প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ । ৪:২৬ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩১ চৈত্র ১৪৩৩

আলীকদমে সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন: জাঁকজমকপূর্ণ “বিষু মেলা” উদযাপিত

অনলাইন ডেস্ক

 

সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, ‎আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

‎পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী নববর্ষ উৎসব ‘বিষু মেলা’ উপলক্ষে বান্দরবানের আলীকদমে জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। ‎‎সোমবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে উপজেলার পানবাজারস্থ মালিপ্রু পাড়া ত্রিরত্ন বৌদ্ধ বিহার মাঠ প্রাঙ্গণে ঘিলা খেলার ফাইনাল ম্যাচ আয়োজন করা হয়। এ উৎসবে স্থানীয় তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো এলাকা সম্প্রীতির মিলন-মেলায় পরিণত হয়।

‎অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম সেনাজোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক, এসপিপি,পিএসসি। ‎এছাড়াও বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা কল্যাণ সংস্থার সভাপতি শান্তিমনি তঞ্চঙ্গ্যা ও সাধারণ সম্পাদক দীপু তঞ্চঙ্গ্যা, বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা ইয়ংলোক ম্রোসহ কারবারী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

‎উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ছিল তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ‘ঘিলা খেলা’। জোন কমান্ডার আগ্রহভরে এই লোকজ খেলা উপভোগ করেন এবং উপস্থিত সবার সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বর্ণাঢ্য সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

‎তিনি বলেন, “পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি আমাদের জাতীয় সম্পদ। সকল সম্প্রদায়ের ঐক্য ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যই পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।” ‎ ‎উৎসবকে কেন্দ্র করে আলীকদম সেনা জোনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেনাবাহিনীর সদস্যদের টহল ও সতর্ক উপস্থিতির কারণে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে উৎসবে অংশগ্রহণ করতে পারেন।

‎এছাড়া উৎসব উপলক্ষে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। এতে পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে এলাকায় এক আনন্দঘন ও সম্প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ‎ ‎

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেনাবাহিনীর সার্বিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণেই দুর্গম এ অঞ্চলে শান্তিপূর্ণভাবে এমন আয়োজন সম্ভব হয়েছে। তারা সেনাবাহিনীর এ ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ নিউটন চাকমা, বার্তা প্রধানঃ উথোয়াই চিং মারমা কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন