প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬ । ৩:১৮ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ২ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩

বিশ্বজুড়ে শান্তির বার্তা : বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে পবিত্র বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপিত

অনলাইন ডেস্ক

 

ছন্দ সেন চাকমা :

​আজ পবিত্র বুদ্ধ পূর্ণিমা বা বৈশাখী পূর্ণিমা। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ও পবিত্র ধর্মীয় উৎসব। আড়াই হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে এই দিনে সিদ্ধার্থ গৌতমের জন্ম, বুদ্ধত্ব লাভ এবং মহাপরিনির্বাণ ঘটেছিল। এই তিনটি ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করে সারা বিশ্বের বৌদ্ধ সম্প্রদায় অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি পালন করেছে। ​বাংলাদেশে আজ সরকারি ছুটি। ভোর থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের বৌদ্ধ বিহারগুলোতে ভক্তদের ঢল নামে। জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, ত্রিপিটক পাঠ এবং প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে দিনের সূচনা হয়।​

রাঙ্গামাটি বনরুপা মৈত্রী বিহার সহ বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে ভক্তরা বুদ্ধ মূর্তিতে ফুল, ফল এবং মোমবাতি উৎসর্গ করে বিশ্ব শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা করেন। দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বুদ্ধ মুর্ত্তি দান, সংঘ দান,অষ্টপরিস্কার দান ও নানা ধরনের উপকরণ দান, ভিক্ষুদের পিণ্ডদান এবং সন্ধ্যায় হাজার প্রদীপ প্রজ্বলন।

বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়সহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেছেন, “যুদ্ধ ও সংঘাতময় বিশ্বে বুদ্ধের অহিংসার বাণী আজও সমান প্রাসঙ্গিক।” প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও একতার ওপর জোর দিয়েছেন।

জাতিসংঘ ও বিশ্ব​ ২০০০ সাল থেকে জাতিসংঘ বুদ্ধ পূর্ণিমাকে আন্তর্জাতিক ‘ভেসাক দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আসছে। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জন্য এটি আত্মশুদ্ধি, করুণা এবং মৈত্রীর প্রতীক।

​নেপালের লুম্বিনিতে, বুদ্ধের জন্মস্থানে, সকাল থেকেই বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভারত, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দিনটি উৎসবের আমেজে পালিত হচ্ছে। শ্রীলঙ্কায় রাস্তার মোড়ে মোড়ে বিশাল ফানুস ও আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভারতের দিল্লি এবং বুদ্ধগয়াতে হাজারো তীর্থযাত্রী সমবেত হয়েছেন।
​বুদ্ধের দর্শন: আজকের প্রেক্ষাপটে।

এমন এক সময়ে এই উৎসব পালিত হচ্ছে যখন বিশ্বজুড়ে জাতিগত বিদ্বেষ, যুদ্ধ এবং অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বুদ্ধের মূল মন্ত্র— ‘অহিংসাই পরম ধর্ম’ —এবং তার অহিংসা, সাম্য ও করুণার দর্শন মানুষকে শান্তির পথে পরিচালিত করতে পারে। আজকের এই দিনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং পণ্ডিতরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ওপর জোর দিচ্ছেন।
​পরিশেষে, বুদ্ধ পূর্ণিমার এই আলো বিশ্বব্যাপী শান্তি, সুখ এবং সমৃদ্ধি বয়ে আনুক—এটিই আজকের দিনের সবার কামনা।

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ নিউটন চাকমা, বার্তা প্রধানঃ উথোয়াই চিং মারমা কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন