প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬ । ১১:৩৪ এএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২

শতাধিক বৌদ্ধ ভিক্ষুকে পিন্ডদান দিলেন দীঘিনালা ভৈরফা এলাকাবাসি

অনলাইন ডেস্ক

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা :

দীঘিনালায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শতাধিক বৌদ্ধ ভিক্ষুকে পিণ্ডদান কর্মসূচি পালন করেছেন ভৈরফা এলাকার বাসিন্দারা।

বৃহস্পতিবার ৯ এপ্রিল ভোর সকালে ভৈরফা সরকারি প্রার্থমিক বিদ্যালয় মাঠে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও এলাকার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী খাদ্যসামগ্রী নিয়ে ভিক্ষুদের দান করেন। সকাল থেকেই নারী-পুরুষ ও বিভিন্ন বয়সী মানুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে বিহার প্রাঙ্গণে সমবেত হন। পরে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সারিবদ্ধভাবে বসিয়ে ভাত, তরকারি, ফলসহ নানা ধরনের খাবার পিণ্ডদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে ভিক্ষুরা দান গ্রহণের পর ধর্মদেশনা প্রদান করেন এবং দাতাদের কল্যাণ কামনায় প্রার্থনা করেন। এ সময় তারা মানবকল্যাণ, শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরেন।

আয়োজকরা জানান, পিণ্ডদান বৌদ্ধ ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষঙ্গ, যা দানশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধকে জাগ্রত করে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।

 

অনুষ্ঠানে পরম পুজ্য শ্রদ্ধেয় নন্দপাল মহাস্থবির ভান্তে বলেন, পিণ্ডদান বৌদ্ধ ধর্মের একটি মহৎ দানশীলতার অনুশীলন, যা মানুষের মনকে পরিশুদ্ধ করে এবং সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে। তিনি বলেন, “দান মানুষের লোভ-লালসা দূর করে এবং পরের প্রতি সহমর্মিতা সৃষ্টি করে। পিণ্ডদানের মাধ্যমে গৃহীরা পুণ্য সঞ্চয় করেন এবং তা তাদের ইহকাল ও পরকালে মঙ্গল বয়ে আনে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য দান, শীল ও ভাবনার চর্চা অত্যন্ত প্রয়োজন। সবাইকে ধর্মীয় মূল্যবোধ ধারণ করে সৎ ও ন্যায়পরায়ণ জীবন যাপনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে তিনি দাতাদের কল্যাণ কামনা করেন এবং দেশ ও জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা পরিচালনা করেন।

এ সময় শতাধিক বৌদ্ধ ভিক্ষু ও ধর্মপ্রাণ নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন এবং ধর্মীয় পরিবেশে পিণ্ডদান কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ নিউটন চাকমা, বার্তা প্রধানঃ উথোয়াই চিং মারমা কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন