প্রকাশের সময়: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬ । ২:১২ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩

কাপ্তাইয়ের চিৎমরমে বন্য হাতির উপদ্রব: চরম আতঙ্কে স্থানীয়রা

অনলাইন ডেস্ক

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী বন রেঞ্জের আওতাধীন ফ্রিংখিয়ং বিট সংলগ্ন চিৎমরম মুসলিম পাড়া এলাকায় বন্য হাতির উপদ্রব চরমে পৌঁছেছে। প্রতিনিয়ত লোকালয়ে হাতির পালের হানায় বাড়িঘর ভাঙচুর ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, বন্য হাতির দল প্রায়ই লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। এ সময় তারা মানুষের কষ্টে সৃজিত কলার বাগানসহ বিভিন্ন ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি করছে। পাশাপাশি ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করায় সাধারণ মানুষের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। স্থানীয়রা বন্য হাতিকে দেশের সম্পদ উল্লেখ করে কোনো প্রকার ক্ষতি না করে হাতি ও মানুষের নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণফুলী বন রেঞ্জ কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি জানান, বন্য হাতির চলাচলের প্রাকৃতিক করিডোর দখল করে বাড়িঘর নির্মাণের ফলে হাতির স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। করিডোর সংকীর্ণ হওয়ার কারণেই বন্য হাতির দল লোকালয়ে চলে আসছে এবং ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটছে।

​এদিকে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নির্বিচারে বন উজাড়ের ফলে বনাঞ্চলে হাতির খাদ্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানেই হাতির দল লোকালয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এছাড়া হাতির আক্রমণে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে বলে সূত্রটি উল্লেখ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাতি-মানুষের এই দ্বন্দ্ব নিরসনে হাতির করিডোরগুলো অবৈধ দখলমুক্ত করা জরুরি। সেই সাথে হাতি-মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে হাতি চলাচলের পথে পর্যাপ্ত খাদ্য ও পানির ব্যবস্থা করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তাসহ পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। তবেই হাতি ও মানুষের নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব।

​ছবি:  কাপ্তাইয়ের চিৎমরমে হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও ফসলি জমির চিত্র।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ঘাগড়া, কাউখালী, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।

কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন