উচ্চপ্রু মারমা, রাজস্থলী প্রতিনিধি :
রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (সদর হাসপাতাল) অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোগীদের একাধিক অভিযোগ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার (৮ নভেম্বর) সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
দুদকের অভিযানে হাসপাতালের সরকারি ওষুধ কেনা ও বিতরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। অভিযানে হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন দুদকের কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকালে দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের পাঁচ সদস্যের একটি দল রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিযান পরিচালনা করে। দুদকের কাছে রোগীদের দেওয়া একাধিক অভিযোগ এবং বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ আমলে নিয়ে এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযানকালে হাসপাতালের সরকারি ওষুধ ক্রয়, সংরক্ষণ ও বিতরণব্যবস্থাসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও অভিযোগের বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করেন কর্মকর্তারা।
দুদকের কর্মকর্তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অনিয়মের পূর্ণাঙ্গ চিত্র ও দায়ীদের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সংগৃহীত নথিপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে।
এদিকে হাসপাতালের অনিয়ম ও দুদকের অভিযান সম্পর্কে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মেডিকেল অফিসার বলেন, ‘গণমাধ্যমে কথা বলতে আমাদের নিষেধ আছে। তাই এ বিষয়ে আমি কোনো বক্তব্য দিতে পারব না। বক্তব্য দিতে পারবেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) অথবা রাঙামাটির সিভিল সার্জন।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাঙামাটি জেলা সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। অফিস সূত্রে জানা গেছে, তিনি দাপ্তরিক কাজে বাইরে রয়েছেন।
দুদকের অভিযানের বিষয়ে রাঙামাটি জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ এবং রোগীদের কাছ থেকে একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পর রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুদকের একটি চৌকস দল অভিযান পরিচালনা করে। প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে লিখিত প্রতিবেদন দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। পরবর্তী সময়ে নিয়ম অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু অভিযান পরিচালনা করেই যেন দায়িত্ব শেষ না হয়। হাসপাতালের ওষুধ কেনা ও বিতরণ, রোগীদের চিকিৎসাসেবা এবং সরকারি বরাদ্দের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তদন্তে যাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এখন দেখার বিষয়, দুদকের এই অভিযানের পর রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনিয়মের পূর্ণাঙ্গ চিত্র কতটা সামনে আসে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

অনলাইন ডেস্ক