কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের বরাদ্দকৃত বন্যার্ত ও ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণের চাল বিতরণ নিয়ে কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজি মো. আবুল হাসেমের বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে নানা গুঞ্জন ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। স্বচ্ছতার ভিত্তিতে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও দুস্থ মানুষের মাঝে চাল বিতরণ করা হলেও পরিবহন ও লেবার খরচ বাবদ কিছু চাল সমন্বয় করাকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে কাপ্তাই উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে বন্যা কবলিত ও হতদরিদ্র দুস্থ পরিবারের মাঝে বিতরণের জন্য মোট ৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে রাইখালী ইউনিয়নে মোট ৮ মেট্রিক টন চাল পাওয়া যায়, যার প্রথম ধাপে ৬ মেট্রিক টন এবং দ্বিতীয় ধাপে ২ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধাপে বরাদ্দ পাওয়া ২ মেট্রিক টন চাল বিতরণ নিয়ে এলাকার কিছু মহলে কানাঘুষা শুরু হয়।
রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য ক্যওসিংমং চৌধুরী জানান, পরিষদের বরাদ্দ অনুযায়ী রাইখালী ইউনিয়ন যথাযথ নিয়মেই ৮ মেট্রিক টন চাল পেয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাজি মো. আবুল হাসেম গণমাধ্যমের কাছে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, রাইখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ সহজে ইউনিয়ন পরিষদে এসে চাল সংগ্রহ করতে পারেন না। এই বাস্তবটি মাথায় রেখে স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে তিনি নিজ উদ্যোগে দুর্গম পাহাড়ের পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে সরাসরি দুস্থদের মাঝে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। গত ৩০ জুন জীপ গাড়িতে করে ২ টন বা (৪০ বস্তা) চাল বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সঠিক তালিকা প্রস্তুত করে ১৯১ জন দুস্থ পরিবারকে মাথাপিছু ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়।
বিতরণকৃত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে— বড়খোলা পাড়া, ডংনালা পাড়া, পূর্ব কোদালা মারমা পাড়া, কারিগর পাড়া, ভালুকিয়াপাড়া, চাকোয়া পাড়া, বড়পাড়া, নাড়াইছড়ি পাড়া, কচুরি পাড়া, গবছড়া পাড়া, তিনছড়ি পাড়া, তিনছড়ি নোয়া পাড়া, তিনছড়ি মধ্যম পাড়া, কালামাইস্যা পাড়া, বটতলি পাড়া, গংগ্রি ছড়া, বালামছড়ি পাড়া, হাফছড়ি এবং জগনাছড়িসহ বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকা।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে হাজি মো. আবুল হাসেম আরও বলেন, “জেলা পরিষদ থেকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে যখন চালগুলো আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়, তখন গাড়ি ভাড়া বা লেবার খরচের জন্য কোনো আলাদা বরাদ্দ বা অর্থ দেওয়া হয়নি। দুর্গম পাহাড়ি রাস্তায় চাল পরিবহনের খরচ মেটানোর জন্যই সামান্য কিছু চাল সমন্বয় করে খরচ মিটানো হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে নিজ দলের একটি কুচক্রী মহল আমাকে সামাজিকভাবে হেনস্থা করার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গিয়ে বাড়ি বাড়ি বা পাড়ায় পাড়ায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে যাতায়াত খরচ বা পরিবহন ব্যয় সুনির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় না থাকায় অনেক সময় এ ধরনের ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঠিক নজরদারি থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

অনলাইন ডেস্ক