থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবানের থানচিতে নেটওয়ার্কবিহীন দুর্গম এলাকায় তিন্দু নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাডেমি ভবন নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তিনতলা বিশিষ্ট ভবনে ফাউন্ডেশনের কাগজে-কলমে মানসম্মত নির্মাণের কথা থাকলেও বাস্তবে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তারা জানান, ভবন নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের ইট, কংক্রিট, অপর্যাপ্ত রড এবং মানহীন বালু ও অপরিপক্ক পাথর। সিমেন্টের অনুপাত নিয়েও অভিযোগ। এসব নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারে বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, স্বাভাবিক চাপই দীর্ঘদিন সহ্য করতে পারবে না ভবনটি।
জানা গেছে, ২০২২- ২৩ অর্থবছরে তিন্দু নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তিনতলা বিশিষ্ট একাডেমি ভবন নির্মাণের ৮০ লাখ টাকা বাজেটের প্রকল্প দেয় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। সাড়ে চার বছর আগে বাস্তবায়ন কাজের রেমাক্রী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা রনি মালিকানা আগমা এ্যান্টারপ্রাইজ ঠিকাদার সংস্থাকে কার্যাদেশ দেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের পাশেই ভবনটি নির্মাণকাজ চলছে। সেখানে নিম্নমানের কংক্রিট, অপরিশোধিত বালু ও অপরিপক্ক পাথর ভাঙনে কংক্রিটের স্তুপ করে রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ফাউন্ডেশনের ঢালাইয়েও এসব সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভবনের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন—দুর্গমতার অজুহাতে কি পাহাড়ে নিম্নমানের কাজ চাপিয়ে দেওয়া হবে? প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতির সুযোগে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণে অনিয়ম হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার দায় কে নেবে? পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে—এমন বাস্তবতায় দুর্বল ফাউন্ডেশনের ওপর ভবন দাঁড় করানো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা নুচমং মারমা, ক্রানিংঅং মারমাসহ অনেকেই জানান, তিন্দুতে নির্বিচারে পাথর উত্তোলনে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধ্বংস ও নদীর প্রবাহ হুমকিতে। একাডেমি ভবনের ফাউন্ডেশনে নিম্নমানের পাথর-বালু ব্যবহারে ভবনটি নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা বাড়ছে।

ভবন নির্মাণকাজে নিয়োজিত মিস্ত্রি সোহেল বলছেন, তিনতলা বিশিষ্ট ভবনে বেসকাটা ও ঢালাইয়ের কাজ হয়েছে। সাতজন শ্রমিক ১৭ দিন ধরে কাজ করছেন। ঠিকাদার পক্ষ থেকে হ্লাচিংমং মারমা কাজ তদারকি করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন বলেন, ভবন নির্মাণকাজ চলছে এবং তিনি নিয়মিত খোঁজ রাখছেন। বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান ভাগ্যচন্দ্র ত্রিপুরা দাবি করেন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে তার জানা নেই।
অন্যদিকে ঠিকাদার শৈবাচিং মারমা বলেন, আগমা এন্টারপ্রাইজের মালিক মুইশৈথুই মারমা রনি মাধ্যমে ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজ করছেন এবং বাস্তবায়নের কাজে শোয়ারদার হিসেবে হ্লাচিংমং মারমাও যুক্ত আছেন।
এবিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মোহাম্মদ ইয়াছির আরাফাত বলেন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। সেখানে ডিম পাহাড় হয়ে তিন্দু পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন পৌঁচ্ছেছে। অনিয়ম-দুর্নীতির এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনলাইন ডেস্ক