| ৬ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সংখ্যালঘু জাতিগত গোষ্ঠীর মানবাধিকার বিষয়ক বিষয়ে সচেতনতা কতটুকু অগ্রগতি

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সংখ্যালঘু জাতিগত গোষ্ঠীর মানবাধিকার বিষয়ক বিষয়ে সচেতনতা কতটুকু অগ্রগতি

 

চাইথোয়াইমং মারমা,
বিশেষ প্রতিনিধি :

একটি মুক্ত ও গণতান্ত্রিক অবস্থায় সংখ্যালঘুদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ভাষা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা হচ্ছে রাষ্ট্রের সকল স্তরে জনগণের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। বৈষম্য দূর করতে এবং একজনের নিজস্ব লক্ষ্য এবং স্বপ্নকে একজন মানুষের মতো, সামাজিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রের মাত্রায় বহু-প্রজেক্টের পদক্ষেপের প্রয়োজন।

১। মানবাধিকারের সুরক্ষার বিষয়ে সচেতনতা এবং বৈষম্যের অবসান ও সচেতনতা দূর করা: জাতিগত সংখ্যালঘুদের মানুষের পক্ষে তাদের নিজস্ব অধিকার ও আইনি অধিকার সম্পর্কে স্পষ্ট জ্ঞান থাকতে গুরুত্বপূর্ণ। মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতা প্রচারণা পরিচালনা করা। সামাজিক সমেত পদ্ধতি: ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত পরিচয়ের উপর ভিত্তি করে বৈষম্য দূর করতে সমাজে আন্তঃ-সাংস্কৃতিক সংলাপ সংগঠিত করা।

২। মাতৃভাষায় নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য শিক্ষা সংরক্ষণ: সংখ্যালঘু জাতিগত গোষ্ঠী শিশুদের প্রাথমিক পর্যায়ে তাদের নিজস্ব মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগগুলি নিশ্চিত ও বিস্তার করা। সাংস্কৃতিক ডকুমেন্টেশন এবং ডেভেলপমেন্ট: ডিজিটাল মিডিয়া মাধ্যমে ঐতিহ্যগত উৎসব, সামাজিক কাস্টমস, সাহিত্য এবং সাংস্কৃতিক উপাদান সংরক্ষণ ও উপস্থাপনা।

৩। টেকসই জীবিকা এবং কৃষি পণ্যগুলির ন্যায্য বিপণন স্থানীয় উৎপাদন ও সংরক্ষণের ফল: আধুনিক ও টেকসই প্রযুক্তির সাথে পাহাড় বা স্থানীয় ঐতিহ্যগত কৃষি প্রথাগুলির বর্ধিতকরণ। মেলা মূল্যায়ন ও বিপণন: মিডলম্যানের উপর নির্ভর করে রিলেশন হ্রাসের মাধ্যমে স্থানীয় প্রযোজক সহ সমবায় সমিতি বা সরাসরি ডিজিটাল বাজার স্থাপন করা। বিকল্প আয় সুযোগ: ছোট কুটির শিল্প, ঐতিহ্যগত পোশাক তৈরি এবং হস্তশিল্পের মাধ্যমে স্ব-কর্মসংস্থান এবং আয় প্রবাহ প্রসারিত করে।

৪। আধুনিক শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন উচ্চ শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ: ঐতিহ্যগত শিক্ষা ছাড়াও, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে নিজেদের যোগ্যতা অর্জনের জন্য আইসিটি, কারিগরি শিক্ষা ও হস্তশিল্পে দক্ষতা অর্জনের জন্য। সহযোগী বৃত্তি এবং কোটা সিস্টেম: শিক্ষা অ্যাক্সেস নিশ্চিত করার জন্য সরকার ও বেসরকারি পর্যায়ে শিক্ষাগত সহায়তা এবং বৃত্তি সুযোগের যথাযথ ব্যবহার করা। অগ্রগতি নির্দেশক জীবন লক্ষ্য এবং স্বপ্নের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা পরিকল্পনা এবং অগ্রগতি শিক্ষা ও দক্ষতা মাতৃভাষা এবং দক্ষতা অর্জনের দক্ষতা এবং দক্ষতা অর্জন এবং দক্ষতা ভিত্তিক কর্মসংস্থান অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সম্পর্কিত মৌলিক শিক্ষা অর্জনের ফলে স্থানীয় পণ্যগুলি স্থানীয় পণ্যগুলি সমবায় এবং উদ্যোক্তা সাংস্কৃতিকতার উপর ভিত্তি করে স্ব-নির্ভরতা নিশ্চিত করে ঐতিহ্য ও উৎসবের স্থায়িত্ব সুরক্ষা আন্তর্জাতিক আধ্যাত্মিক সংস্কৃতির ভূমিকা মানবাধিকার ও সামাজিক বৈষম্যের প্রতিরোধের সুরক্ষা প্রতিরোধের সম্পূর্ণ নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্র নীতি কর্মের প্রতিনিধিত্ব একটি পৃথক বিল্ডিং গভর্নেন্স এবং স্থানীয় প্রতিনিধিদল হিসাবে গ্রহণ করা হবে: স্থানীয় সমস্যা সমাধানের জন্য স্থানীয় সামাজিক নেতৃত্বকে শক্তিশালী করা এবং উন্নয়ন। নেটওয়ার্কিং এবং মিডিয়া আউটরিচ: গণমাধ্যম, সামাজিক মিডিয়া এবং সচেতনতা উদ্যোগের মাধ্যমে একজনের সংস্কৃতি, সম্ভাব্য এবং সমস্যাগুলি তুলে ধরে।

Intergenerational জ্ঞান স্থানান্তর: ফোকাস জ্ঞান, ঐতিহ্যগত ঔষধি শিক্ষা এবং প্রাচীনদের থেকে পরবর্তী প্রজন্মের কৃষি অনুশীলনগুলি অতিক্রম করে। উল্লেখ্য পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক দূর্গম পাহাড় পর্বত উঁচু নিচু স্থানের যোগাযোগ বিছিন্ন ছড়িয়ে ছিটিয়ে ১১ টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী বসবাসরত কেউ বেঁচে থাকা মৌলিক অধিকার মানবাধিকার উপর ভ্রান্ত ধারণা সচেতনামূলক নাই বললে চলে।

সোসাইটি কর্তৃক দরিদ্র ও উপেক্ষিত। রাষ্ট্রের সংবিধানের আইন বিভাগ, রাষ্ট্রের সংবিধানের আইন বিভাগ, বিচার বিভাগীয় বিভাগ ও প্রশাসনের অধিদপ্তর নিরীহ শিশু ও মহিলাদের ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যার কারণে স্বাধীনভাবে যথাযথ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে চায়।

ঐতিহ্যবাহী গড়াইয়া নাচে বরণ, ডিকন ফ্রান্সিস সাধুমণি ত্রিপুরার যাজক অভিষেকের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সংখ্যালঘু জাতিগত গোষ্ঠীর মানবাধিকার বিষয়ক বিষয়ে সচেতনতা কতটুকু অগ্রগতি

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

পার্বত্য অঞ্চলের ত্রিপুরা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও স্বপ্নপূরণের মাহেন্দ্রক্ষণ ঘনিয়ে এসেছে। ডিকন ফ্রান্সিস সাধুমণি ত্রিপুরার যাজক অভিষেক উপলক্ষে শুরু হয়েছে নানা ধর্মীয় ও আনুষ্ঠানিক আয়োজন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী গড়াইয়া নাচ, ফুলের মালা ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে তাঁকে বরণ করে নেওয়া হয়।

এদিন থানচি উপজেলার শান্তিরাজ ক্যাথলিক ধর্মপল্লী থেকে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাঁকে বলিপাড়া ক্যাথলিক মিশনের নিবেদিতা কুমারী মারিয়া ধর্মপল্লীতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী গড়াইয়া নাচ ও ফুলের মালা দিয়ে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। এ সময় ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহাধর্মপ্রদেশের আর্চবিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদার, সিএসসি, বিভিন্ন ধর্মপ্রদেশের যাজক, সিস্টার ও ব্রাদারগণ, বিভিন্ন এলাকার কর্মরত ধর্ম প্রচারক, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, বিভিন্ন পাড়া থেকে আগত কারবারি, সাধুমণির মা-বাবা, ভাই-বোনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে আগত গণ্যমান্য অতিথি ও ব্যক্তিবর্গকে সুগন্ধি তেল ও পবিত্র পানি দিয়ে পা ধুয়ে-মুছে পবিত্রতা, বিনয় ও সম্মানের প্রতীকী অভ্যর্থনা জানানো হয়। এরপর পবিত্র আরাধনা, ধর্মীয় শোভাযাত্রা এবং ডিকন ফ্রান্সিস সাধুমণি ত্রিপুরার মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ধর্মযাজক, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা একে একে তাঁর কাছে এসে আশীর্বাদ প্রদান করেন। প্রিয়জনদের ভালোবাসা, আবেগ ও আনন্দে পুরো আয়োজনজুড়ে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

পরে আর্চবিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদার, সিএসসি সমাপনী বক্তব্য ও আশীর্বাদ প্রদান করেন। এর মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবারের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

আগামীকাল শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ৯টায় ডিকন ফ্রান্সিস সাধুমণি ত্রিপুরার মূল যাজক অভিষেক অনুষ্ঠান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

এদিকে সাধুমণি ত্রিপুরার বড় ভাই আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ছোটবেলা থেকেই সাধুমণিকে অনেক প্রতিকূলতা ও অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে বড় হতে হয়েছে। তাঁদের বাবা মারা যাওয়ার সময় সাধুমণি ছিলেন অনেক ছোট। নানা কষ্টের মধ্যেও তাঁর এই পর্যায়ে পৌঁছানো পরিবারের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করি, সে জীবনে আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে। সে শুধু নিজের জন্য যাজক হয়নি, পুরো জাতি ও মণ্ডলীর সেবার জন্য ফাদার হতে যাচ্ছে। আমরা সবাই তার জন্য প্রার্থনা করব, যেন সে মানুষের সেবা ও ধর্মীয় দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে পারে।

উল্লেখ্য, ডিকন ফ্রান্সিস সাধুমণি ত্রিপুরার এই যাজক অভিষেককে ঘিরে ত্রিপুরা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে আনন্দ, উৎসাহ ও আবেগের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর এই অভিষেক পার্বত্য অঞ্চলের ত্রিপুরা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অঙ্গনে একটি স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কাপ্তাইয়ে ৬০ বননির্ভর পরিবারের মাঝে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ প্রকল্পের নগদ অর্থ বিতরণ

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সংখ্যালঘু জাতিগত গোষ্ঠীর মানবাধিকার বিষয়ক বিষয়ে সচেতনতা কতটুকু অগ্রগতি

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কাপ্তাইয়ে ব্যাঙছড়ি মুসলিম পাড়া ও মারমা পাড়ার বননির্ভর হতদরিদ্র ও আয়বর্ধনমূলক কার্যক্রমে যুক্ত পাহাড়ি-বাঙালি ৬০ জন নারী সদস্যের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় স্থানীয় ব্যাঙছড়ি মারমা পাড়ায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। ইউএনডিপির সহযোগিতায় এবং গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা (GAC)-এর অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ইইআরডি-সিএইচটি (EERD-CHT) প্রকল্পের সাব-প্রকল্প “জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ প্রকল্প”-এর আওতায় এই নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ​অনুষ্ঠানে বকুল তঞ্চঙ্গ্যার সঞ্চালনায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইউএনডিপি প্রতিনিধি চম্পা চাকমা। এ সময় রাঙামাটি জেলার কর্মকর্তা কামনাশীষ খীসা, পাড়ার কার্বারী সুইহলাচিং মারমা, বিসিজি-এর সহ-সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, কাপ্তাই প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রিপন মারমা এবং স্থানীয় থুইসাই মারমাসহ সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের “কাপ্তাই-রাঙামাটি সদর হাতি করিডোর যৌথ বিসিজি”-এর ব্যাঙছড়ি মারমা পাড়া ও মুসলিম পাড়ার ৬০ জন নারী সদস্য এবং স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অতিথিরা বক্তব্য বলেন, বননির্ভর হতদরিদ্র ও আয়বর্ধনমূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত মোট ৬০টি পরিবারকে এই সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে ৬ হাজার টাকা করে মোট ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা নগদ প্রদান করা হয়। প্রাপ্ত এই অর্থ দিয়ে উপকারভোগী নারীরা শাকসবজি চাষাবাদ এবং হাঁস-মুরগি পালনসহ বিভিন্ন আয়বর্ধনমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন। এই আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে স্থানীয় নারীরা নিজেদের অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে আরও সুদৃঢ় করতে পারবেন বলে জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করেন অতিথিরা।

