প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬ । ১:৪৫ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

আলীকদমে পাহাড়ি ঢলে কৃষিতে কোটি টাকার ক্ষতি, দিশেহারা কৃষক ‎

অনলাইন ডেস্ক

‎
‎সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা,
‎আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি :
‎
‎টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় কৃষিখাতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার চারটি ইউনিয়নের অন্তত ৪৫৮ হেক্টর কৃষিজমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে আমন ও আউশ ধান, বিভিন্ন মৌসুমি সবজি এবং পেঁপে বাগান। এতে ধারদেনা করে চাষাবাদ করা শত শত কৃষক আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
‎
‎উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে আলীকদম সদর, চৈক্ষ্যং, নয়াপাড়া ও কুরুকপাতা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি প্লাবিত হয়। এতে এ পর্যন্ত চার ইউনিয়নে মোট ৪৫৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে।
‎
‎সরেজমিনে দেখা যায়, নিচু এলাকার অধিকাংশ কৃষিজমি এখনও পানির নিচে। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় বীজতলা, পেঁপে বাগান এবং বেগুন, করলা, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়স, শসা ও মরিচসহ বিভিন্ন সবজিক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষকদের বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমে করা বিনিয়োগও পানিতে ভেসে গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
‎
‎ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কাউসার উদ্দিন বাপ্পি, মো. বেলাল ও মো. আবছার বলেন, ঋণ ও ধারদেনা করে সবজি ও পেঁপে চাষ করেছিলেন। কিন্তু বন্যার পানিতে সব ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন ঋণ পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। তারা দ্রুত কৃষি প্রণোদনা ও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার দাবি জানান।


‎
‎চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের পাট্টাখাইয়া পাড়া কৃষক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. মিজবাহ উদ্দিন বলেন, তাঁদের সমিতির ১০০ থেকে ১৫০ জন সদস্যের বেশির ভাগই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক। ঋণ করে চাষাবাদ করলেও এবারের বন্যায় প্রায় সব ফসল নষ্ট হয়েছে। সরকারি সহায়তা ছাড়া তাঁদের পক্ষে আবার চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হবে।
‎
‎আলীকদম উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সোহেল রানা বলেন, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে গ্রীষ্মকালীন সবজি, পেঁপে, বীজতলা, আউশ ও আমন ধান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে কৃষি প্রণোদনা, সবজির বীজ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করা সম্ভব হবে।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ঘাগড়া, কাউখালী, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।

কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন