| ৬ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

উন্নয়নের ছোঁয়ার বাইরে যমুনাছড়ির বম জনগোষ্ঠী, জুম চাষে নির্ভরশীল ; যোগাযোগে প্রয়োজন কমপক্ষে ২ কিলোমিটার সড়ক পথ

উন্নয়নের ছোঁয়ার বাইরে যমুনাছড়ির বম জনগোষ্ঠী, জুম চাষে নির্ভরশীল ; যোগাযোগে প্রয়োজন কমপক্ষে ২ কিলোমিটার সড়ক পথ

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ

রাঙ্গামাটি বিলাইছড়ির ফারুয়া ইউনিয়নে যমুনাছড়ি পাড়ার শতাধিক খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বী বম জনগোষ্ঠীর এখনো উন্নয়নের ছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে দাবী করছেন। জুম চাষেই তাদের একমাত্র ভরসা। যোগাযোগ সুবিধার জন্য প্রয়োজন কমপক্ষে ২ কিলোমিটার সড়ক পথ। প্রয়োজন প্রশাসনের সুদৃষ্টি।

সরেজমিনে দেখতে এবং তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বম পাড়াটি চারদিকে পাহাড়।পাড়ার পাশদিয়ে রাইংখ্যং নদী বয়ে গেছে। এবং পাহাড়ের নীচে একটি সমতল জায়গায় প্রায় ১০২ পরিবার ১৯৮০ সনে সাইচল এলাকা হতে এই যমুনা ছড়িতে বসতি স্থাপন করে। এছাড়াও  রয়েছে ৪ টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, একটি জিপিএস এবং একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র ১ টি। সেখানে রেভাঃ  রবার্ট বম জানান, এখনো আমরা উন্নয়নে ছোঁয়ার বাইরে রয়েছি। জুম চাষে একমাত্র ভরসা। জুমে ধান আর সে-ই ধানের সঙ্গে আদা, হলুদ, কলা, মারফা ও অন্যান্য সবজি ফলন যা হয় তা বিক্রয় করে কোনো উপায়ে চলি। এখন জুমেও আগের মতো ফলন হয় না। তাছাড়া ফরেস্ট এলাকা জুম চাষ করতে গেলেও অনুমোদন লাগে। অনেক দুরে গিয়ে জুম চাষ করতে হচ্ছে। প্রায় ১ দিনের পথ।প্রতি জায়গায় একটা জায়গায় জুম করলে ফলন ভালো আসে না। তিনি আরো জানান, যোগাযোগের জন্য একমাত্র পথ হলো কাঁচা রাস্তায় পায়ে হেঁটে যাওয়া এবং আঁকাবাঁকা পথে চলা। বর্ষা মৌসুমে ইউনিয়ন সদর ফারুয়া বাজার হতে ৩ মাস পর্যন্ত বোটে যেতে পারে।শুকনো মৌসুমে হেঁটে আসা-যাওয় করতে হয়। এজন্য বাজারে মারফা, চিনাল, তিল, কুমড়া, কলা, আদা হলুদ, মরিচসহ ইত্যাদি ফলমূল ও অন্যান্য সবজি বিক্রয় করতে হলে প্রায় তেরো – চৌদ্দ  কিলোমিটার কাঁধে করে নিয়ে বিক্রয়ের জন্য বাজারে  আসতে হয়। যা আসা – যাওয়ার জন্য প্রায় ১ দিন সময় লাগে।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক যমুনা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, ১৯৯৮ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপিত করা হলে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিলাইছড়ি সেনা জোনের সহায়তায় চলে বিদ্যালয়টি । ২০০৮ হতে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা “টংগ্যা” পরিচালনা করে। এরপর থেকে অভিভাবক ও পাড়াবাসী পরিচালনা করে আসছে। বেতন দিতে পারেনা যা আমরা মানবেতর জীবন- যাপন করছি। ৬০ হাজার টাকা বকেয়া বেতন এখনো পায়নি। শিক্ষার্থীদের যদি না পড়ায় তাহলে ঝড়ে যাবে আর পড়ালেও নিজের কাজ বাদ দিয়ে পড়াতে হয় । ৪ জন তালিকায় থাকলেও ২ জনেই পড়াচ্ছি। সেই বেতনও পাচ্ছি না। জাতীয়করণের জন্য কাগজ পত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এ আশায় রয়েছি।

হেডম্যান পালম বম জানান, এই এলাকায় সরকারিভাবে তেমন উন্নয়ন বলতে নেই, তিনি আরো দুংখ করে বলেন, বিভিন্ন পাড়া সীমান্ত সড়কের সঙ্গে সংযোগ করা হয়েছে। করা হয়নি আমাদের বম পাড়া। উন্নয়নে সবার সহযোগিতা দরকার। গ্রামটি তারাছড়ি টু তাংকইতাং যাওয়ার পথে যে রাস্তা উন্নয়ন করা হয়েছে। সেই মাঝখান রাস্তা হতে মাত্র এক-দেড় কিলোমিটার রাস্তা বা সড়ক পথ নির্মাণ করলে যমুনাছড়ির সঙ্গে সংযোগ করা যেতো। নতুবা শুক্করছড়ি হতে এক-দেড় কিলোমিটার রাস্তা/ সড়ক নির্মাণ করলে যোগাযোগে সুবিধা পেতো আমাদের পাড়ার জনগণ । তিনি আরো জানান, বিগত ১৭ বছর পর্যন্ত এই এলাকায় কোনো উন্নয়নে ছোঁয়া লাগেনি। তাই উন্নয়নে সবার সদিচ্ছার প্রয়োজন। কোনো এলাকাকে বাদ দেওয়া সেটা মানে হয় না। গত বছর ও এর আগে বছরে প্রবল বন্যায় ধসে গেছে ঘাটের সিঁড়িটি যা পুনঃ নির্মাণ ও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এমনিতে ধ্বসে পড়ে রয়েছে। কম্পেশন / আগাপে শিক্ষার্থীদের মাঝে আগের মতো অনুদান দেয় না। তিনি আরো জানান, সদর ও শহরে গেলে যেভাবে রঙিন জগতে ঘুরছি মনে হয়, কিন্তু নিজের জায়গায় আসলে মনে হয় আমরা পৃথিবীর বাইরে অন্য ভিন্ন জগতে আছি। নেই যোগাযোগ, নেই নেটওয়ার্ক, নেই বিদ্যুৎ, নেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নেই ঠিকমতো স্বাস্থ্য সেবা।

এছাড়াও তিনি জানান, সুপেয় পানি ব্যবস্থার জন্য কোনো ডিপটিউয়েল নেই, নেই কোনো রিংওয়েলও। এডিবি থেকে অনেক আগে প্রায় কয়েক লক্ষ টাকার ব্যয়ে একটি জিপিএস দেওয়া হলেও বর্তমানে তা নষ্টের পথে। পানির উৎস বা ঝর্ণা রক্ষা করার জন্য ৬০০ একর মতো পাহাড় এলাকা জুম চাষ করে না। ছড়ার উৎস হতে যে পানি আনা হয় তা ফিন্টার নষ্ট হয়ে এখন দুর্গন্ধযুক্ত পানি পান ও ব্যবহার করতে হয়। প্রায় অকেজো হচ্ছে। রাইংখ্যং খালের পানিও সবসময়ই গোলা থাকে। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি ব্যবহার করলেও শীতকালে সম্ভব হয় না। এটা ঠিক করতে হলে সরকার ছাড়া আমাদের কোনো সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে ওয়ার্ড মেম্বার মালসম জানান,তাদের দ্রুত স্কুল নির্মাণ ও স্কুলে জন্য শিক্ষার্থীদের বসার সিট চেয়ার, টেবিল, সুপের পানির জন্য ডিপ টিউ ওয়েল ও মূল সড়কের সঙ্গে ১টি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করার জন্য তিনি  সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ, উন্নয়ন বোর্ড এবং পার্বত্য উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমার সুদৃষ্টি কামনা করেন।

ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা জানান, তারাছড়ি হতে তাংকইতাং যাওয়ার রাস্তা মাঝখানে যমুনাছড়ি বম পাড়ার সংযোগে কাঁচা পাহাড়ী ঢালু রয়েছে যার দৈর্ঘ্য ২-২.৫ কিলোমিটার হবে। এই রাস্তাটি খাড়া পাহাড়ী ঢালু রাস্তা হওয়াতে রাস্তাটি এইচবিবি, আরসিসি / পাকা পিছ ঢালাই (স্থায়ী কাজ) করা গেলে এবং যমুনাছড়ি ছড়ার উপরে ৪০/৫০ মিটারের দৈর্ঘ্য পাকা সেতু নির্মাণ করা গেলে যমুনাছড়ি বম পাড়ায় সরাসরি গাড়ি যেতে পারবে এবং এতে গ্রামবাসীরা যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনে সুবিধা হবে। তবে এর সাথে তারাছড়ি হতে তাংকইতাং পাড়ায় যাওয়ার রাস্তাটিও পাকা / আরসিসি অথবা এইচবিবি করা গেলে সেক্ষেত্রে সারা বছর গাড়ি চলাচল করতে পারবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মামুনুল হক জানান, উন্নয়নের জন্য আমি এখানে রয়েছি,উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে। এলাকার জনপ্রতিনিধি’র সঙ্গে কথা বলবো। প্রয়োজনে যাবো দেখবো। তাদের  সুবিধা-অসুবিধার কথা জেনে তারপরে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নসহ  শিক্ষা ও সুপেয় পানি এবং  অন্যান্য  প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

এইসব বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অ:দা:) মিলন চাকমার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, কি উন্নয়ন প্রয়োজন অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি দরখাস্ত জমা দেওয়ার কথা বলেন।

থানচিতে ত্রিপুরা সম্প্রদায় থেকে নতুন যাজক হলেন ফ্রান্সিস সাধুমনি

উন্নয়নের ছোঁয়ার বাইরে যমুনাছড়ির বম জনগোষ্ঠী, জুম চাষে নির্ভরশীল ; যোগাযোগে প্রয়োজন কমপক্ষে ২ কিলোমিটার সড়ক পথ

 

চিংথোয়াই অং মার্মা, থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের থানচিতে ত্রিপুরা সম্প্রদায় থেকে নতুন যাজক হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছেন ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে থানচি উপজেলার বলিপাড়া কুমারী মারীয়ার ধর্মপল্লীতে ডিকন ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরার যাজকীয় অভিষেক ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চট্টগ্রাম ধর্মপ্রদেশের বিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদার তাঁকে যাজক হিসেবে অভিষিক্ত করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁরা জানান, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এ অভিষেক অনুষ্ঠানকে ঘিরে স্থানীয় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সঞ্চার হয়। বিশেষ করে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের একজন সদস্য হিসেবে ফ্রান্সিস সাধুমনির যাজক লাভকে সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, যাজকীয় অভিষেক খ্রিষ্টীয় ধর্মীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। এর মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মীয় সেবাকাজের গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেন। ধর্মীয় শিক্ষা প্রচার, উপাসনা পরিচালনা, মানুষের আধ্যাত্মিক বিকাশ এবং মানবকল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার অঙ্গীকার এবং বর্তমানে থানচি থেকে আরও দুজন যাজক হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। তাঁদের এই অগ্রযাত্রা দুর্গম পার্বত্য জনপদে স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় নেতৃত্ব বিকাশের সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, ফ্রান্সিস সাধুমনির এই অভিষেক তাঁর দীর্ঘদিনের ধর্মীয় সাধনা, অধ্যবসায় ও আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি। যাজক হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি ধর্মীয় সেবার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণ, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর যাজকের পথচলার সফলতা কামনা করে প্রার্থনাও করা হয়েছে।

