প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬ । ২:০৫ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ, সিভিল সার্জনের কাছে সুবিচারের দাবি

অনলাইন ডেস্ক

 

সিএইচটি বার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে প্রসূতি রোগীর চিকিৎসায় চরম অবহেলা ও নবজাতকের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে কর্তব্যরত চিকিৎসাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বিকেলেই বাচ্চার মাথা বের হয়ে আসার পরও দীর্ঘ সময় সিজারিয়ান অপারেশনের দোহাই দিয়ে ফেলে রাখা এবং বহিরাগত ক্লিনিকে রেফার করার চেষ্টার পর অবশেষে রাতে স্বাভাবিক প্রসবে প্রসূতির সন্তান জন্ম নিলেও ততক্ষণে নবজাতকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক সুবিচার ও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে রাঙামাটির সিভিল সার্জন কাম তত্ত্বাবধায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।

অভিযোগ সূত্র থেকে জানা যায়, রাঙামাটির বরকল উপজেলার ঠেগা খুব্বাং গ্রামের সুজন চাকমার ২০ বছর বয়সী স্ত্রী নীতিশা চাকমাকে সন্তান প্রসবের জন্য গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন শনিবার বিকেলে প্রসব বেদনা বাড়লে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তাকে হাসপাতালের লেবার রুমে নেওয়া হয়। বেলা ৫টার দিকে গর্ভস্থ বাচ্চার মাথা আংশিক বের হয়ে আসলেও ডিউটিতে থাকা নার্স ত্রিসোনা চাকমা জানান, সিজারিয়ান অপারেশন ছাড়া স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব নয়। এ সময় তিনি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার না করে রোগীকে শহরের হাসপাতাল রোড এলাকার ‘এবিসি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

রোগীর দরিদ্র পরিবার এতে অপরাগতা প্রকাশ করলে এবং পরবর্তীতে স্বজন জ্ঞান বিকাশ চাকমা হাসপাতালে পৌঁছে সিভিল সার্জন ও কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রশাসনিক যোগাযোগ শুরু করলে রাতে পরিস্থিতি বদলায়। অবশেষে অমলা চাকমা নামের এক সিনিয়র নার্সের হস্তক্ষেপে রাত সাড়ে ৮টায় প্রসূতির স্বাভাবিক (নরমাল) ডেলিভারি করানো হয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে শিশুটি প্রসব নালীতে আটকে থাকায় এবং যথাসময়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় জন্ম নেওয়া নবজাতকটির শারীরিক পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটে।

পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নবজাতকের অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয় এবং মা নীতিশা চাকমাকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালেই চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়। পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও গাইনি চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও ছুটির দিনের অজুহাতে চিকিৎসা না দিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানোর অপচেষ্টা এবং দীর্ঘ বিলম্বের কারণে নবজাতকের জীবন হুমকির মুখে ফেলার ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ঘটনার সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিভিল সার্জন কার্যালয়ে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন শিশুটির নানা জ্ঞান বিকাশ চাকমা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জ্ঞান বিকাশ চাকমা বলেন, গতকাল শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল থেকে ফেরত পাঠানো হয়। শিশুটির মাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ঘাগড়া, কাউখালী, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।

কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন