রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবানের রুমা উপজেলার গালেংগ্যা ইউনিয়ন পরিষদে জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সর্বনিম্ন স্তর হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। জন্মনিবন্ধন, মৃত্যু সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, পরিচয়পত্রসহ নানা সেবা পেতে জনগণকে এই প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হতে হয়। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পেতেও চেয়ারম্যান ও সদস্যদের উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু বাস্তবে এসব সেবা নিতে গিয়ে নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একটি জন্মনিবন্ধন অনলাইনে করতে ২০ থেকে ৩০ দিন, কখনো তারও বেশি সময় লাগছে। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা প্রতিটি জন্মনিবন্ধনের জন্য ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত ফি আদায় করছেন, যা সরকার নির্ধারিত ফি-এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি।
স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, একটি জন্মনিবন্ধনের জন্য ৩০০ টাকা দিতে হয়। সরকার তো এত টাকা নির্ধারণ করেনি, তাহলে আমরা কেন দেব? একই ইউনিয়নের শিক্ষার্থী রিপন ম্রো জানান, জন্মনিবন্ধন করতে ইউনিয়নে না পেয়ে রুমা উপজেলা সদরে যেতে হয়, এতে যাতায়াতে প্রায় ৪০০/১০০০ টাকা খরচ হয়। সব মিলিয়ে একটি জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। সরকারি ফি অনুযায়ী, জন্ম বা মৃত্যু নিবন্ধনের জন্য দেশে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তিন থেকে পাঁচ গুণ বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডিজিটাল সেন্টার উদ্যোক্তা জানান, আমাদের নির্ধারিত কোনো বেতন নেই। অতিরিক্ত টাকা নিতে হয় এবং এই টাকা একা আমরা নেই না—চেয়ারম্যান, সদস্য ও সচিবদেরও ভাগ দিতে হয়। এছাড়া জন্মনিবন্ধন করতে গেলে নানা অজুহাতে সাধারণ মানুষকে বারবার ঘোরানো হয়। কখনো বিদ্যুৎ নেই, কখনো সার্ভার সমস্যা, আবার কখনো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অনুপস্থিত—এভাবে দিনের পর দিন হয়রানি পোহাতে হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। শুধু জন্মনিবন্ধনই নয়, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পেতেও ঘুষ ও অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ইউনিয়নের উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ অর্থ আত্মসাত ও কাজ না করেই টাকা উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে চেয়ারম্যান মেনরত ম্রোর বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নাগরিক সেবা সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি জানিয়েছেন।

অনলাইন ডেস্ক