মথি ত্রিপুরা, রুমা প্রতিনিধি :
বান্দরবানের রুমা উপজেলায় ভারতের মিজোরাম থেকে নিজ এলাকায় ফিরে আসা বম পরিবারের সদস্য, অসহায়-দরিদ্র মানুষ এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রুমা জোন। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে মিজোরামফেরত পরিবারগুলোকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের সদস্যদের শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ভারতের মিজোরাম থেকে রুমা উপজেলায় ফিরে এসেছেন তিনটি পাড়ার মোট পাঁচটি পরিবারের ১৭ জন সদস্য। এর মধ্যে হ্যাপিহিল পাড়ার দুটি পরিবারের ৯ জন, লাইরুনপি পাড়ার একটি পরিবারের ৫ জন এবং মুন্নুয়াম পাড়ার দুটি পরিবারের ৩ জন সদস্য রয়েছেন। এসব পরিবারের পুনর্বাসনে রুমা জোনের পক্ষ থেকে চাল, ডাল, তেল, লবণ, আলু, পেঁয়াজ, রান্নার সামগ্রী, সোলার সিস্টেম ও নগদ অর্থসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মুন্নুয়াম পাড়ার লাল রুয়াদ্দান বম, এ্যালভেজ বম, ফ্লেক্স বম ও জেনিবিশ বমের মধ্যে মোট ১২টি ছাগল ও ১২টি টিন বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মুনলাই পাড়ার জিং যোফ কিমকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব উদযাপন উপলক্ষে মারমা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এবং বড়ুয়া পাড়ার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছে সেনাবাহিনী। এর মাধ্যমে স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে রুমা জোন।

এ ছাড়া রুমারচর নিচের পাড়ার প্রয়াত মংচাইসিং মার্মার দুই মেয়ের ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ছোট মেয়ে হ্লা খিং প্রু মার্মার পড়াশোনার খরচ বহন এবং বড় মেয়ে মেসিংউ মার্মাকে দর্জি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের উপযোগী করে তোলার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, মিজোরামফেরত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে সহযোগিতা এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রুমা জোনের এসব মানবিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অনলাইন ডেস্ক