রুমার দুর্গম পাহাড়ি পাড়ায় যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘবে সেনাবাহিনীর ‘সম্প্রীতি এক্সপ্রেস’

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সংখ্যালঘু জাতিগত গোষ্ঠীর মানবাধিকার বিষয়ক বিষয়ে সচেতনতা কতটুকু অগ্রগতি

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ লাঘব ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়ার সুবিধার্থে ‘সম্প্রীতি এক্সপ্রেস’ নামে একটি চাঁদের গাড়ি (জিপ) প্রদান করেছে সেনাবাহিনীর রুমা জোন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে মুননুয়াম পাড়া আর্মি ক্যাম্পে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় পাড়ার প্রতিনিধিদের হাতে গাড়িটির চাবি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুমা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার, এসবিপি, পিএসসি (অধিনায়ক, ৩৬ বীর)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মুননুয়াম পাড়া, আরথাহ পাড়া, বাসাত্লং পাড়া ও হ্যাপিহিল পাড়াসহ আশপাশের দুর্গম জনপদের বাসিন্দারা যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে রুমা থেকে মুননুয়াম পাড়া সড়কে নিয়মিত যানবাহন চলাচল না করায় স্থানীয়দের কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন এবং অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। অনেক সময় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে এসব প্রয়োজন মেটাতে হতো তাঁদের। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণেও ভোগান্তি বাড়ত।

দুর্গম পাহাড়ি জনপদের মানুষের এসব সমস্যা নিরসন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মুননুয়াম পাড়া পরিদর্শনকালে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। এরই ধারাবাহিকতায় রুমা জোনের উদ্যোগে স্থানীয় জনগণের জন্য ‘সম্প্রীতি এক্সপ্রেস’ নামে গাড়িটি প্রদান করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গাড়িটি মূলত মুননুয়াম পাড়া, আরথাহ পাড়া, হ্যাপিহিল পাড়া ও বাসাত্লং পাড়ার বাসিন্দাদের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি আশপাশের আরও ১০টি পাড়ার মানুষও প্রয়োজন অনুযায়ী এ পরিবহন সুবিধা নিতে পারবেন। এতে মোট ১৪টি পাড়ার বাসিন্দারা উপকৃত হবেন।

বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে অসুস্থ রোগীদের দ্রুত রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ অন্যান্য চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ কমে আসবে। ফলে স্থানীয় মানুষের আয়-রোজগার ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গাড়িটির সুষ্ঠু পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে স্থানীয় পাড়ার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির মাধ্যমে গাড়িটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম তদারকি করা হবে, যাতে ১৪টি পাড়ার মানুষ দীর্ঘমেয়াদে এ সুবিধা ভোগ করতে পারেন।

এদিকে, স্থানীয় পাড়াবাসীরা জানান, সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ তাঁদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে জরুরি রোগী পরিবহন, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ ও দৈনন্দিন যাতায়াতের ক্ষেত্রে তাঁদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে। জনকল্যাণমূলক এ উদ্যোগের জন্য তাঁরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও রুমা জোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

×