স্থানীয় সংশ্লিষ্টদের নতুন যাজক তাঁকে ঘিরে একটাই প্রত্যাশা— খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের কাছে ফ্রান্সিস সাধুমনির যাজকত্ব লাভ কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং আনন্দ ও গর্বের উপলক্ষ। তাঁর নতুন দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধ, মানবিকতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতির চর্চা আরও বিস্তৃত হবে। ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরার যাজকীয় অভিষেক তাই থানচির ধর্মীয় ও সামাজিক পরিমণ্ডলে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অন্যদিকে খ্রিষ্টভক্ত রাইবাহাদুর ত্রিপুরা, বেনেডিক্ট ত্রিপুরা ও মালিরাম ত্রিপুরাসহ অনেকেই বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক জনপদে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্য রয়েছে। এ অঞ্চলের ত্রিপুরা সম্প্রদায় থেকেও একজনের যাজকীয় দায়িত্বে অভিষিক্ত হওয়া ধর্মীয় নেতৃত্বের বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এটি নতুন প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষা ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডে আগ্রহ সৃষ্টিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠান শেষে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকারে চট্টগ্রাম মহাধর্মপ্রদেশের আর্চবিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদার, সিএসসি বলেন, যাজকীয় অভিষেক ঈশ্বরের সেবায় আত্মনিবেদনের এক মহৎ অঙ্গীকার। থানচির মতো দুর্গম জনপদ থেকে স্থানীয় যুবকের যাজক হিসেবে অভিষিক্ত হওয়া পুরো অঞ্চলের জন্য গৌরব ও আশীর্বাদের বিষয়। মাতৃভাষা ভিত্তিক ধর্মীয় চর্চার প্রসার ঘটলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক চেতনা আরও সুদৃঢ় হবে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন ধর্মপল্লী থেকে আগত যাজক ও সিস্টার, কারিতাসের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর শত শত নারী-পুরুষ ও খ্রিষ্টভক্ত উপস্থিত ছিলেন।

কাপ্তাইয়ের রায় সাহেব বৌদ্ধ বিহারে উদযাপিত হলো কঠিন চীবর দান ও সংঘদান উৎসব অনুষ্ঠিত

উন্নয়নের ছোঁয়ার বাইরে যমুনাছড়ির বম জনগোষ্ঠী, জুম চাষে নির্ভরশীল ; যোগাযোগে প্রয়োজন কমপক্ষে ২ কিলোমিটার সড়ক পথ

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

​রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী রায় সাহেব বৌদ্ধ বিহারে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দান উৎসব সম্পন্ন হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সর্বশ্রেষ্ঠ এই দানোৎসবকে কেন্দ্র করে দূরদূরান্ত থেকে আসা শত শত পুণ্যার্থীর সমাগমে পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ​

শুক্রবার (০৬ নভেম্বর ) দিনব্যাপী এই ধর্মীয় উৎসবের আয়োজন করে রায় সাহেব বৌদ্ধ বিহারের সকল দায়ক-দায়িকাবৃন্দ।​উৎসবের প্রথম পর্বে সকাল থেকেই নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সকালের কর্মসূচির মধ্যে ছিল—​বিশ্বশান্তি কামনা ও বুদ্ধ বন্দনা​, জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, ​পুজনীয় ভিক্ষু সংঘের আগমন, ​প্রব্রজ্যা-উপসম্পদা গ্রহণ ও ভিক্ষু সংঘের পিণ্ডদান।সকালে অনুষ্ঠানের শুরুতে ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন, রায় সাহেব বৌদ্ধ বিহারের উপাসক মংমেচিং পুরাতন কার্বারি। এরপর ভগবান বুদ্ধের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য প্রদান এবং ভিক্ষু সংঘকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন পুণ্যার্থীরা।​

বেলা ৩টায় দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দান, মহতি ধর্মসভা এবং ভিক্ষু সংঘের আসন গ্রহণের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় পর্বের কার্যক্রম শুরু হয়। রায় সাহেব বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ পাইন্দিতা ভান্তের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ডংনালা শাক্যনন্দ বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত সুরিয়া মহাথেরো। প্রধান দায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য উথোয়াইমং মারমা।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রায় সাহেব বৌদ্ধ বিহারের কমিটি  সাধারণ সম্পাদক থোয়াইসাপ্রু চৌধুরী (রুবেল)। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে রাইখালী ৩২১ নম্বর মৌজার হেডম্যান উসুয়ে সুয়ে চৌধুরীসহ তিন পার্বত্য জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত শত শত গণ্যমান্য দায়ক-দায়িকাবৃন্দ ও পুণ্যার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। দ্বিতীয় পর্বে পঞ্চশীল গ্রহণ, ভিক্ষুসংঘের মৈত্রী সূত্রপাত, ভিক্ষুসংঘের ধর্মদেশনা এবং কঠিন চীবর দান উৎসর্গ করা হয়।

