সিএইচটি বার্তা ডেস্ক :
পদ্মা সেতুর উত্তর প্রান্তে ডিবি পুলিশের ছদ্মবেশে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), মুন্সীগঞ্জ। এ সময় একটি হাইচ মাইক্রোবাস, ওয়াকি-টকি, খেলনা পিস্তল, হ্যান্ডকাপ, ডিবি পুলিশের কটি, ইলেকট্রিক শক মেশিন ও লেজার লাইটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মোঃ বশির হাওলাদার (৫৬), মোঃ কাজল ইসলাম জিকু (৩০), মোঃ হীরা বেপারী (৪৮), মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান রাজু (৪৮), মোঃ রুবেল রানা (৩০) এবং মাইক্রোবাস চালক মোঃ ফয়সাল রাব্বি (২১)।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, এসআই (নিরস্ত্র) আবুল কালাম আজাদ এর নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি চৌকস টিম শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, একটি সিলভার রঙের হাইচ মাইক্রোবাসযোগে কয়েকজন ব্যক্তি শ্রীনগর ও পদ্মা সেতু (উত্তর) থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছদ্মবেশে ডাকাতির উদ্দেশ্যে ঘোরাফেরা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় দুপুরে পদ্মা সেতুর উত্তর টোল প্লাজার ৪নম্বর লেনে চেকপোস্ট বসানো হয়। এ সময় সন্দেহজনক গতিতে একটি হাইচ মাইক্রোবাস টোল প্লাজা অতিক্রমের চেষ্টা করলে পুলিশ সিগন্যাল দেয়। সিগন্যাল অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করলে ডিবির টিম গাড়িটি থামাতে সক্ষম হয়। পরে গাড়িতে থাকা একব্যক্তি ওয়াকি-টকি দেখিয়ে নিজেকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিলে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় আসামিরা আতঙ্ক সৃষ্টি করে গাড়ির কাচ ভেঙে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের আটক করে। তল্লাশিতে আসামিদের কাছ থেকে ওয়াকি-টকি, খেলনা পিস্তল, হ্যান্ডকাপ, ডিবি পুলিশের কটি, ইলেকট্রিক শক মেশিন, লেজার লাইট এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত হাইচ মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামত ঘটনাস্থলেই জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও আশপাশের এলাকায় ডাকাতি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। এ ঘটনায় পদ্মা সেতু (উত্তর) থানায় ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ১৭০/১৭১/৩৯৯/৪০২ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তাদের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

অনলাইন ডেস্ক