প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬ । ৮:০৮ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রুমায় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত : ধর্মীয় স্বাধীনতা, শান্তি ও পুনর্বাসনে সেনাবাহিনীর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

অনলাইন ডেস্ক

 

মথি ত্রিপুরা,  রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

বান্দরবানের রুমা উপজেলার বেথেল পাড়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে স্থানীয় জনগণ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট পাড়াবাসীর অংশগ্রহণে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুমা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার, এসবিপি, পিএসসি।

সভায় রুমা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পাস্টর, বম সোশ্যাল কাউন্সিল (বিএসসি)-এর সদস্যবৃন্দ, কারবারি, হেডম্যান এবং বেথেল পাড়ার সাধারণ জনগণসহ প্রায় ১৫৫ জন অংশগ্রহণ করেন। সভা শেষে জেল থেকে জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও ভারতের মিজোরাম থেকে ফিরে আসা পরিবারের সদস্যদেরসহ মোট ৫৬টি পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়।

মতবিনিময় সভায় জোন কমান্ডার ধর্মীয় অনুশীলন ও ধর্মীয় কার্যক্রম বিষয়ে পাস্টরদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, দেশে ধর্মীয় অনুশীলন ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো ধরনের বাধা বা সীমাবদ্ধতা নেই। তিনি বম সম্প্রদায়ের মধ্যে পাস্টরদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ)-এর বিভিন্ন অপতৎপরতা সম্পর্কে সতর্ক করেন।

তিনি পাস্টরদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেএনএর ভয়ভীতি বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে তাদের কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি কেএনএর সদস্যদের আত্মসমর্পণে উদ্বুদ্ধ করা এবং মিজোরামে অবস্থানরত শরণার্থীদের নিজ নিজ ঘরে ফিরে আসতে উৎসাহিত করারও আহ্বান জানান। এছাড়া গণমাধ্যমে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে সৃষ্ট যেকোনো আশঙ্কা দূর করতে সচেতন ভূমিকা রাখার অনুরোধ করেন।

জোন কমান্ডার বর্তমান এলাকার স্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, অতীতের অস্থিতিশীল সময়ের তুলনায় বর্তমানে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তিনি স্থানীয় জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, তাদের জীবনযাত্রাকে আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরও বলেন, কেএনএ বর্তমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার লক্ষ্যে বিভিন্ন অপচেষ্টা চালাতে পারে এবং স্থানীয় জনগণকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মিজোরাম থেকে বম শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে জোন কমান্ডার জানান, দেশে ফিরে আসা শরণার্থী ও জেল থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পুনর্বাসন কর্মসূচির ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি কেএনএর কোনো সদস্য আত্মসমর্পণ করলে তাকে পুরস্কৃত করা হবে এবং পুনর্বাসনের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সভার শেষে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ দেশের সাধারণ মানুষের সেনাবাহিনী। শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উন্নয়নমুখী জীবন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে স্থানীয় জনগণের পাশে থাকবে।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ঘাগড়া, কাউখালী, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।

কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন