বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক যুবক ও এক তরুণীকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে অনুসন্ধান ও তথ্য যাচাই করে জানা গেছে, প্রচারিত তথ্যের অনেকাংশই ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।
তথ্যানুসারে, যুবকের নাম ইটো চাকমা। তার বাড়ি রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার জীবতলী গ্রামে। অন্যদিকে তরুণীর নাম আঁখি চাকমা, তার বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলায়।
ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা সৃষ্টি হলে স্থানীয় প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, আঁখি চাকমার মা কহিনুর আক্তার পূর্বে মুসলিম ধর্মাবলম্বী ছিলেন। পরে তিনি বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করে কালাইয়া চাকমাকে বিয়ে করেন। এ কারণে মেয়েটির পারিবারিক পটভূমি ও চেহারা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের ভুল ব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ে।
তবে স্থানীয় সূত্র, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আঁখি চাকমা জন্মসূত্রে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এবং চাকমা সম্প্রদায়ের সদস্য। একইভাবে ইটো চাকমাও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।
আঁখি চাকমা জানান, তার মায়ের নাম কহিনুর আক্তার এবং বাবার নাম কালাইয়া চাকমা। তাদের স্থায়ী বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলায়। তিনি ছোটবেলা থেকে দাদির বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করেছেন এবং পাকুজ্যাছড়ি এলাকার উলুছড়ি মৌজা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষা লাভ করেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন।
তাদের সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে আঁখি চাকমা বলেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে এক বন্ধুর মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। সেই পরিচয় থেকেই পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে যেসব তথ্য প্রচার করা হয়েছে, তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল পাওয়া যায়নি। তাই যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সচেতন মহলের অভিমত, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং ভুল তথ্যের বিস্তার রোধে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। কোনো তথ্য প্রচারের আগে তার সত্যতা নিশ্চিত করাই একজন সচেতন হ দায়িত্ব।

অনলাইন ডেস্ক