রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবানের রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কাবিটা (কাবিখা) প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, আড়াই লাখ টাকার একটি প্রকল্পের কাজ মাত্র ১৫ হাজার টাকায় করিয়ে প্রকল্পের অর্ধেক অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে এবং আগামী ৩০ জুনের আগে অবশিষ্ট অর্থ বা চূড়ান্ত বিল উত্তোলনের প্রক্রিয়া চলছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এলিম-ছাংডালা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খেলার মাঠ সংস্কার নামে প্রকল্পটির জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে খেলার মাঠ সংস্কারের পরিবর্তে ছাংডালা পাড়ার একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমিতে ঝোপঝাড় পরিষ্কারের কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে পাইন্দু ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি অংখ্যাইসা মার্মার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দা আছোমং মার্মা ও উচথোয়াই মার্মা জানান, মেম্বার অংখ্যাইসা মার্মা পাড়াবাসীকে জানিয়েছিলেন প্রকল্পের বরাদ্দ মাত্র ৩০ হাজার টাকা। প্রকল্পের প্রকৃত নাম, বরাদ্দ কিংবা কী কাজ করা হবে সে বিষয়ে কখনোই এলাকাবাসীকে অবহিত করা হয়নি। আছোমং মার্মা বলেন, খেলার মাঠ সংস্কারের কথা বলে এক সপ্তাহ আগে মেম্বার অংখ্যাইসা মার্মা আমাকে ১২ হাজার টাকা দেন।
কোথায় কাজ করতে হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেখানে সুবিধা হয় সেখানে কাজ করে ছবি তুলে দিতে। তার ভাষ্যমতে, মেম্বারের নির্দেশনা অনুযায়ী বৌদ্ধ বিহারের জমির খালি স্থানে ১২ জন নারী-পুরুষ মিলে একদিন ঝোপঝাড় পরিষ্কারের কাজ করেন। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার অংখ্যাইসা মার্মার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. কাউসার বলেন, অধিকাংশ প্রকল্পের বিপরীতে এখনো চূড়ান্ত বিল দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব প্রকল্পের কাজ বাস্তবে সম্পন্ন হয়নি, সেগুলোর বিল প্রদান না করে অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত পাঠানো হবে।
স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকল্পের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

অনলাইন ডেস্ক