দিনভর নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী কঠিন চীবর কল্পতরু সহকারে প্রদক্ষিণ করা হয়। এ সময় পুণ্যার্থীদের ‘সাধু সাধু সাধু’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো বিহার প্রাঙ্গণ। ​এবারের উৎসবে তিন পার্বত্য জেলার সর্বোচ্চ বর্ষাবাস বা ওয়া অধিষ্ঠানকারী সর্বজনপূজ্য স্বর্গীয় উপঞা কাওয়ি মহাথেরোর স্মরণে বিশেষ সংঘদান ও প্রব্রজ্যা-উপসম্পদা গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

দিনব্যাপী এই পূণ্যানুষ্ঠানের সার্বিক কর্মসূচিতে উপসম্পদা, পিণ্ডদান, হাজার বাতি দান, আকাশ প্রদীপ পূজা এবং নানাবিধ দান উৎসর্গ সম্পন্ন করা হয়। পরিশেষে প্রদীপ পূজা, আকাশ বাতি উত্তোলন ও সমবেত প্রার্থনার মাধ্যমে বিশ্বশান্তি কামনায় এই মহতি উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

বিলাইছড়ি উপজেলা কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারে কঠিন চীবর দান সম্পন্ন

উন্নয়নের ছোঁয়ার বাইরে যমুনাছড়ির বম জনগোষ্ঠী, জুম চাষে নির্ভরশীল ; যোগাযোগে প্রয়োজন কমপক্ষে ২ কিলোমিটার সড়ক পথ

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার দীঘলছড়িস্থ উপজেলা কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে কঠিন চীবর দান সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকে বিহার পরিচালনা কমিটি ও দায়ক-দায়িকাদের আয়োজনে দিনব্যাপী এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে পিণ্ডদান, পুষ্পমাল্য অর্পণ, অতিথি আপ্যায়ন, বুদ্ধমূর্তি দান, অষ্টপরিষ্কার দান, উদ্বোধনী পর্ব, ধর্মীয় সংগীত পরিবেশন, কঠিন চীবর দান, ধর্মসভা, ফানুস উত্তোলন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন ছিল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নারী সদস্য নন্দিতা দাশ। তিনি উপস্থিত সবার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তাঁকে বিহার পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রদান করা চীবর ভিক্ষুসংঘের উদ্দেশ্যে দান করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারের জন্য বরাদ্দকৃত অনুদান ভিক্ষুসংঘের কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় তিনি বিহারে ওয়াশ ব্লক নির্মাণ প্রতিশ্রুতি ও বিহারের চারপাশে সীমানাপ্রাচীর এবং দেশনাঘর নির্মাণের দাবি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

 

দিনব্যাপী ধর্মসভায় প্রধান ধর্মালোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটির রাঙ্গুনিয়া সোনাইছড়ি সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত উত্তমানন্দ মহাথের (এম.এ.)। বিশেষ ধর্মালোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাজার সার্বজ

নীন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ দেবতিষ্য ভিক্ষু। এ সময় ভিক্ষুসংঘের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বিলাইছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি আর্যলঙ্কার মহাথের, সাধারণ সম্পাদক বিপুল জ্যোতি মহাথের, উ. তেজবর্ণ ভিক্ষু, শাক্যজ্যোতি ভিক্ষুসহ অন্যান্য ভিক্ষুসংঘ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি দেওয়ান, রাঙামাটি জেলা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়তোষ দেওয়ান, রাঙামাটি ২৯৯ নম্বর আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি ধনমনি চাকমা, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক জয়সিন্ধু চাকমা, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শান্তি রায় চাকমা, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা, বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি অরুণ বিকাশ  চাকমা ও সাধারণ সম্পাদক অমৃতসেন তঞ্চঙ্গ্যা।

দিনব্যাপী এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শত শত পূণ্যার্থী, দায়ক-দায়িকা ও স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

×