প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬ । ১১:৪৬ এএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩

রুমায় ২০১৯ সালের আশ্রয়ণ ঘর এখনো অসম্পূর্ণ, দায় নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

অনলাইন ডেস্ক

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমা উপজেলার ৪ নং গালেংগ্যা ৫ নং ওয়ার্ড কুরাং (পালে) পাড়ার বাসিন্দা মাংচ্যং ম্রো অভিযোগ করেছেন, ২০১৯ সালে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় তার জন্য নির্মাণ শুরু হওয়া ঘরের কাজ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। দীর্ঘ প্রায় সাত বছর ধরে ঘরটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় তিনি পরিবার নিয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।

মাংচ্যং ম্রো জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পাওয়ার পর তিনি একটি নিরাপদ ও স্থায়ী আবাসনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। নতুন ঘরে উঠবেন এই আশায় নিজের পুরোনো ঘর ভেঙে ফেলেন। পরে বাধ্য হয়ে পাড়ার নিচে অন্য জায়গায় টেলপার দিয়ে একটি অস্থায়ী কুঁড়েঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও সরকারি ঘরের নির্মাণকাজ শেষ হয়নি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বাজেট শেষ হয়ে গেছে বলে আমাকে ঘর সম্পূর্ণ করে দেওয়া হয়নি। বর্তমান সরকারের কাছে আমার দাবি, ঘরটির বাকি কাজ দ্রুত শেষ করে দেওয়া হোক। ঘরে ঢালাই পিলার দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেখানে ইটের পিলার করা হয়েছে। এমনকি রডও আমি নিজ খরচে কিনে দিয়েছি। তারপরও কাজ শেষ করে দেওয়া হয়নি।”

এ বিষয়ে রুমা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের সহকারী কর্মকর্তা জিবংঙ্কর বলেন, ঘরটির জন্য মোট বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা মিস্ত্রির খরচ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইট, সিমেন্ট, বালু, কংকর, টিনসহ প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে। তবে ঘরের মালিককে ছাদের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠ ও বাটাম সরবরাহ করার কথা ছিল, যা তিনি দিতে পারেননি। ফলে কাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি।

ঢালাই পিলারের পরিবর্তে ইটের পিলার ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এত সীমিত বাজেটে ঢালাই পিলার দেওয়া সম্ভব নয়। সাধারণত ফাউন্ডেশনযুক্ত ঘর নির্মাণের ক্ষেত্রে ঢালাই পিলার ব্যবহার করা হয়। সরকারি নির্দেশনা ও স্টিমেট অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল। ঘরের মালিক প্রয়োজনীয় কাঠ ও বাটাম সরবরাহ করলে আমরা পুনরায় উদ্যোগ নিয়ে বাকি কাজ শেষ করে দেব।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রেংওয়ে ম্রো বলেন, এই প্রকল্পের কাজ আমার দায়িত্ব গ্রহণের আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। তাই বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। তবে ঘরটির কাজ শেষ হলে উপকারভোগী পরিবারটি অনেক উপকৃত হবে। কারণ তারা অত্যন্ত অসহায় ও দরিদ্র।

অন্যদিকে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে রুমা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. কাওসার আলী বলেন, এই কাজটি আমার দায়িত্ব গ্রহণের আগের। বিষয়টি সম্পর্কে আমার বিস্তারিত জানা নেই। এ বিষয়ে অফিস সহকারী জিবংঙ্কর ভালো বলতে পারবেন।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর অসম্পূর্ণ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। উপকারভোগী মাংচং ম্রো দ্রুত ঘরটির নির্মাণকাজ শেষ করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ঘাগড়া, কাউখালী, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।

কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন