প্রকাশের সময়: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ । ২:১০ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

রুমার বেথেল পাড়ায় পানির সংকট নিরসনে ১ লাখ লিটারের ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণ

অনলাইন ডেস্ক

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা প্রতিনিধি :

বান্দরবানের রুমা উপজেলার বেথেল পাড়ায় দীর্ঘদিনের পানির সংকট নিরসনে ১ লাখ লিটার ধারণক্ষমতার একটি ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রুমা জোন। এতে পাড়ার ছয় শতাধিক মানুষের দীর্ঘদিনের পানির দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হয়েছে।

বেথেল পাড়াবাসীর জন্য দীর্ঘদিন ধরেই শুষ্ক মৌসুমে সুপেয় পানির সংকট ছিল অন্যতম বড় সমস্যা। বিশেষ করে নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এ সংকট তীব্র আকার ধারণ করত। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ মিটার দূরের পাহাড়ি ঝিরি থেকে পানি সংগ্রহ করে দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে বাড়িতে ফিরতে হতো। আবার শুষ্ক মৌসুমে ঝিরির পানি শুকিয়ে গেলে দেখা দিত তীব্র পানির সংকট।

পাড়াবাসীর এ দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পানির সংকটের স্থায়ী সমাধানে এগিয়ে আসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এলাকা পরিদর্শনকালে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বান্দরবান সেনা রিজিয়নের দিকনির্দেশনায় রুমা জোনের উদ্যোগে ১ লাখ লিটার ধারণক্ষমতার ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়।

সেনাসদস্য ও পাড়াবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও তত্ত্বাবধানে দ্রুততম সময়ে নির্মাণকাজ শেষ হয়। বর্তমানে নির্মিত রিজার্ভার থেকে পাড়াবাসী ছাড়াও পথচারীরা সহজেই পানি সংগ্রহ করতে পারছেন।

স্থানীয় কয়েকজন নারী জানান, আগে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ মিটার দূরের পাহাড়ি ঝিরি থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করে উঁচু পাহাড় বেয়ে বাড়িতে ফিরতে হতো। এতে তাদের অনেক কষ্ট হতো। শুষ্ক মৌসুমে ঝিরি শুকিয়ে গেলে পানির সংকট আরও বেড়ে যেত। ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণের ফলে তাদের সেই দুর্ভোগ অনেকটাই দূর হয়েছে।

বেথেল পাড়ার বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য লাল লুঙ থাং বম বলেন, আমাদের যেকোনো প্রয়োজনে আমরা সেনাবাহিনীকে পাশে পাই। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের কাছে আস্থার প্রতীক। ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণের ফলে পাড়াবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিনের পানি সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য আমরা সেনাবাহিনীর কাছে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

রুমা উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম পাড়ায় পানির সংকট নিরসনেও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আর্থাপাড়ায় ওয়াটার পাম্প ও জেনারেটর প্রদান, হ্যাপিহিল পাড়ায় ২ হাজার লিটার, চায়ড়াগ্র পাড়ায় ৫ হাজার লিটার এবং সালেম পাড়ায় ১ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার পানির ট্যাংক প্রদান এবং বিভিন্ন পাড়ায় ওয়াটার পয়েন্ট নির্মাণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন রুমা জোনের জোন কমান্ডার। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জাতিগোষ্ঠীর মানুষই বাংলাদেশের নাগরিক। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি বিভেদ ও বিবাদের চক্রান্ত রুখে দিয়ে সম্প্রীতি সুনিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

পাড়াবাসীর ভাষ্য, নতুন ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণের ফলে দীর্ঘদিনের পানির কষ্ট অনেকটাই কমেছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে সুপেয় পানির জন্য দূরের পাহাড়ি ঝিরির ওপর নির্ভরশীলতা কমবে বলে আশা করছেন তারা।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ঘাগড়া, কাউখালী, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।

কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন