প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬ । ৬:৫২ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২

রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের নেতৃত্বে এম এ সালাম ফকিরকে চায় জনগণ

অনলাইন ডেস্ক

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ

ত্যাগ ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ, গ্রহণযোগ্যতায় শীর্ষে—জনআস্থার প্রতীক  আব্দুস সালাম ফকির, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের নেতৃত্বে তাকেই চায় জনগণ।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এলাকার পাহাড়ি- বাঙালী নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণ অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি একসময় রাঙামাটির পার্বত্য অঞ্চল ছিল চাঁদাবাজি, অশান্তি ও নিরাপত্তাহীনতায় ভরপুর। সেই কঠিন পরিস্থিতিতে তৎকালীন এরশাদ সরকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনপ্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে একটি স্থানীয় সরকার কাঠামো গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে সময় রাঙামাটির ১০টি উপজেলা থেকে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিষদ গঠনের জন্য প্রার্থী খুঁজে পাওয়াই ছিল কঠিন। বাঙালি সদস্যের ১০টি পদের বিপরীতে মাত্র ২৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন, যেখান থেকে ভোটের ভিত্তিতে ১০ জন নির্বাচিত হন। তাঁদের মধ্যে জনাব মোঃ আব্দুস সালাম ফকির বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন।

অন্যদিকে, উপজাতীয় সম্প্রদায় থেকে ২০টি পদের জন্য প্রায় ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। চেয়ারম্যান পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বাবু গৌতম দেওয়ান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এভাবে ১৯৮৯ সালে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট “স্থানীয় সরকার পরিষদ” গঠিত হয়। কিন্তু সে সময় নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরকে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও জীবনঝুঁকির মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। নির্বাচনের সময় বিরোধীরা বহুস্থানে ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করলেও জনগণের অংশগ্রহণ থামানো যায়নি। পরিষদের সদস্যরা দীর্ঘ ৮ বছর নিজেদের ব্যক্তিগত ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বার্থ ত্যাগ করে রাঙামাটি জেলাধীন ১০টি উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন, শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করেন। তাঁদের এই ত্যাগ ও অবদানের ফলেই পার্বত্য অঞ্চলে উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি হয়। পরবর্তীতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচিত এই স্থানীয় সরকার পরিষদ বিলুপ্ত করে “জেলা পরিষদ” গঠন করে, যেখানে প্রথমে মাত্র ৬ সদস্য এবং পরে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পরিষদ গঠন করা হয়। পরবর্তীতে মনোনয়ন ভিত্তিক সদস্য নিয়োগের মাধ্যমে এ পরিষদ পরিচালিত হয়ে আসছে।

বর্তমানে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সাথে সাথে আবারও জেলা পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যেখানে একটি সদস্য পদের জন্য একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তবে অতীতের ত্যাগী ও অভিজ্ঞ নেতাদের মধ্যে এখনও খুব অল্পসংখ্যক জীবিত রয়েছেন—বাঙালি সদস্যদের মধ্যে মাত্র ২ জন এবং উপজাতীয় সদস্যদের মধ্যে প্রায় ৮ জন, যাদের অনেকেই অসুস্থ ও অবহেলিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে জনাব মোঃ আব্দুস সালাম ফকির পুনরায় জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি একজন শিক্ষিত, সৎ, ভদ্র ও সর্বজনগ্রাহ্য ব্যক্তিত্ব। ১৯৯৭ সালে বিএনপিতে যোগদানের পর প্রায় দীর্ঘ ত্রিশ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি দলকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন।

জনমত জরিপে দেখা যায়, পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি রক্ষায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা—তাঁর মতো একজন অভিজ্ঞ, ত্যাগী ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হলে তিনি তাঁর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি, শৃঙ্খলা ও উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

এইসব বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম ফকির এর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, সবই সত্য এবং বলতে চাই  উপজাতীয় অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবে উপজাতীয়দের নেওয়া হোক। তবে যদি সদস্য বৃদ্ধি করা হয় ২১ সদস্য হলে বিবেচনা করা। বাড়ালে তবে ১ জন বাঙালি নিতে হবে। সেটা আমাকে দাবি রাখি। আমি প্রায়  সভাপতি পদে ১০ বছর, সাংগঠনিক পদে ৮ বছর, সাধারণ সম্পাদক পদে ১০ বছর রাজনৈতিক জীবনে ছিলাম বলে জানান। সুতরাং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট বিনীত আবেদন—জনাব মোঃ আব্দুস সালাম ফকিরের এই ন্যায্য দাবিটি সদয় বিবেচনায় গ্রহণ করে তাঁকে মনোনয়ন প্রদান করা হোক। এতে করে এলাকার জনগণ উপকৃত হবে এবং পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাশা করা যায়।

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ নিউটন চাকমা, বার্তা প্রধানঃ উথোয়াই চিং মারমা কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন