প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ । ২:৩৭ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

কাপ্তাইয়ে চাঞ্চল্যকর হাসিনা বেগম হত্যা মামলা: প্রধান আসামির ফাঁসির আদেশ

অনলাইন ডেস্ক

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

​রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে চাঞ্চল্যকর হাসিনা বেগম ওরফে সুমি হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত মোহাম্মদ মাহিবুর কামাল প্রকাশ মোহিবুল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় মৃত্যুদণ্ডের রায়।

​মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। ২০২২ সালের ১১ মার্চ সন্ধ্যায় রাঙ্গুনিয়ার দোভাষী বাজারের ভাড়া বাসা থেকে কাপ্তাই নতুন বাজারে যান হাসিনা বেগম।

পরদিন (১২ মার্চ) কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা-কাপ্তাই ইউনিয়নের বিএফআইডিসি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশের একটি পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে তার ক্ষতবিক্ষত ও আগুনে পোড়ানো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মর্মান্তিক এই ঘটনার পরদিন ১৩ মার্চ নিহতের মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে কাপ্তাই থানায় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ২০১ ধারায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর অভিযোগপত্র দেওয়া হলেও বাদীর নারাজিতে আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। পরবর্তীতে পিবিআইয়ের দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি একই আসামির বিরুদ্ধে ফের অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

​মামলার বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ মোট ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং অকাট্য তথ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করে। আসামিপক্ষ কোনো সাফাই সাক্ষী হাজির করতে না পারলেও আসামি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন।মামলা পরিচালনাকারী পিপি সিনিয়র অ্যাডভোকেট প্রতিম রায় পাম্পু রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা গেল যে, অপরাধ করে কেউ পার পায় না।”

অন্যদিকে, রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মাসুম রহিম জানান, আসামির সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে দ্রুতই উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। আইনানুযায়ী এই রায়ের বিরুদ্ধে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। রাঙামাটি বিচারিক ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল এই রায় সমাজে অপরাধপ্রবণতা হ্রাসে একটি বড় বার্তা বয়ে আনবে বলে মনে করছেন আই বিশ্লেষকরা।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ঘাগড়া, কাউখালী, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।

কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন