প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬ । ৮:০৬ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

বান্দরবান রোয়াংছড়িতে মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট আছে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নেই।

অনলাইন ডেস্ক

বান্দরবান সংবাদদাতা:

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার ২নং তারাছা ইউনিয়নের ছাংইঙ্গা দানেশ পাড়া গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা ছমদ আলী। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি সেক্টর-১ এর অধীনে ভারতে ট্রেনিং নিয়ে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ করেছেন। তার হাতে রয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রত্যায়ন পত্র, যেখানে ১৫৩নং গ্রুপ কমান্ডার জলিল বর্কসু স্বাক্ষর করে তার বীরত্বের সাক্ষ্য দিয়েছেন।

কিন্তু এত বছর পরেও সেই সার্টিফিকেটই এখন তার পরিবারের জন্য একমাত্র সম্বল। রাষ্ট্রের স্বীকৃতি থাকা সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাননি এই মুক্তিযোদ্ধা।

প্রত্যায়ন পত্রে উল্লেখ আছে, নাম: ছমদ আলী, পিতা: রবত আলী, গ্রাম: ছাংইঙ্গা দানেশ পাড়া, ইউনিয়ন: ২নং তারাছা, থানা: রোয়াংছড়ি, জেলা বান্দরবান সেক্টর ১, এফএফ নং ০২৪।

স্থানীয়রা জানান, দেশ স্বাধীন করতে যিনি জীবন বাজি রেখেছিলেন, বার্ধক্যে এসে তিনি এখন চিকিৎসা, ভাতা, বাসস্থানসহ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্ধারিত কোনো সহায়তাই পাচ্ছেন না। কাগজপত্র থাকার পরও নানা জটিলতা ও অবহেলার কারণে ফাইল আটকে আছে বলে পরিবারের অভিযোগ।

ছমদ আলীর পরিবারের দাবি, “বাবা যুদ্ধ করেছেন দেশের জন্য। আজ আমরা শুধু চাই রাষ্ট্র যেন তার প্রাপ্য সম্মান ও অধিকারটুকু দেয়। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, স্বাস্থ্যসেবা আর একটি নিরাপদ বাসস্থান।

বিষয়টি রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বান্দরবান জেলা প্রশাসক এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জরুরি নজরে আনার অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা বলছেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা যদি অবহেলিত থাকেন, তাহলে প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার ইতিহাস কী বার্তা দেবে?

দেশের জন্য যারা রক্ত দিয়েছেন, তাদের শেষ বয়সটা যেন সম্মানের সাথে কাটে। এটাই এখন তারাছা ইউনিয়নবাসীর প্রত্যাশা।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ঘাগড়া, কাউখালী, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।

কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন