প্রকাশের সময়: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬ । ৬:৩২ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩

টানা বৃষ্টি ও বন্যায় রুমা কার্যত বিচ্ছিন্ন, আশ্রয়কেন্দ্রে শতাধিক পরিবার

অনলাইন ডেস্ক

 

রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যায় বান্দরবানের রুমা উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত ৬ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত বৃষ্টি, পাহাড় ধস এবং সাঙ্গু নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ইতোমধ্যে শতাধিক পরিবার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বেথেলপাড়া থেকে মুননাম পাড়া পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ সড়কের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস ও মাটি সরে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। একইভাবে রুমা–বগালেক–কেওক্রাডং সড়কের একাধিক স্থানে পাহাড় ধসে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া গত ৮ জুলাই থেকে রুমা–বান্দরবান সড়কও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সড়কের অন্তত তিনটি স্থানে পাহাড় ধসে রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে এবং বিভিন্ন অংশে বড় আকারের গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ফলে জেলা সদরের সঙ্গে রুমার সব ধরনের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। গত শনিবার থেকে মোবাইল নেটওয়ার্ক আংশিকভাবে সচল হলেও এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। কবে নাগাদ সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুনরায় চালু হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি। টানা ছয় দিনের বৃষ্টি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিনু মার্মা বলেন, টানা বর্ষণে সাঙ্গু নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতীরবর্তী এলাকার সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি পাহাড় ধসে জুমচাষ ও বিভিন্ন ফলবাগানেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।

রুমা বাজারের মারমা লাইনে ভাড়া বাসায় বসবাসকারী বাসন্তী দাস জানান, গত ৭ জুলাই রাত থেকে তার ভাড়া বাসা বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। কবে নিজের ঘরে ফিরতে পারবেন, তা তিনি জানেন না। একই এলাকার বাসিন্দা মেচিংথুই জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর তিনি নিজের ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ করছেন। তিনি বলেন, ঘর ডুবে যাওয়ার সময় টানা দুই দিন কোনো খাবার খেতে পারেননি।

এদিকে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় রুমা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে চাল, ডাল, তেল, সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপও সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার, বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন এবং দুর্গত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ঘাগড়া, কাউখালী, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।

কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন