প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ । ৪:১৬ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

গুইমারায় জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে ৯ম দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত: বরেণ্য ভিক্ষুসংঘের পবিত্র ধর্মদেশনা

অনলাইন ডেস্ক

​ছন্দ সেন চাকমা, নিজস্ব প্রতিবেদক :

গুইমারা (খাগড়াছড়ি): অত্যন্ত আনন্দঘন ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ির গুইমারায় উদযাপিত হয়েছে ‘৯ম দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দান-২০২৬’।

​শুক্রবার (৬ নভেম্বর ২০২৬ খ্রি., ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৫৭০ বুদ্ধাব্দ) কালপানি পিলেভাঙ্গার বৈশালী বন বিহারে দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই পুণ্য অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

​শুক্রবার সকালে বৈশালী বন বিহার প্রাঙ্গণে সমাগত পুণ্যার্থী ও উপাসক-উপাসিকাদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। সকালের পর্বের প্রধান আকর্ষণগুলোর মধ্যে ছিল— ​বুদ্ধমূর্তি দান, ​সর্বজনীন মহাসংঘ দান, ​বুদ্ধ পূজাসহ নানাবিধ দান, ​পরম পবিত্র কঠিন চীবর দান, ​কল্পতরু দান, ​অষ্টোপকরণ দান, ​হাজার প্রদীপ ও ফানুস প্রজ্বালনসহ নানা পুণ্যময় অনুষ্ঠান সম্পাদন করা হয়।

​বিহার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই উৎসবে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িসহ বিভিন্ন দূরদূরান্ত থেকে শত শত পুণ্যার্থী ও উপাসক-উপাসিকা অংশগ্রহণ করেন। বিহারের অধ্যক্ষ ও উপস্থিত মহান ভিক্ষুসংঘের সান্নিধ্যে পুণ্যার্থীরা চীবর ও নানা দানসামগ্রী উৎসর্গ করেন।

​বরেণ্য ভিক্ষুসংঘের ধর্মদেশনা ও আশীর্বাণী : ​সংঘদান ও কঠিন চীবর দানের এই মহোৎসবে পুণ্যার্থীদের উদ্দেশে পবিত্র ধর্মীয় দেশনা প্রদান করেন বরেণ্য ভিক্ষুসংঘ। অনুষ্ঠানে প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অমূল্য সদ্ধর্ম দেশনা প্রদান করেন— ​রাজ বন বিহার থেকে আগত শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ যুক্তিবাদ মহাস্থবির, ​রামগড় ধর্ম চক্র অরণ্য কুঠিরের অধ্যক্ষ শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ মহামিত্র মহাস্থবির, ​পানছড়ি শীলাচার বন বিহারের অধ্যক্ষ জ্ঞান জ্যোতি মহাস্থবির, ​লক্ষীছড়ি কুশিনগর বন বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ শীলা নন্দ স্থবির, ​বৈশালী বন বিহারের অধ্যক্ষ শ্রদ্ধেয় পূর্ণ ভান্তে।

​ধর্মদেশনায় পুণ্যার্থীদের উদ্দেশে বরেণ্য ভিক্ষুসংঘ বলেন, “কঠিন চীবর দান হলো সর্বশ্রেষ্ঠ দান। এই দানের মাধ্যমে মানব মনে লোভ, দ্বেষ ও মোহ দূর হয় এবং অন্তরে অহিংসা, মৈত্রী ও শান্তির আলো বিকশিত হয়। পূণ্য ও কুশল কর্মের মাধ্যমে মানুষ ইহকাল ও পরকালে শান্তি লাভ করতে পারে।” তাঁরা অহিংসার বাণী প্রচারের পাশাপাশি জীবজগতে মৈত্রী ছড়িয়ে দেওয়ার এবং পঞ্চশীল বা অষ্টশীল মেনে চলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

​দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং ধর্মদেশনা শ্রবণ শেষে বিশ্বশান্তি, মানবজাতির কল্যাণ ও মঙ্গল কামনায় হাজার প্রদীপ প্রজ্বালন এবং আকাশে ফানুস ওড়ানোর মধ্য দিয়ে ৯ম দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দান-২০২৬ এর সফল সমাপ্তি ঘটে।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ঘাগড়া, কাউখালী, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।

কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন