রা জানান, ওই দিনের প্রবল ঝড়ে রুমার বিভিন্ন এলাকার বাগানের আম ও অন্যান্য ফল-ফসল ব্যাপকভাবে ঝরে পড়ে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, জিংআলহ্ বমের ঘরের একপাশের ছাদ গাছের ডাল পড়ে দেবে গেছে। পরে পাড়াবাসীর সহযোগিতায় ডালটি সরিয়ে ফেলা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত ছাদ এখনো মেরামত করা হয়নি। রুমা সদর ইউনিয়নের এডেন রোড পাড়ার বাসিন্দা ও পাড়া প্রধান (কারবারি) জিংআলহ্ বম বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করেন। তাঁদের ছেলে-মেয়েরা বিয়ে করে আলাদা সংসার গড়েছেন। বার্ধক্যে স্বামী-স্ত্রী দুজনই বাগানের আয়ের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, ঝড়ে বাগানের আমসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরও ভেঙে গেছে। ঘর মেরামতের জন্য ঢেউটিন প্রয়োজন। কিন্তু কোথা থেকে পাব বুঝতে পারছি না। বয়সের কারণে ঠিকমতো হাঁটতেও পারি না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছেও যেতে পারছি না। কেউ যদি মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে ভাঙা ঘরটি মেরামত করতে পারব।

স্থানীয়দের দাবি, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই বৃদ্ধ দম্পতির পাশে দাঁড়াতে সরকারি ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ঘর মেরামতের সহায়তা প্রদান করা হলে শেষ বয়সে নিরাপদ আশ্রয়ে বসবাস করতে পারবেন তারা।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ঘাগড়া, কাউখালী, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।

কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন