বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় সাম্প্রতিক ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন উপলক্ষে একটি অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটসের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদের মিনি কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নূর আলম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জয়েস চাকমা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সঞ্চয়ন চাকমা, বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মাবুদ, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
সভায় জানানো হয়, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৭০০ পরিবারের মধ্যে জরুরি মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হবে। প্রতিটি পরিবারকে ৪০ কেজি চাল, ১ কেজি মসুর ডাল, ১ কেজি লবণ, ১ কেজি চিনি, ১ কেজি রসুন, ৩ লিটার সয়াবিন তেল, একটি বালতি, একটি মগ, একটি বদনা, একটি গামছা, একটি টর্চলাইট, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ওরস্যালাইন, লাইফবয় সাবানসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী প্রদান করা হবে। পাশাপাশি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।
এ ছাড়া নিরাপদ বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, অস্থায়ী আশ্রয়, স্যানিটেশন সুবিধা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রকৃত চাহিদা নিরূপণ, সহায়তা কার্যক্রমে সমন্বয় এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রধান অতিথি মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে সহযোগিতা প্রদানকারী উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সহযোগী সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে— সিডা (Sida), সুইডিশ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা; নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Ministry of Foreign Affairs of the Netherlands); জোয়া ওভারসিজ এইড (ZOA Overseas Aid); কনরাড এন. হিলটন ফাউন্ডেশন (Conrad N. Hilton Foundation); এবং স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশ (Start Fund Bangladesh)।
সভায় জানানো হয়, এসব উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সহায়তায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, জীবিকায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করে আসছে।
বক্তারা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে। এ জন্য সবাইকে আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

অনলাইন ডেস্ক