প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬ । ৩:৩৫ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পার্বত্য চট্টগ্রামের বদলে যাওয়া প্রকৃতি ; ক্যামেরার লেন্সে এক অশনি সংকেত

অনলাইন ডেস্ক

 

ছন্দ সেন চাকমা :

​আজ ৫ জুন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পৃথিবীর ফুসফুসখ্যাত পাহাড় ও বন আজ নিজেই যেন রুগ্ন। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি নানা উন্নয়ন প্রকল্পের মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে গত কয়েক বছরে আমি যে প্রাকৃতিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছি, তা কেবল উদ্বেগজনক নয়, রীতিমতো ভীতিজাগানিয়া।

​আমার ক্যামেরার লেন্সে ধরা পড়েছে পাহাড়ের বুক চিরে চলা উন্নয়নের নামে আগ্রাসন এবং প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর এর ভয়াবহ প্রভাব। পাহাড়ের কোলে দাঁড়িয়ে আমি যখন এই অঞ্চলের সামগ্রিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের বর্তমান চিত্র ধারণ করছি, তখন মনের অজান্তেই ভেসে উঠছে পুরোনো সেই সবুজের দিনগুলোর স্মৃতি।

​সেই সময় আর বর্তমান সময়ের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের যে বিস্তর ব্যবধান, তা আজ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। আগে পাহাড়ের যে অংশগুলোতে ঘন অরণ্য আর বুনো ফুলের সমারোহ থাকত, এখন সেখানে অধিকাংশ স্থানেই দেখা মেলে কেবল ইট-পাথরের কাঠামোর। অনিয়ন্ত্রিত পাহাড় কাটা, নির্বিচারে গাছ নিধন এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ আমাদের এই পার্বত্য অঞ্চলকে জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

​প্রকৃতি তার আপন গতি হারিয়েছে। বর্ষায় এখন আর পাহাড়ের সেই চিরচেনা রূপ নেই, বরং অতিবৃষ্টি আর পাহাড়ধসের আশঙ্কা নিত্যসঙ্গী। জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে; অনেক দুষ্প্রাপ্য প্রজাতি এখন কেবলই ইতিহাসের পাতায়।

​বিশ্ব পরিবেশ দিবসের এই দিনে আমাদের সচেতন হওয়ার সময় এসেছে। উন্নয়ন মানেই প্রকৃতিকে ধ্বংস করা নয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূ-প্রকৃতির বৈশিষ্ট্য রক্ষা করে টেকসই উন্নয়নের রূপরেখা প্রণয়ন করাই এখন সময়ের দাবি। আমার ক্যামেরার প্রতিটি ফ্রেম আজ আর্তনাদ করে বলছে, প্রকৃতিকে রক্ষা করতে না পারলে, আমরাও রক্ষা পাব না।

 

​লেখক পরিচিতি : মাঠপর্যায়ে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করা একজন নিবেদিতপ্রাণ পর্যবেক্ষক।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ঘাগড়া, কাউখালী, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।

কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন