প্রকাশের সময়: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ । ৫:৪৮ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

বাঘাইছড়ির সাজেকে কাল থেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক

 

‎বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি:

‎রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে আগামীকাল রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পর্যটন সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি। এ কর্মসূচির কারণে সাজেকে যাতায়াতকারী পর্যটকদের ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ‎ ‎

শনিবার (১০ অক্টোবর) সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। বিবৃতিতে সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ‎ ‎

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৮ অক্টোবর সাজেকের উজোবাজারে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে জেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় দাবি আদায়ে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ‎

‎সংগঠন দুটির নেতারা অভিযোগ করেন, সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নিতে সরকার ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং তল্লাশির নামে সেনাবাহিনী নিরীহ মানুষের বাড়িঘরে হয়রানি করছে এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হুমকি দিচ্ছে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়। ‎‎বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অবরোধ চলাকালে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও সংবাদকর্মীদের যানবাহন অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় সাজেক পর্যটন সড়কে যানবাহন চলাচল না করার জন্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, পর্যটক ও সাধারণ জনগণের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন সংগঠন দুটির নেতারা। ‎

‎যৌথ বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, গত ৩০ আগস্ট সন্ধ্যায় জেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা রুইলুই পর্যটনকেন্দ্রের পাশের দাড়িপাড়া থেকে গাড়িতে করে এসে মাচলং আর্মি ক্যাম্পের পাশে নামেন। পরে তাঁরা ব্রিজপাড়া, নুওপাড়া ও শিবপাড়ায় অবস্থান নেন। এরপর থেকে বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র তৎপরতা, স্থানীয়দের হুমকি এবং গ্রামবাসীর সম্পত্তি নষ্ট করার ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করা হয়। ‎এ ছাড়া সশস্ত্র সদস্যদের গুলিতে কস্মিতা ত্রিপুরা নামে নয় বছর বয়সী এক শিশু আহত হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। ‎

সংগঠন দুটির নেতাদের দাবি, সশস্ত্র সদস্যরা সাজেকে অবস্থান করা পর্যন্ত এলাকায় অশান্তি ও নিরাপত্তাহীনতা অব্যাহত থাকবে। তাই সাজেকবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে তাঁদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য সরকার ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নতুন জয় চাকমা ও বাবুধন চাকমা। ‎ ‎

এদিকে, অবরোধের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সাজেকে পর্যটকদের যাতায়াত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পর্যটন সড়কে যান চলাচল ও পর্যটনকেন্দ্রটির কার্যক্রমে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। ‎অন্যদিকে, সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান গণমাধ্যমকে বলেন, “সড়ক অবরোধের কথা শুনেছি। নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতায় সকাল ১০টার দিকে সাজেকে থাকা পর্যটকেরা বাঘাইহাটের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।”

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ঘাগড়া, কাউখালী, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।

কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন