রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :
সারা দেশের ন্যায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হয় এবারের এইচএসসি পরীক্ষা।
কর্ণফুলী সরকারি কলেজ কেন্দ্রটিতে এবার তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, এবারের পরীক্ষায় মোট ৮৪১ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত থাকলেও প্রথম দিনে ৬১৬ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে প্রথম দিনের পরীক্ষায় ৬০০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। এ পরীক্ষায় মোট ১৬ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।
অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ২ জন, মানবিক বিভাগে ৮ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৬ জন রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুযায়ী, কর্ণফুলী সরকারি কলেজের ১৫ জন এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল এন্ড কলেজের ১ জন শিক্ষার্থী প্রথম দিনের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন।
পরীক্ষাটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক নিরাপত্তামূলক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। কেন্দ্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য আইপিএস-এর বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হানুল ইসলাম বলেন, “পরীক্ষা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ পরিবেশে সম্পন্ন করতে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা এবং পরীক্ষার্থীদের নির্বিঘ্ন প্রবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষা চলাকালীন ডিজিটাল মনিটরিং এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে কেন্দ্রের চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।”
কর্ণফুলী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন জানান, প্রথম দিনের পরীক্ষা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, “অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় এবার অত্যন্ত সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত উৎসাহের সাথে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে এবং কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।”
পরীক্ষা কেন্দ্রের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যানজট নিরসনে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন বিশেষ নজরদারি বজায় রেখেছে।

অনলাইন ডেস্ক